
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মামলা করেছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
ইলমা চৌধুরী মেঘলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তার বিভাগের শিক্ষকেরা বলছেন, ইলমাকে বিয়ের পরই চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, তাকে মোবাইল ফোন বা ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যম ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না।
ইলমা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ইলমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশ বলছে, নিহত তরুণীটির শরীরে 'প্রচুর' আঘাতের চিহ্ন ছিল। ইলমার সহপাঠীদেরও অভিযোগ, মৃতদেহে আঘাতের দাগ দেখতে পেয়েছেন তারা।
ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরা পারভীন জানান, নিহত ইলমা নৃত্যকলার কত্থক বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। মঞ্চে সাবলীল ইলমা ছিলেন খুবই প্রাণবন্ত। করোনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও, অনলাইনে বিভাগের কার্যক্রমে নিয়মিত ছিলেন ইলমা। কিন্তু এ বছর বিয়ে হওয়ার পর থেকে বিভাগের কাজকর্মে তার উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়, পরীক্ষা দিতে আনার জন্য শিক্ষকদের রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে। অনার্স ফাইনালের ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
প্রফেসর পারভীন বলেন, “মেঘলাকে ফোন ধরতে দেওয়া হতো না, এই খবরটি তারা জানতে পেরেছেন মাস দুই আগে।”
“দুই মাস আগে যখন ওদের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় হয়, তখন দেখা যায় যে চার বছরের মধ্যে কোনো একটি কোর্সের পরীক্ষায় ও (মেঘলা) ’সহ মোট তিনজনের গ্রেড খারাপ আসছে, তাদের ওই পরীক্ষাটি আবার নিতে হবে। বাকি দুইজনকে আমরা খবর দিতে পারলেও ওকে কিছুতেই খবর দিতে পারছিলাম না।”
“বিভাগের সহকারী যিনি একজন পুরুষ, তিনি চারদিন ফোন দিয়ে তাকে পরীক্ষার সময় জানাতে পারেননি। এরপর আমাকে জানানো হলো, কারণ আমি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। তখন আমি বিভাগ থেকে এবং নিজের ফোন থেকে কল করি এবং টেক্সট পাঠাই, ফোন ধরেনি সে," তিনি বলেন।
এরপর বিভাগে ইলমা একমাত্র যার ফোন ধরতেন, সেই ছাত্রীটির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘যেদিন পরীক্ষা দিতে এলো সে, সেদিন জানতে পারলাম তাকে ফোন ধরতে দেওয়া হয় না। বিভাগের বা তার ক্লাসের কোনো ছেলের ফোন, তার বন্ধুদের ফোন---সবই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেল ওর ফেসবুকেও কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।’
অনার্সের ফল প্রকাশের পর প্রথমে আমাদের বলেছিল মাস্টার্স করবে না, পরে তাকে বুঝিয়ে রাজি করানো হয়।
তিনি বলেন, “এমনকি মাস্টার্সে যেদিন ভর্তি হতে আসে, সেদিন পুরোটা সময় তার স্বামী ভিডিও কলে তার সঙ্গে ছিল। মানে বিভাগে ঢোকা, ফর্ম পূরণ করা, হলে ফর্ম জমা দেওয়া, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া---প্রত্যেকটি কাজ তার স্বামী লাইভ দেখেছে। সেদিন বিষয়টি নিয়ে বিভাগে অনেকেই কথা বলাবলি করেছে।”
মনিরা পারভীন বলে, “মেয়েটা নৃত্যকলায় পড়ত দেখেই এতো অত্যাচারের শিকার হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।”
সূত্র: বিবিসি বাংলা।
এসএস/এসকে




