
১৯৯২ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনে শহীদ মঈন হোসেন রাজুর স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে সেখানে রাজুর গ্রাফিতিটি তত্বাবধান করে আসছিল ছাত্র ইউনিয়ন। তবে শুক্রবার দুপুরে দেখা যায়, সেখানে বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি অংকনের কাজ শুরু করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।
গেলো বুধবার হঠাৎ করেই ওই দেয়ালটি মুছে দেয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। কিন্ত পরে ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীরা বাধা দিলে দুদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বচসা, বাকবিতণ্ডাও হয়। এ নিয়ে টানা দুদিন ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে দুদলের শীর্ষনেতাদের বৈঠকও হয়। তবে ওই বৈঠক সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই দেয়ালে মঈন হোসেন রাজুর গ্রাফিতি রয়েছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। রাজুর এই গ্রাফিতি ১৯৯৫ সাল থেকে রয়েছে। অতীতে এখানে কোনো ছাত্র সংগঠনই কিছু আঁকেনি। কারণ রাজু ১৩টি ছাত্র সংগঠনের জোট 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যে'র মিছিলে শহীদ হন। তার প্রতি সবারই একটা শ্রদ্ধা আছে।
জানা গেছে, দেয়াল অংকন করতে বুধবার ছাত্রলীগ রাজুর গ্রাফিতির কিছু অংশ মুছে ফেলে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা সেখানে মুছে যাওয়া অংশে আবার অংকন করে। এরপর ছাত্রলীগ ফের বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিকেলে দু'দলের শীর্ষনেতাদের বৈঠকে ছাত্রলীগের পক্ষে ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ছিলেন সভাপতি জিএম জিলানি শুভ, সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। কিন্তু ওই বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।
বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘রাজু এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী। এই ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে গ্রন্থাগারের দেয়ালে এটি আছে। কোনো ছাত্র সংগঠনই আপত্তি তোলেনি। বিএনপি সরকারের সময়ও না। হঠাৎ ছাত্রলীগ এটা সরাতে উঠে পড়ে লাগলো কেন--সেটা স্পষ্ট না।'
তিনি বলেন, 'বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। আমরা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে বলেছি, নৈতিকভাবে আপনাদের যা মনে হয়, তাই করবেন। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে খুবই অস্বাভাবিক।'
তবে ছাত্র ইউনিয়নের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বাপ্পী ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী বলেন, এখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গ্রাফিতি আঁকা হবে। এই দেয়াল কারো নামে রেজিস্ট্রি করা নাই। অতীতে ছাত্র ইউনিয়ন অনেক দেয়াল লিখন আমাদের অনুমতি ছাড়া মুছে ফেলেছে। আর এখন আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাবাষিকীতে অংকন করছি। অনুষ্ঠান শেষে তারা চাইলে আবার আঁকতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু এবার ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এর তাৎপর্য ওই দেয়ালে অংকন করা হচ্ছে।’
১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছিলেন রাজু। সেই মিছিলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা গুলি করলে রাজু প্রাণ হারান। কবি শামসুর রাহমান রাজুকে নিয়ে ‘পুরানের পাখি’ শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। যা আলোড়ন তুলেছিল সে সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতেও রাজুর স্মরণে সন্ত্রাসবিরোধী ভাস্কর্য রয়েছে।

এসজে




