ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশকে নিয়ে ৭৩ ভারতীয় গণমাধ্যমের ১৪০ প্রতিবেদনে অপতথ্যের প্রমাণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
বাংলাদেশকে নিয়ে ৭৩ ভারতীয় গণমাধ্যমের ১৪০ প্রতিবেদনে অপতথ্যের প্রমাণ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অন্তত ১৫৫টি অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা। গত বছর ৭৩টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ৩৮টি ঘটনায় মোট ১৪০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

বছরের শুরুতেই অপতথ্যের বিস্ফোরণ

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেই বাংলাদেশকে নিয়ে ৩৪টি অপতথ্য ছড়ানো হয়—যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। পরবর্তী মাসগুলোতে সংখ্যায় কিছুটা ওঠানামা হলেও পুরো বছরজুড়েই গড়ে প্রতি মাসে অন্তত ১৩টি করে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

এক্সে ছড়াচ্ছে ৮০ শতাংশের বেশি অপতথ্য

বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয়দের অপতথ্যের প্রচারে বরাবরই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া প্ল্যাটফর্ম মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (সাবেক টুইটার)। গেলো বছর ১৫৫টি অপতথ্যের মধ্যে ১২৬টিই এক্সের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রচারের প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার। অর্থাৎ, প্রায় ৮১ শতাংশ অপতথ্যই ছড়িয়েছে এক্সে।

এক্স ছাড়াও বাংলাদেশকে নিয়ে গত বছর ফেসবুকে ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে ৫৪টি অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে। অপতথ্য প্রচারের তালিকায় আছে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও টিকটকের নামও। এমনকি ভারতীয় গণমাধ্যমও অন্তত ৩৮টি ঘটনায় অপতথ্য প্রচার করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভারতীয় গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ। কারণ, গণমাধ্যম থেকে ছড়ানো ভুল তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পায় এবং তা জনমত গঠনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

লাগাম ছাড়া সাম্প্রদায়িক অপতথ্য

২০২৫ সালে ভারতীয়দের ছড়ানো যে ১৫৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার, তার মধ্যে ৯১টিই সাম্প্রদায়িক অপতথ্য। অর্থাৎ, শনাক্ত হওয়া অপতথ্যগুলোর প্রায় ৫৮ শতাংশই সাম্প্রদায়িক ঘটনা সংক্রান্ত।

সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের এই ক্যাম্পেইনে ভারতীয় গণমাধ্যমও রেখেছে ভূমিকা। অন্তত ১০টি ঘটনায় ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় এনডিটিভি, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, জি নিউজ, ওয়ার্ল্ড ইজ ওয়ান নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, নিউজ১৮, টিভি নাইন, এবিপি, মিরর নাউ এর মতো মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে।

৭৩ ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে অপতথ্য

রিউমর স্ক্যানার ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভুল তথ্য নিয়ে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেকগুলো বিশ্লেষণ করে ৩৮টি ঘটনায় দেশটির ৭৩টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুল তথ্য প্রচার হতে দেখেছে। এই সংবাদমাধ্যমগুলোতে সর্বোচ্চ ১০টি থেকে সর্বনিম্ন একটি ভুল তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে। ৭৩টি সংবাদমাধ্যমে থাকা ১৪০টি প্রতিবেদন যাচাই করে ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারের দরুন প্রথম স্থানে রয়েছে ভারতের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘আজতক বাংলা’। ৩২টি ঘটনার মধ্যে ১০টিতেই এই চ্যানেল ভুল তথ্য প্রচার করেছে। ২০২৪ সালে এই তালিকায় আজতকের অবস্থান ছিল চতুর্থ।

আরও পড়ুন

গত বছরের ৯ জুলাই ঢাকায় মিটফোর্ডে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ। এরই প্রেক্ষিতে অন্তত ২৭টি ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, সোহাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মুসলিমকে হিন্দু বানিয়ে অপপ্রচার বেশি

গেল বছর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর এবং সাম্প্রদায়িক প্রচারণার ধরণের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণটি হলো, কোনো একজন মুসলিম ঘটনাক্রমে হামলা বা নিগ্রহের শিকার হলে সেই ব্যক্তিকে হিন্দু দাবি করে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে৷

২০২৫ সালে এমন অন্তত ৩৩টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আরেকটি পরিচিত ধরণ হচ্ছে, পুরোনো কোনো ঘটনাকে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হামলার সাম্প্রতিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া।

এমন অন্তত ৮টি ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার। এমনকি বিনোদনের উদ্দেশ্যে বানানো স্ক্রিপ্টেড কনটেন্টকেও সত্যি দাবি করে অপতথ্য প্রচারের অন্তত ৬টি ঘটনা শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আবার ৫টি ঘটনায় দেখা গেছে, ঘটনাগুলো ভারতে ঘটেছে। অথচ দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ঘটনা।

উপমহাদেশীয় সমস্যার গিনিপিগ বাংলাদেশও?

ভারতীয় উৎস থেকে ধারাবাহিক এই অপপ্রচার দিনে দিনে বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে রিউমর স্ক্যানার আলাপ করেছে ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ীর সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ভুল তথ্যের এই প্রভাবে ভারত এবং বাংলাদেশ- দুই দেশের জনগণের মধ্যেকার সম্পর্ক চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি দেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা গড়ে উঠছে আরেকটি দেশের জনমনে তীব্র ঘৃণা, বিদ্বেষের জন্ম হচ্ছে, এই ঘৃণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছড়ে পড়ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব নন্দী মনে করেন, দায় আছে বাংলাদেশেরও। রিউমর স্ক্যানারের সঙ্গে আলাপকালে রাজীব বলেছেন, বাংলাদেশে মব ভায়োলেন্সের লাগামহীন বৃদ্ধি, ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক হামলা এবং এসব ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিক্রিয়ার অভাব ভারতীয় মিডিয়ার এই অতিরঞ্জনের জন্য কার্যত বাস্তব কাঁচামাল সরবরাহ করছে। বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা, এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান না থাকা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অধ্যাপক রাজীবের আশঙ্কা, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা যদি সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট, দৃঢ় ও নৈতিক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যমে এই অতিরঞ্জিত ও বিকৃত বয়ান ভবিষ্যতেও পুনরুৎপাদিত হতে থাকবে।

এই মিডিয়া গবেষক বলছেন, এই অপতথ্যগুলো এখন আর কেবল সাংবাদিকতার ত্রুটি নয়; এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র সম্পর্কে জনমত নির্মাণ ও রাজনৈতিক বয়ান তৈরির কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ইস্যু ছাড়াও নানান সময়েই ভারতীয় উৎস থেকে অপতথ্যের প্রবাহ দেখা যায়। এটি মোকাবিলায় দুই দেশের সরকার বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াকে দায়ী করেন কিনা এমন প্রশ্নে দ্বিমত রয়েছে অর্কর।

ভারতীয় সাংবাদিকঅর্ক মনে করেন, ফ্যাক্টচেকিংসহ দুদেশের জনতার মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমেই এই পরিস্থিতির কিছুটা নিরাময় সম্ভব।

ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব বাংলাদেশবিরোধী বয়ানকে ত্বরান্বিত করছে কি না রাজীব নন্দীর কাছে এমন প্রশ্ন ছিল। তার মতে, ভারতীয় রাজনীতিতে সংখ্যালঘু অধিকার প্রশ্নে যে রাজনৈতিক অবস্থান তা একরৈখিকভাবে বাংলাদেশবিরোধী বলা যায় না।

তবে রাজীব এটাও মনে করেন যে ভিজ্যুয়াল অতিরঞ্জন, নাটকীয় ভাষা ও যাচাইহীন তথ্য মিলিয়ে একটি আবেগনির্ভর ও সংঘাতমুখী আখ্যানের জায়গায় ভারতীয় গণমাধ্যম নৈতিক সীমা লঙ্ঘন করছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।  এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আরটিভি/এসআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের বৈঠক
নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে ন্যায্য স্থান দেওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের 
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল কোনো শর্তাধীন বিষয় নয়, বরং এটি সরাসরি ন্যায়বিচার এবং খোদ জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে ন্যায্য স্থান দেওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের 
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।’ এ সময় স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার আহ্বান জানান। দেশের প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না, দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর কখনও রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’ অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে চার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
আরও পড়ুন
স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ গেল ৯ জনের
আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের
কিশোর যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত উবারচালক গ্রেপ্তার
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি