
সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনে শহীদ মঈন হোসেন রাজুর গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দেয়ালে রাজুর গ্রাফিতির পাশে অবস্থান নিয়েছেন উভয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে দফায় দফায় দুদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বচসা, বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দেয়ালে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজুর গ্রাফিতি রয়েছে। নিয়ম করে গ্রাফিতিটি প্রতিবছর সংস্কার করে থাকে ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেটা মুছে দেন। এ নিয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ কোনো কিছু না আঁকার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তুহিন কান্তি দাস আরটিভি অনলাইনকে জানান, ছাত্রলীগের মুছে দেওয়া অংশে আমরা সকাল থেকে পুনরায় রং করা শুরু করি। তারা অন্য আরো অনেক দেয়াল রয়েছে সেগুলোতে আঁকতে পারে। কিন্তু ছাত্রলীগের এক নেতা ব্যক্তিগত আক্রোশে বিতর্ক তৈরি করছেন। বঙ্গবন্ধু বড় মাপের নেতা। তিনি বাঙালি জাতির জনক। রাজুর সাথে বঙ্গবন্ধুকে মুখোমুখি করে তারা বঙ্গবন্ধুকেই ছোট করছেন। ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে আলোচনা করে এখন কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজনামূলক পোস্ট দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ছাত্র সংগঠনই নিজেদের কর্মসূচীর সময় দেয়াল লিখন করে। আগেরটা মুছে দেয়। আমরাও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়াল লিখন করতে চায়। এটা তো দোষের কিছু না।
দুদলের উত্তেজনা নিয়ে তিনি বলেন, এটা বড় কোনো বিষয় না। ওদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক করে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সশস্ত্র সংঘর্ষ বাঁধলে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মিছিল বের করে ১৩টি ছাত্র সংগঠনের জোট 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য'। সেই মিছিলে গুলি হলে রাজু প্রাণ হারান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মইন হোসেন রাজু।
রাজুর স্মরণে ১৯৯৫ সাল থেকে ওই দেয়ালে রাজুর গ্রাফিতি আঁকানো হচ্ছে। এছাড়াও টিএসসিতে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য রয়েছে।
এসজে




