ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মালদ্বীপকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপের সরকারি ও বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) মালদ্বীপের জাতীয় সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় এ আহবান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও দেশ একা উন্নতি করতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আমাদের উষ্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে। বাংলাদেশ সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমি মালদ্বীপের সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুবিধার জন্য আগামী ৫০ বছরে উন্নয়ন যাত্রায় আমাদের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাই।’

বিশ্বের কোনও দেশ বিচ্ছিন্নভাবে উন্নতি করতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী সবাইকে শিখিয়েছে যে তারা পরস্পর নির্ভরশীল এবং একটি উন্নত, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ বিশ্বের স্বার্থে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশীদের সাথে সহযোগিতার নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি, যেমনটি আমাদের জাতির পিতা বলে গেছেন।’

মালদ্বীপের জাতীয় সংসদ ‘পিপলস মজলিস’ এ বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর আগমনে স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ এবং ডেপুটি স্পিকার তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী পরে দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মালদ্বীপের সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মালদ্বীপের পার্লামেন্টের স্পিকার তার বক্তৃতায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশের নেতৃত্বদানে শেখ হাসিনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ইস্যুগুলোতে সম্মত করাতে শেখ হাসিনাকে পাঁচ চুক্তি প্রণেতার অন্যতম হিসেবে বিবিসি রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেন। স্পিকার প্রধানমন্ত্রীকে একটি নৌকার চিত্র শিল্পকর্ম উপহার দেন।

সংসদের ভাষণে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আপনার উন্নয়নের যাত্রা, এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে আপনার সফল উত্তরণ প্রত্যক্ষ করে আমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়েছি এবং আমরা আশাকরি, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ পরিপূরকতাগুলোকে কাজে লাগাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সুন্দর দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র, রাজনীতি ও নীতির এই আবাসস্থলে মজলিসের বিশিষ্ট সদস্যদের মাঝে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি গভীরভাবে সম্মানিত।

সারাজীবন রাজনীতির সাথে যুক্ত এমন এক ব্যক্তি হিসেবে মালদ্বীপের মজলিসে উপস্থিতিতে তিনি সন্তোষ জানিয়ে বলেন, আমি এখানে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সংসদে উপস্থিত হতে পেরে আনন্দিত, যার সাথে আমাদের ঐতিহাসিক যোগসূত্র, বহুবিধ মিল, একই ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং সমৃদ্ধির একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে থাকি।

২০২১ সালটি বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেন দুই দেশের আগামী ৫০ বছরের যাত্রা আরও ফলপ্রসূ হবে এবং জনগণের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনবে।
তিনি বলেন, ‘আমি মালদ্বীপের জনগণ এবং এর অগ্রগামী নেতাদের জন্য সুখ এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি’।

তিনি ভাষণে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যিনি তার সারাটি জীবন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শোষণ, বঞ্চনাহীন সমাজ বিনির্মানে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী গত মার্চে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদান করায় মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির পথ সহজ ছিল না। জাতির পিতা বাংলার মানুষের সুখের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ২৪ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৩ বছর জেলে কাটিয়েছেন। জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশে ফিরে আসার পর তাঁর জনগণের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও পুননির্মাণ শুরু করে সাত্র সাড়ে তিন বছরে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত সদ্যজাত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জাতির পিতাকে ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমি এবং আমার ছোট বোন (শেখ রেহানা) সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই এবং পরবর্তীতে ছয় বছর প্রবাস জীবনে থাকতে বাধ্য হই, বাংলাদেশে ফিরে এসেও কারাবাস, একাধিক গুপ্তহত্যার চেষ্টা এবং অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, যাইহোক, এটা আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি যে আজ বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির পথের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমি ভাগ করে নিতে পেরে আনন্দিত যে- বাংলাদেশ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগের কয়েক বছরে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি ছিল, মহামারীর ঠিক আগে, আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ।’

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ এবং শিশুর স্বাস্থ্য, আয়ুষ্কাল, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, স্যানিটেশন, পানীয় জল, প্রাথমিক শিক্ষা এবং সাক্ষরতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন যাত্রার ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবার পর এখন লক্ষ্য হচ্ছে- ২০৩১ সালের মধ্যে এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে পরিণত করা এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ এবং স্থিতিস্থাপক ডেল্টায় পরিণত করা।

তিনি বলেন, আপনারা হয়তো অবগত আছেন যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখে বাংলাদেশের এলডিসি বিভাগ থেকে উন্নয়মশীল দেশে উন্নীত হওয়ার প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এবং বিশ্বের ৩৪টি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

উন্নয়ন তার নিজস্ব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি হিসাবে আমরা যে সুবিধাগুলি উপভোগ করতাম তা প্রত্যাহারের পরে আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হব তা মোকাবেলা করার জন্য, আমাদের ফোকাস হবে অর্থনীতির বৈচিত্রকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের দিকে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে একটি প্রযুক্তিচালিত সমাজ এবং উদ্ভাবন-নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ সূত্র: বাসস

এনএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যে সুখবর দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন বছর
অতিথের সব অপ্রাপ্তি ভুলে গিয়ে ২০২২ সালে সম্ভাবনার সব দ্বার উন্মোচিত হোক। এই প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বছরেই স্বপ্নের পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জনদুর্ভোগ নিরসনে এই তিন প্রকল্প খুলে দিতে চায় সরকার। ২৯ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০২২ সালের জুনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হবে। আর তরুণ প্রজন্মের ড্রিম প্রজেক্ট মেট্রোরেল ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন করা হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে। এ কাজে তিন মাসের মতো সময় লাগতে পারে। সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) সেতু বিভাগকে জানিয়েছে, তারা আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই সব কাজ শেষ করবে। সব মিলিয়ে আগামী মে মাসেই পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব। তবে সেতু বিভাগ জানিয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর। ২০০১ সালে মাওয়া পুরান ফেরিঘাটে মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করেন সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকার বদল হলে, থেমে যায় কাজ। আবার ২০০৯ সালে তোড়জোড় শুরু হয় কাজের। অনেক চড়াই উতরাই পার করে অবশেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়। অন্যদিকে মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুচ্চালিত রেল। বাংলাদেশে এই প্রথম বিদ্যুচ্চালিত কোনো রেল চালু হতে যাচ্ছে। মেট্রোরেল পল্লবী, রোকেয়া সরণি, শাহবাগ, টিএসসি হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এর মাঝে ঢাকার ব্যস্ত ফার্মগেট সহ মেট্রোরেল থামবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশনে। মেট্রোরেলে ২৪টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী আনা নেওয়া করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। মেট্রোরেলের পুরো প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা দিচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল। এই দুটি প্রকল্প উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঢাকার প্রবল যানজট সমস্যার অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এফএ
যে সুখবর দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন বছর
রাত পোহালেই বাণিজ্যমেলা শুরু
বিদায় নিচ্ছে পুরনো বছর ২০২১, সামনে আসছে নতুন বছর ২০২২। নতুন বছরের শুরুর দিন পূর্বাচলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী চলবে বাণিজ্যমেলা। শনিবার (১ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এবারই প্রথমবার স্থায়ী কমপ্লেক্সে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে মেলার এক্সিবিশন সেন্টারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাণিজ্যমেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল ও ১৫টি ফুড স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের ১৪ হাজার ৩৬৬ বর্গমিটার (প্রায় ১,৫৫,০০০ বর্গফুট) আয়তনের দুটি হলে সব স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেলা কমপ্লেক্সের বাইরে (সম্মুখ ও পেছনে) প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও ফুড স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। পণ্যের বাজার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন ও মেলায় অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাণিজ্যমেলার নবনির্মিত এই স্থায়ী ভেন্যুতে এবারের মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। মেলার প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০ টাকা, শিশুদের জন্য ২০ টাকা। মেলায় প্রদর্শন করা হবে দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি। এফএ
রাত পোহালেই বাণিজ্যমেলা শুরু
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বিরুদ্ধে এবার শরীয়তপুরে মামলা
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে এবার শরিয়তপুরে মামলা করা হয়েছে। গতকাল (৩০ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শরীয়তপুর জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন, শরীয়তপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন। মামলার বাদী ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহাদাত হোসেন (৫২) জানান, গতকাল দুপুর একটার দিকে আমরা শরীয়তপুর জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছি। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপি এবং তারেক রহমানের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। মানহানিকর এই বক্তব্যের কারণে মামলাটি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় সাথে ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বক্তব্যের সিডি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এই আদালত আগামী কার্যদিবসে শুনানী শেষে আদেশ দিবেন এমনটা প্রত্যাশা করছি।  মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও তার মেধাবী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের বিরুদ্ধে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে ১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি আইনের ১৫৩ (ক), ৫০৩ (ক) ও ৫০৯ ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কামরুল হাসান জানান, মামলার বাদী এডভোকেট শাহাদাত হোসেন এর সাথে ১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি আইনের ১৫৩ (ক), ৫০৩ (ক) ও ৫০৯ ধারায় ওকালত নামায় সাক্ষর করেছেন শরীয়তপুর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেমসহ ফোরামের বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ। আদালত পরবর্তী কার্যদিবসে শুনানির মাধ্যমে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন। এমএন
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বিরুদ্ধে এবার শরীয়তপুরে মামলা
ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২২’ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বাণীতে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২২ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, প্রকৃতির নিয়মেই যেমন নতুনের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, তেমনি অতীত-ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতিসম্ভারে হারিয়ে যাওয়ার চিরায়ত স্বভাব কখনও আনন্দ দেয়, আর কখনও-বা কৃতকর্মের শিক্ষা নব-উদ্যামে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ এবং ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ বাঙালি জাতির জীবনে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা এ সময়ে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান-২০২১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করি। এরই মধ্যে আমরা চলতি-২০২১ সালের মার্চ মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করি। যেখানে সার্কভুক্ত পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধানগণ সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিয়েছিলেন। তাছাড়া বিশ্বের ৭৭টি দেশের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধানগণ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ ভিডিওবার্তা ও অভিনন্দনপত্র প্রেরণ করেছেন, যেখানে সবাই-ই আমাদের সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন,  আমাদের সরকারের উদ্যোগে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরে জাতির পিতার নামে স্মারক ভাস্কর্য স্থাপন, সড়ক ও পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। ইউনেসকো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিতে আন্তজার্তিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি যেখানে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত সেখানে করোনাকালেও আমরা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি, এখন আমাদের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি। পদ্মা সেতু নতুন বছরের মধ্যবর্তী সময়ে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। রাজধানীতে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’- এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ অর্জন করেছি। দেশকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছি। মুজিববর্ষে আমরা অঙ্গীকার করেছি কেউ গৃহহীন থাকবে না। আমরা শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেব। নানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে তিনি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন, ক্রান্তিকাল উত্তরণে ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হয়েছে। দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। বাংলাদেশ ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে। আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমাদের সরকার তারুণ্যের শক্তির সঙ্গে ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান সমন্বিত করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ায় সক্ষম প্রজন্ম সৃষ্টিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’   ত্রিশ লাখ শহিদের রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সর্বদা সমুন্নত রাখা, দেশকে ভালোবাসা, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করাসহ ধর্মীয় উগ্রবাদসহ যেকোনো সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করার জন্য সবাইকে নতুন বছরে প্রতিজ্ঞা করার আহবান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার, সকল সংকট দূরীভূত এবং সকলের জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সূত্র: বাসস এনএইচ/টিআই
ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী 
পদ্মা সেতুতে তোলা মা-খালার ছবি পোস্ট দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জয়ের
ইংরেজি নববর্ষ ২০২২ সাল শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তবে নতুন বছর শুরুর আগেই ২০২১ সালের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। এ সময় বোনকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা।  পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে দুই বোন ছবি তোলেন। সেই ছবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন- ‘পদ্মা সেতুর পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা’। জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। পদ্মা সেতু পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা হেঁটে এবং কিছুটা গাড়িতে চড়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর নিয়ে পদ্মা সেতুতে পৌঁছান। ৭ থেকে ১৮ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পথ তিনি ছোট বোনসহ অন্যান্যদের নিয়ে হাঁটেন। এরপর গাড়িতে চড়ে তিনি সেতু পার হয়ে জাজিরা প্রান্তে সার্ভিস এরিয়া-২ এ নাস্তা করেন। পদ্মা সেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা নাস্তার আয়োজন করেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় তিনি সেখান থেকে গণভবনের উদ্দেশে রওনা হন। পদ্মা সেতু পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের। প্রসঙ্গত, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুতে নিচ দিয়ে রেলপথ ও ওপর দিয়ে সড়কপথ থাকবে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) এবং নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। সেতুর কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুন যান চলাচলের জন্য উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এফএ/টিআই
পদ্মা সেতুতে তোলা মা-খালার ছবি পোস্ট দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জয়ের
আরও পড়ুন
ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী 
‘২০৪১ সালের মধ্যে দেশ বিশ্বের উন্নয়নশীল কাতারে পৌঁছে যাবে’
ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
মালদ্বীপ থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী