
দেশে গত ৯ মাসে ৯৭৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন। তাদের মধ্যে সংঘবদ্ধধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৮ নারী। গড়ে প্রতিদিন ৩ জনেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর একটি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংগঠনটি জানায়, গত ৯ মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬১ নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানির কারণে ১২ নারী আত্মহত্যা করেছেন। আর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারী ও ৯ পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ সময়কালে দেশে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকারকর্মীরা এ জন্য বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছেন। ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় নির্যাতিতরা অনেক সময় মুখ খুলতে সাহস পায় না। এজন্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন নারী নেত্রীরা।
আরও পড়ুন :
নানীকে অচেতন করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ
কোটালীপাড়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে দিনদুপুরে ধর্ষণ
মা-মেয়েকে দলবেঁধে ধর্ষণ: দুই যুবকের স্বীকারোক্তি
অন্তরঙ্গ ছবি দেখাবে বলাই কাল হলো বাবলীর
দুধের সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ
ভিডিও ধারণ করে দিনের পর দিন ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর সন্তান প্রসব
সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ নিপীড়নের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে ঝিনাইদহে নিজ বাসায় নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও গত ৫ দিনে নেত্রকোনা, ভোলা, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, সাভার, খাগড়াছড়ি, গোপালগঞ্জে, কুমিল্লা, জামালপুর ও চাঁদপুরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, গত ৯ মাসে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৩২ নারী। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ২৭৯ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৭৪ নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ১৬৮ নারী।
আসক আরও জানায়, ২০১৭ সালে দেশে ধর্ষণের শিকার হন ৮১৮ জন নারী। ২০১৮তে ৭৩২ জন, ২০১৯ সালে ১,৪১৪ জন আর চলতি বছর প্রথম আট মাসেই ৮৮৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক প্রভাবে নারী নির্যাতন বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা।
অপরদিকে, আইনজীবী ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি সালমা আলী বলেন, নারী নির্যাতন রোধে কঠোর আইন থাকলেও ধীরগতির বিচার প্রক্রিয়া ধর্ষকদের উৎসাহিত করছে। তাই ধর্ষণ রোধে দ্রুত বিচার আইন দরকার।
নারী নির্যাতন রোধে দ্রুত বিচার কার্যকর ও সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন জরুরি। নারী অধিকার কর্মীরা বলেন, নির্যাতিতাকে নয় ঘৃণা করতে হবে ধর্ষককে।
পি




