ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশের গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ হিসেবে দেখতে চায় সরকার: রিজওয়ানা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায় দেশের সকল গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশন করে দেশ ও জনগণের কাছে আস্থা অর্জন করুক। এ জন্যে সার্বিক সহয়তা করতে সরকার সবসময় প্রস্তুত।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া এ্যাকশনের সহযোগিতায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার শুরু থেকেই গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বার্থ ও সুরক্ষার বিষয়ে আন্তরিক। যে কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়েও গণমাধ্যমে সংস্কারে কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে ঐকমত্য কমিশনের যেহেতু শুধুমাত্র নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে, সেই বিবেচনায় গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশগুলো সেখানে পাঠানো হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার এর চাওয়া হচ্ছে দেশের সকল গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সংবাদ পরিবেশন করবে। তবে অনেক সময়েই দেখা যায় পরিবেশিত সংবাদের সাথে বাস্তবতার কোন মিল থাকে না। এমন ধরনের সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরী হয়।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত প্রতিবেদনের মধ্যে যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য তা বাস্তাবায়নে উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি কাজ করছে। এই কমিটি অচিরেই বিজেসি ও খাত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। তবে গণমাধ্যমের সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্যে গণমাধ্যম কর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে।

বিজেসির ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, ইন্টারনিউজ বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি শামীম আরা শিউলি, নিউজ নেটওয়ার্কের সিইও শাহীদুজ্জামান, সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাশরুজ্জমান, ডিজিটালী রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ, এমআরডিআইয়ের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর আসিফ ইসলাম শাওন, বিজেসির ট্রাস্টি মানস ঘোষ ও নুরে সাফা জুলহাস।

বিজেসির সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন ও বিবিসি মিডিয়া এ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুনের স্বাগত বক্তব্যে এবং ইলিয়াস হোসেন ও মাহফুজ মিশুর সঞ্চালণায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজেসির নির্বাহী পারভেজ রেজা।

সভাপতির বক্তব্যে বিজেসির ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ বলেন, গত ১ বছরে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বার্থে তেমন কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের এই সদস্য হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের করা প্রতিবেদনকে এখন পর্যন্ত সরকার স্বীকৃতি দেয়নি, অবিলম্বে এটি করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে না দেয়াটা ঠিক হয়নি, সুযোগ থাকলে এটি দেয়া উচিত। প্রেস কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায় সংস্কার কমিশনে এটি বিলুপ্ত করে গণমাধ্যমসংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে দেখা গেল সেই সুপারিশ আমলে না নিয়ে আবারও প্রেস কাউন্সিল কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসময় সাংবাদিকসহ যে কারও ক্ষেত্রেই সন্ত্রাস দমন আইনের প্রয়োগ বন্ধ হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইন্টারনিউজ বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি শামীম আরা শিউলি বলেন, গণমাধ্যমের সংস্কার করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধ্য করতে হবে যেন নির্বাচনী ইশতেহারে গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টি তারা অন্তর্ভুক্ত করে।

বিজেসির ট্রাস্টি জুলহাস বলেন, নীতিমালার নামে সব সময় নিয়ন্ত্রণ মালা দেয়া হয়। কমিশন যে প্রস্তাবনা দিয়েছে তার স্পিরিট ধরে রাখতে হবে আমাদের। বিগত সরকারের সময়েও এসব আলোচনা হয়েছে তবে কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি তাই আমরা বলতে চাই ডিজিটাল বাস্তবতায় মিডিয়াকে স্বাধীন সম্পাদকীয়তায় নিশ্চিত করতে না পারলে সামনে সমূহ বিপদ। সাংবাদিকদের হয় রাস্তা ছাড়তে হবে নয় রাস্তায় নামতে হবে।

নিউজ নেটওয়ার্কের সিইও শাহীদুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কোন সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়া হতাশার। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবল গণমাধ্যম তৈরির সুযোগ সরকারকেই করে দিতে হবে।

ডিজিটালী রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, সব সংস্কার কখনই সরকার করে দেয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংস্কার গণমাধ্যমের ভেতর থেকে শুরু করতে হয়। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটির অভাব রয়েছে।

আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় যে বিধিমালা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে সেখানে এখনও সাংবাদিকের সংজ্ঞায় সম্প্রচার গণমাধ্যমের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহবান জানান বিজেসিকে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (মিডিয়া) কেয়া রয় বলেন, নারী সাংবাদিকদের জন্য কর্মস্থলে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। গণমাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক খবর প্রকাশে জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।

এমআরডিআই এর প্রতিনিধি আসিফ ইকবাল বলেন, সংস্কারের দুটি ভাগ রয়েছে একটি সরকার করে দেবে। সাংবাদিকদের নিজেদের উন্নয়ন নিজেদেরই করতে হবে। সরকারকে প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে সবাই মিলে চাপ দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যতটুকু সম্ভব কাজ করে যাবেন পরবর্তী সরকার এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করবেন। এ সকল আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোকেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

আরটিভি/এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির গুলশান কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে সই করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে সই করেন তারা।  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন বিদায় আপসহীন নেত্রী  এখন পর্যন্ত শোকবইয়ে যারা সই করেছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, ডেনমার্ক ও জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ সৌদি আরব, রাশিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিসহ ১৫ দেশের কূটনীতিক। শোকবইয়ে সই কার্যক্রম রাত ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
আগামী ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজস্বখাতভুক্ত ১৬ ক্যাটাগরির ১৮৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার সে প্রেক্ষিতে আগামী ২ জানুয়ারি তারিখ সকাল ১০টা থেকে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড এবং প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র : বাসস আরটিভি/এমএ
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন।  মাত্র কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেল ৫টায় ঢাকা ত্যাগ করেছেন। খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে আজ দুপুরেই তিনি ঢাকায় আসেন। সফরকালে জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকেও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক ও কুশল বিনিময় সংক্ষিপ্ত এই সফরে জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস জয়শঙ্করই প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী, যিনি ঢাকা সফরে এলেন। আরটিভি/এমএ
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার শোকাহত জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরুর আগে এই দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। জানাজার স্থানে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত তারেক রহমানের হাত ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে গভীর সমবেদনা জানান।  এদিকে, জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর বিকেল তিনটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।  এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আরও পড়ুন
বিশ্ব গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জানাজার খবর
গণমাধ্যমে হামলা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ মুহূর্ত: ইইউ রাষ্ট্রদূত
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নিন্দা
বিশ্ব গণমাধ্যমে শহিদ ওসমান হাদির জানাজায় জনস্রোতের খবর