
কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব আর মুঠোফোনের একের পর এক বার্তা—সব মিলিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় কখন যে কেটে যায়, তা বুঝতেই পারেন না অনেকে। কাজ, পড়াশোনা কিংবা পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের পছন্দ, বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তির জন্য সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা জরুরি।
নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর পালিত হয় ‘নিজের সময়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দিন’। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো, কাজের অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করা।
যেভাবে শুরু হলো দিবসটি
২০০৩ সালে জন ডি গ্রাফ ও ‘সিমপ্লিসিটি ফোরাম’-এর উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ব্যস্ত জীবনযাপনের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
দিবসটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজের পেছনে ব্যয় করাই সময়ের সঠিক ব্যবহার নয়। নিজের পছন্দের কাজ, বিশ্রাম এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মুঠোফোন থেকে নিন বিরতি
দিনের অবসর সময়টুকুও অনেক সময় মুঠোফোনের পর্দায় চোখ রেখে কেটে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, বার্তার উত্তর দেওয়া কিংবা একের পর এক বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এ সময় বই পড়া, ছবি আঁকা, পছন্দের গান শোনা কিংবা খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটতে পারেন। এতে দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে বিরতি পাওয়ার পাশাপাশি নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করার সুযোগ তৈরি হবে।
কাজের পরিকল্পনায় কমবে চাপ
নিজের সময় বাঁচাতে কাজের সঠিক পরিকল্পনা করা জরুরি। দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে থেকেই ঠিক করে রাখলে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমানো সম্ভব।
বারবার ই-মেইল ও মুঠোফোনের বার্তা পরীক্ষা না করে নির্দিষ্ট সময়ে সেগুলো দেখার অভ্যাস করুন। একই সঙ্গে সব অনুরোধে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘না’ বলতে শিখুন। এতে নিজের কাজের পাশাপাশি বিশ্রামের জন্যও সময় বের করা সহজ হবে।
পরদিনের কাজ, খাবার ও বিশ্রামের পরিকল্পনা আগের দিন করে রাখলেও ব্যস্ততা অনেকটা কমানো যায়। এতে দিনের কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং জরুরি কাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়াও কমবে।
মানসিক প্রশান্তির জন্য রাখুন নিজের সময়
সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থাকলে নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজনের দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটানো প্রয়োজন।
দিনের কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে নিজের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোও ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া, বাড়ির বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটা কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার অভ্যাস মানসিক প্রশান্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিদিনই হোক নিজের জন্য কিছুটা সময়
নিজের সময়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দিনের মূল বার্তা হলো, সময়ের সঠিক ব্যবহার মানেই প্রতিটি মুহূর্ত কাজে ব্যয় করা নয়। কাজের পাশাপাশি নিজের পছন্দ, বিশ্রাম, প্রিয়জন এবং মানসিক প্রশান্তির জন্যও সময় রাখা প্রয়োজন।
জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের কাজের তালিকায় নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা, অপ্রয়োজনীয় মুঠোফোন ব্যবহার কমানো এবং কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়ার মতো ছোট অভ্যাসই জীবনকে আরও গোছানো করে তুলতে পারে।
তাই ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের কথা ভুলে যাবেন না। অন্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের ভালো থাকার জন্যও সময় রাখুন। কারণ নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার শুরুটা হতে পারে আজ থেকেই।
আরটিভি/জেএমএ

