জোটভুক্ত নির্বাচনের কারণে ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।
রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসন ছেড়ে দেয়ায় ওই সময় মনঃক্ষুণ্ণ হন আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীরা। একই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মতো নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনটিও ছেড়ে দেয়া হয় জাতীয় পার্টিকে। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই দলীয় প্রার্থী চান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
রাজধানী ঢাকার খুব কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে জোটভুক্ত রাজনীতির জন্য রাজধানীর কাছের জেলার আসন শরিক দলকে ছেড়ে দেয়া হলে তা রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এটির প্রভাবও পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সোনারগাঁও উপজেলায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ব্যস্ত নিজেদের ঘর গোছাতে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে কোন্দল মেটানো না গেলে এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়বে বলে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম নাসিম ওসমানকে। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের দেরাদুনে হঠাৎ নাসিম ওসমানের মৃত্যু হলে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান তার মেজ ভাই ব্যবসায়ী নেতা একেএম সেলিম ওসমান। ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে সেলিম ওসমান সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এসএম আকরামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দু’জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের একজন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু এবং অপরজন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। এ দু’জন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বেশ পুরানো মুখ এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ।
দুই প্রার্থীর মধ্যে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ১৯৭৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। ছাত্রলীগের মধ্যে দিয়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছেন তিনি। এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ বারের বর্তমান সভাপতিও তিনি। নারায়ণগঞ্জ বারে তিনি মোট ৩ বার সাধারণ সম্পাদক এবং ৪ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য ওই সময় তাকে ২বার কারাগারে যেতে হয়েছিল। প্রবীণ এই নেতা পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এ রাজনীতিক বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত আছি। দল এবং দলের নেতাকর্মীদের জন্য চেষ্টা করেছি কিছু করতে। দলীয় প্রধান আমার যোগ্যতা বিবেচনা করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়ন দিলে চেষ্টা করবো এলাকার মানুষের জন্য ভাল কিছু করতে। এরই মধ্যে তিনি সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছেন বলে জানান। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে চূড়ান্তভাবে তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ১৯৭৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেও এখন তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
সামরিক সরকারের আমলে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তার নেতৃত্বে প্রথম নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। স্বৈরাচার সরকারের আমলে তিনি দু’বার কারাবরণ করেন। পরে ৯১ সালে শহর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হন তিনি। ৯৬ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৯৭ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হন। ২০০০ সালে বিশেষ কাউন্সিলে শহর আওয়ামী লীগের ফের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন খোকন সাহা।
২০০৩ সালের ১৯ অক্টোবর কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি তৃতীয়বার এই পদে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা শহর আওয়ামী লীগকে মহানগর আওয়ামী লীগে উন্নীত করে ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন খোকন সাহাকে।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। তা না হলে যাকেই তিনি মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবো।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। যাতে এর সুফল যিনিই দলের প্রার্থী হন তিনি পান।
দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, আমরা দলের সভাপতিকে অনুরোধ করেছি যেন আগামী নির্বাচনে এ আসনটি কোনো শরিক দলকে ছেড়ে দেয়া না হয়।
নারায়ণগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই দলীয় প্রার্থী চান। তাদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। তাই শরিক দলকে আসন ছেড়ে দিতে হলে অন্য জেলায় যেনো ছাড়া হয়।
এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনের আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির, যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ান এবং আওয়ামী লীগ নেতা আর্জু রহমান ভূইয়া।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি থেকে এ আসনে দু’জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি এ আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সঙ্গে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হন। তবে এই মুহূর্তে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ঘর গোছাতে ব্যস্ত দলের মহানগরের নেতারা।
অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ৩ বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে এগিয়ে আছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতিতে কালামের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, মনোনয়ন দেবেন দলীয় চেয়ারপারসন। তবে আমি দল গোছানোর কাজ করছি। সাংগঠনিক কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছি। কারণ দল সংগঠিত হলে প্রার্থী যেই হোক তিনি সুবিধা পাবেন।
তিনি আরো বলেন, ৯১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মোট ৬টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে বিএনপি ৫টিতে অংশগ্রহণ করেছিল। ওই ৫টি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আমিই বিএনপি’র প্রার্থী ছিলাম। ওই ৫টি নির্বাচনের মধ্যে ৩টিতে আমি জয়ী হয়েছিলাম। দল আবার মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।
অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে বিএনপির যে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন চলছে সেখানে কাজ করছি। দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। মূলত ব্যবসায়ী এই নেতা বিকেএমইএ’র বর্তমান সভাপতি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক সভাপতি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির এক নম্বর সদস্য।
গেলো ৪ বছরে সেলিম ওসমান নিজের অর্থায়নে এই আসনে বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্কুলের নতুন ভবন তৈরি করা। এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবর স্থানে মোটা অংকের অনুদান দিয়ে আলোচনায় আছেন তিনি। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় সেন্ট্রাল খেয়া ঘাট যাত্রীদের জন্য ফ্রি করে দিয়ে তিনি সেবার অনন্য উদাহারণ সৃষ্টি করেছেন।
আসছে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির এ সংসদ সদস্য বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবো কি নেবো না তা আসছে বছরের ৩০ জুন ঠিক করবো। এর আগে আমি কিছু বলবো না। তবে ওই সময় পর্যন্ত আমি উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখবো।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যান্য দলগুলোও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে তারা এখনেই এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। তারা আরো পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, সিপিবি’র সঙ্গে বাসদের একটি জোট রয়েছে। তাই নির্বাচনে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে সিপিবি এবং বাকি দু’টিতে বাসদ প্রার্থী দেবে।
সেক্ষেত্রে সিপিবি নারায়ণগঞ্জ-৫ থেকে অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষকে, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে হাফিজুল ইসলামকে এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জিয়া হায়দার ডিপথিকে প্রার্থী হিসেবে আগেই ঘোষণা করেছে। আর বাকি দু’টি আসনে বাসদ তাদের প্রার্থী ঠিক করবে।
১৮ আগস্ট শুক্রবার থাকছে পঞ্চগড় আসনের খবর
জেবি/এসএস
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে
Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মহাকালের আবর্তে বিলীন হতে যাচ্ছে ২০১৭ সাল। এই বছরের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে রোববার দিনগত রাতে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে স্বাগত জানাবে ২০১৮ সালকে।
বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষ ২০১৮ সালকে স্বাগত জানাবে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী প্রদান করেছেন।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ড সর্বপ্রথম ২০১৭ কে বিদায় জানিয়ে বরণ করেছে ২০১৮ কে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে, দেশটির শত শত মানুষ নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে শহরের কেন্দ্রে ভিড় জমায়।
এদিকে ২০১৭ সালকে বিদায় জানিয়ে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা ২০১৮ সালকে বরণ করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য ২০১৭ সাল ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জনের একটি বছর। এই বছর রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি, জঙ্গি দমন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ আশাতীত সাফল্য অর্জনসহ মধ্য আয়ের দেশে এগিয়ে যাবার পথে অনেক ধাপ এগিয়েছে।
এই বছরে বিশ্ব সূচকেও বাংলাদেশের অনেক সাফল্য রয়েছে। দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনেও এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
নতুন বছর উদযাপনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ জারি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কে/এসএস
আফগানিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ১৫
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় জালালাবাদ শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ১৪ জন। খবর রয়টার্স।
আফগান সরকারের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রোববার ওই এলাকার সাবেক সিটি গভর্নরের জানাজার সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখনো কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয় প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আহমদ জিয়া আবদুজজাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নানগারহর প্রদেশের গভর্নরের আরেক মুখপাত্র নুর আহমদ হাবিবি জানান, রোববার প্রদেশের এক জেলার সাবেক চেয়ারম্যানের জানাজায় এ হামলা চালানো হয়।
তাৎক্ষণিক কেউ এ হামলায় দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবান ও আইএসের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় তোলো নিউজ চ্যানেল এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রথমে হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। পরবর্তীতে এ সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গেলো বৃহস্পতিবার রাজধানী কাবুলে শিয়া সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ও সংবাদ সংস্থার কার্যালয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হন। পরে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করে। ভয়াবহ ওই হামলার শোক কাটিয়ে না উঠতেই ফের হামলা চালালো সন্ত্রাসীরা।
এপি/এসএস
নিবন্ধন চায় ৭৬টি দল
নির্বাচন কমিশনে(ইসি) নিবন্ধনের জন্য ৭৬টি রাজনৈতিক দল নতুন করে আবেদন করেছে। এছাড়া আবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে ১৫টি দল। জানালেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
রোববার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। আজ ছিল আবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন।
হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, আবেদনের সময় বাড়ানো হবে না। ইতোমধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবেন আবেদনকারী দলগুলো নিবন্ধন শর্ত পূরণ করেছে কিনা। প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ে যাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে, তাদের নাম কমিশনে সুপারিশ করা হবে। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। যারা নিবন্ধিত হবেন তারা সামনের সব নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
সচিব বলেন, নিবন্ধিত ৪০ দল শর্ত পূরণ করছে কিনা তারও খোঁজ-খবর নেয়া হবে। যারা শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী দলগুলো হলো- ঐক্য ন্যাপ, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জোনায়েদ সাকীর গণসংহতি আন্দোলন, নাকফুল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নিউ সংসদ লীগ, ঘুষ নির্মূল পার্টি, মঙ্গল পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ(বাকশাল), কর্মসংস্থান আন্দোলন, বাংলাদেশ সমাধান ঐক্য পার্টি(বসবাস), সোনার বাংলা উন্নয়ন লীগ, সত্যব্রত আন্দোলন, সততা দল, জাতীয় পরিবার কল্যাণ পার্টি, শান্তির দল, জনতার কথা বলে, মৌলিক বাংলা, জনস্বার্থে বাংলাদেশ, সুশীল সামাজিক আন্দোলন, আলোকিত পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক গাজী, জালালী পার্টি, ইনসানিয়া বিপ্লব, ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি, ইসলামিক পার্টি, ফরায়েজি আন্দোলন, বাংলাদেশ রামকৃষ্ণ পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দুলীগ, মাইনরিটি জনতা পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, জনতা পার্টি, রিপাবলিকান পার্টি, সমাজ উন্নয়ন পার্টি, জাতীয় লীগ, পরিবহন লেবার পার্টি, তৃণমূল ন্যাশনাল পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, মানবাধিকার আন্দোলন, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, গণশক্তি দল, বেঙ্গল জাতীয় কংগ্রেস(বিজেসি), কৃষক শ্রমিক পার্টি, লিবারেল পার্টি, মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, জাতীয় দল, নতুন ধারা বাংলাদেশ, সাধারণ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(ডিপিএলডিপি), মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিজম ডেমোক্রেটিক পার্টি, গণ আজাদী লীগ, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি, তৃণমূল লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টি(ভাসানী ন্যাপ)।
কে/এসএস
ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত-শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ইংরেজি নতুন বছর ২০১৮ উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুনের আহ্বানে পুরাতন সব জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে নতুন সূর্যের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। নতুন বছর আমাদের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে আনুক। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করি।’
নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যমআয়ের এবং ২০৪১ সালের আগে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব ইনশাল্লাহ।’
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৭ সালকে আমাদের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বছরটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময় বছর।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ।’
‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।
মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্নআয়ের স্তর থেকে মধ্যমআয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশের বেশি হয়েছে। দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায়। সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দরিদ্রমানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছে। গড় আয়ু বেড়ে ৭১ বছর ৮ মাস হয়েছে।’
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে আরো বলেন, ‘সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সমুদ্রবন্দর পায়রার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। জাতীয় চারনেতার হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণকে দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে। বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে তার সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে।’
২০১৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অবদ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ অর্জন বাঙালি জাতি হিসেবে অত্যন্ত গৌরবের জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’
এসএস
থার্টি ফার্স্ট নাইটের প্রস্তুতি চলছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। নববর্ষে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন রাখতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টারে টহল দিচ্ছে র্যাব।
রোববার রাত ৮ টার দিকে গুলশানে র্যাবের হেলিকপ্টারে সার্চ লাইট দিয়ে টহল দিতে দেখা যায়।
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, রাজধানীতে সারারাত হেলিকপ্টার টহলে থাকবে। সার্চ লাইট দিয়ে ওপর থেকে দেখা হবে।
তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা এলাকাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় সার্চ লাইট নিয়ে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর হেলিকপ্টারও। আকাশে কুয়াশা থাকলেও এই সার্চ লাইট দিয়ে নিচে স্পষ্ট দেখা যাবে।
তিনি আরো বলেন, এবার পোশাক পরা ও সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। চেকপোস্টগুলোতে র্যাবের ডগ স্কোয়াড কাজ করছে। নিরাপত্তায় রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত দিনগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
এর আগে আজ রোববার রাজধানীতে কাবাডি স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেন, জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবে থার্টি ফার্স্ট নাইটে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধি-নিষেধের বাইরে কেউ কোনো কিছু করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শহীদুল হক বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি কূটনৈতিক বা অভিজাত এলাকা বিশেষ নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব স্থানেই বেশি লোক সমাগম ঘটে। পুলিশের বিধি-নিষেধ মেনে চললে রাতটি শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারবেন নগরবাসী।
এসএস