ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩ পিএম
ফাইল ছবি

জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য পদের প্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগের লক্ষ্যে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন ও জারি করেছে।

এটি রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা ২০২৫ নামে অভিহিত হবে।

এতে বলা হয় সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সরকার স্বীকৃত বর্তমান বা সাবেক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী কোন ব্যক্তি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সরকার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ, ‘রিটেইনার’ অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ও অনুমোদিত সশস্ত্র ব্যক্তি প্রাধান্য পাবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকির ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান ও রিটেইনার নিয়োগ অনুমোদন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত সশস্ত্র বাহিনী গঠন প্রতিরোধ, নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন রোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

এতে আরও জানানো হয় এই নীতিমালার বাস্তবায়ন নিম্নোক্ত আইন ও নীতিমালার আলোকে করা হবে-আগ্নেয়াস্ত্র আইন, ১৮৭৮, আগ্নেয়াস্ত্র বিধিমালা, ১৯২৪, দণ্ডবিধি, ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, নির্বাচন কমিশন জারিকৃত আচরণবিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত জারীকৃত নীতিমালা।

আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স সংক্রান্ত বিধান-

লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা: সরকার স্বীকৃত রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে হবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান থাকতে হবে, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে, অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এই নীতিমালার অধীনে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এই সংক্রান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারিকৃত অন্যান্য নীতিমালা ও বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে ব্যক্তিগত আয়কর প্রদান সংক্রান্ত অংশ শিথিলযোগ্য হবে। শুধু আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের (এন পি বি) অস্ত্র, একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না, স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান যোগ্য হবে না।

এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদনকৃত লাইসেন্সের মেয়াদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার তারিখ হতে পরবর্তী ১৫ দিন হবে। উক্ত সময়ের পর এইরূপ লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য জারিকৃত নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রুপান্তর করতে পারবে, লাইসেন্সের মেয়াদ অতিক্রান্ত হলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোন লাইসেন্সধারী উক্ত লাইসেন্সের বিপরীতে কোন আগ্নেয়াস্ত্র নিজ দখলে রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

রিটেইনার নিয়োগের শর্ত: কেবল প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে রিটেইনার নিয়োগ অনুমোদনযোগ্য হবে, রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে রিটেইনার নিয়োগ করা বা অনুমোদন করা যাবে না, কোন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থী লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোন ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। এইরূপ নিয়োগ লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হতে হবে।

রিটেইনারের যোগ্যতা: বাংলাদেশি নাগরিক ও ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর, অপরাধমুক্ত ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্ত, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (সশস্ত্র বাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণ অগ্রাধিকার পাবেন), সরকারি হাসপাতাল হতে প্রাপ্ত মেডিকেল ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত হতে হবে।

একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগযোগ্য হবে, নির্দিষ্ট মেয়াদের পর রিটেইনারের মেয়াদও শেষ হবে। রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করবেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন করবেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা যাচাই তিন কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, সব প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে রিটেইনার লাইসেন্স অনুমোদন প্রদান করবেন। রিটেইনারের অনুকূলে কোন আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ইস্যু করা হবে না, রিটেইনার কেবল আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী হবেন, অস্ত্রসংক্রান্ত সব দায় লাইসেন্সধারীর ওপর বর্তাবে।

আচরণবিধি: অস্ত্র বহনকালে সর্বদা লাইসেন্স এবং অনুমোদন পত্র সঙ্গে রাখতে হবে, এই অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানি করা যাবে না, নিরাপত্তা ব্যতীত অন্য কোন কাজে বা উদ্দেশ্যে এই লাইসেন্সের আওতাভুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, এই লাইসেন্স এবং লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র হস্তান্তরযোগ্য হবে না, প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ তাৎক্ষণিকভাবে পালন বাধ্যতামূলক হবে।

অপব্যবহার বা নিবাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে বা সরকারের অন্য কোন বিধি বিধান-নিয়ম লঙ্ঘন করলে লাইসেন্স ও রিটেইনার অনুমোদন কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ/অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত লাইসেন্স বা অনুমোদন তাৎক্ষণিক বাতিল করতে পারবে।

নির্বাচনকালীন বিধান: এই নীতিমালা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধির পরিপূরক হবে এবং কোনক্রমেই উক্ত আচরণবিধি/বিধিসমূহের ব্যত্যয়ে ব্যবহৃত হবে না, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘন স্বতন্ত্র অপরাধ বলে গণ্য হবে। লাইসেন্স বা রিটেইনার নিয়োগ বাতিল/স্থগিতের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আপিল করা যাবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আজ এসব তথ্য জানানো হয়। সূত্র: বাসস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির গুলশান কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে সই করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে সই করেন তারা।  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন বিদায় আপসহীন নেত্রী  এখন পর্যন্ত শোকবইয়ে যারা সই করেছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, ডেনমার্ক ও জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ সৌদি আরব, রাশিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিসহ ১৫ দেশের কূটনীতিক। শোকবইয়ে সই কার্যক্রম রাত ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
আগামী ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজস্বখাতভুক্ত ১৬ ক্যাটাগরির ১৮৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার সে প্রেক্ষিতে আগামী ২ জানুয়ারি তারিখ সকাল ১০টা থেকে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড এবং প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র : বাসস আরটিভি/এমএ
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন।  মাত্র কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেল ৫টায় ঢাকা ত্যাগ করেছেন। খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে আজ দুপুরেই তিনি ঢাকায় আসেন। সফরকালে জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকেও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক ও কুশল বিনিময় সংক্ষিপ্ত এই সফরে জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস জয়শঙ্করই প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী, যিনি ঢাকা সফরে এলেন। আরটিভি/এমএ
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার শোকাহত জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরুর আগে এই দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। জানাজার স্থানে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত তারেক রহমানের হাত ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে গভীর সমবেদনা জানান।  এদিকে, জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর বিকেল তিনটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।  এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আরও পড়ুন
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইসির চিঠি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী খোদা বকশের পদত্যাগ
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
অপরিচিতদের সচিবালয়ে প্রবেশ পাস না দিতে চিঠি