
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত থাকবে। সে অনুসারে গেলো মাসের মত এ মাসেও ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত ছিল না মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। গেলো মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কারণে এ কর্মসূচি বন্ধ রাখলেও এ মাসে কোন কারণ ছাড়াই পালন হয়নি কর্মসূচিটি।
সরেজমিনে শুক্রবার মানিক মিঞা অ্যাভিনিউ ঘুরে দেখা যায়, আড়ং মোড়ে রাখা হয় লাল রঙের বড় আকারের একটি ধাতব ব্যারিকেড, যাতে লেখা- ‘ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষেধ’। কিন্তু ওই সড়কে স্বাভাবিকভাবে প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। এ সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা ছাড়া পুলিশের তেমন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে তেজগাঁও জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন আরটিভি অলনাইকে বলেন, অনেকে জানেন না যে মাসের প্রথম শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয় দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো যাবে না। এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো হলে বিষয়টি রাজধানীবাসী জানবে। তখন এ রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ঠেকানো যাবে।
গেলো ২২ সেপ্টেম্বর ওই সড়কে ‘ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের’ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তখন তিনি মাসে অন্তত একটি দিন একটি সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তখন মন্ত্রী বলেছিলেন, ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আমরা কাগজে লিখলাম, সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিলাম, বাস্তবতা যদি না থাকে তাহলে এসব কথা বলে লাভ নেই। শুধু মুখে নয়, আমরা কারমুক্ত দিবসের যথার্থতা যেন উপলব্ধি করি এবং বাস্তবতা যেন প্রয়োগ করি। পরে তিনি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
বেসরকারি সংগঠন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধা ভোগ করে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ, অথচ এই গাড়িগুলো ৭৬ শতাংশ সড়ক দখল করে রাখে। আর প্রতি বছর ঢাকার রাস্তায় নামছে এক লাখ দশ হাজারের বেশি গাড়ি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২২ সেপ্টেম্বর ‘কার-ফ্রি ডে’ বা ‘ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ পালন করা হলেও বাংলাদেশে এ দিবস পালনের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে নতুন। বিগত বছরগুলোতে বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হলেও এবার দ্বিতীয়বারেরমত ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সরকারি ও বেসরকারি ৫৯টি সংস্থার উদ্যোগে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবস পালন করা হয়।
এমসি / এমকে




