ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশকে নিয়ে ৭৩ ভারতীয় গণমাধ্যমের ১৪০ প্রতিবেদনে অপতথ্যের প্রমাণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
বাংলাদেশকে নিয়ে ৭৩ ভারতীয় গণমাধ্যমের ১৪০ প্রতিবেদনে অপতথ্যের প্রমাণ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অন্তত ১৫৫টি অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা। গত বছর ৭৩টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ৩৮টি ঘটনায় মোট ১৪০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

বছরের শুরুতেই অপতথ্যের বিস্ফোরণ

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেই বাংলাদেশকে নিয়ে ৩৪টি অপতথ্য ছড়ানো হয়—যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। পরবর্তী মাসগুলোতে সংখ্যায় কিছুটা ওঠানামা হলেও পুরো বছরজুড়েই গড়ে প্রতি মাসে অন্তত ১৩টি করে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

এক্সে ছড়াচ্ছে ৮০ শতাংশের বেশি অপতথ্য

বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয়দের অপতথ্যের প্রচারে বরাবরই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া প্ল্যাটফর্ম মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (সাবেক টুইটার)। গেলো বছর ১৫৫টি অপতথ্যের মধ্যে ১২৬টিই এক্সের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রচারের প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার। অর্থাৎ, প্রায় ৮১ শতাংশ অপতথ্যই ছড়িয়েছে এক্সে।

এক্স ছাড়াও বাংলাদেশকে নিয়ে গত বছর ফেসবুকে ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে ৫৪টি অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে। অপতথ্য প্রচারের তালিকায় আছে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও টিকটকের নামও। এমনকি ভারতীয় গণমাধ্যমও অন্তত ৩৮টি ঘটনায় অপতথ্য প্রচার করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভারতীয় গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ। কারণ, গণমাধ্যম থেকে ছড়ানো ভুল তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পায় এবং তা জনমত গঠনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

লাগাম ছাড়া সাম্প্রদায়িক অপতথ্য

২০২৫ সালে ভারতীয়দের ছড়ানো যে ১৫৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার, তার মধ্যে ৯১টিই সাম্প্রদায়িক অপতথ্য। অর্থাৎ, শনাক্ত হওয়া অপতথ্যগুলোর প্রায় ৫৮ শতাংশই সাম্প্রদায়িক ঘটনা সংক্রান্ত।

সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের এই ক্যাম্পেইনে ভারতীয় গণমাধ্যমও রেখেছে ভূমিকা। অন্তত ১০টি ঘটনায় ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে জড়িয়ে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় এনডিটিভি, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, জি নিউজ, ওয়ার্ল্ড ইজ ওয়ান নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, নিউজ১৮, টিভি নাইন, এবিপি, মিরর নাউ এর মতো মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে।

৭৩ ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে অপতথ্য

রিউমর স্ক্যানার ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভুল তথ্য নিয়ে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেকগুলো বিশ্লেষণ করে ৩৮টি ঘটনায় দেশটির ৭৩টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুল তথ্য প্রচার হতে দেখেছে। এই সংবাদমাধ্যমগুলোতে সর্বোচ্চ ১০টি থেকে সর্বনিম্ন একটি ভুল তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে। ৭৩টি সংবাদমাধ্যমে থাকা ১৪০টি প্রতিবেদন যাচাই করে ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারের দরুন প্রথম স্থানে রয়েছে ভারতের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘আজতক বাংলা’। ৩২টি ঘটনার মধ্যে ১০টিতেই এই চ্যানেল ভুল তথ্য প্রচার করেছে। ২০২৪ সালে এই তালিকায় আজতকের অবস্থান ছিল চতুর্থ।

আরও পড়ুন

গত বছরের ৯ জুলাই ঢাকায় মিটফোর্ডে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ। এরই প্রেক্ষিতে অন্তত ২৭টি ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, সোহাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মুসলিমকে হিন্দু বানিয়ে অপপ্রচার বেশি

গেল বছর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর এবং সাম্প্রদায়িক প্রচারণার ধরণের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণটি হলো, কোনো একজন মুসলিম ঘটনাক্রমে হামলা বা নিগ্রহের শিকার হলে সেই ব্যক্তিকে হিন্দু দাবি করে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে৷

২০২৫ সালে এমন অন্তত ৩৩টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আরেকটি পরিচিত ধরণ হচ্ছে, পুরোনো কোনো ঘটনাকে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হামলার সাম্প্রতিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া।

এমন অন্তত ৮টি ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার। এমনকি বিনোদনের উদ্দেশ্যে বানানো স্ক্রিপ্টেড কনটেন্টকেও সত্যি দাবি করে অপতথ্য প্রচারের অন্তত ৬টি ঘটনা শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আবার ৫টি ঘটনায় দেখা গেছে, ঘটনাগুলো ভারতে ঘটেছে। অথচ দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ঘটনা।

উপমহাদেশীয় সমস্যার গিনিপিগ বাংলাদেশও?

ভারতীয় উৎস থেকে ধারাবাহিক এই অপপ্রচার দিনে দিনে বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে রিউমর স্ক্যানার আলাপ করেছে ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ীর সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ভুল তথ্যের এই প্রভাবে ভারত এবং বাংলাদেশ- দুই দেশের জনগণের মধ্যেকার সম্পর্ক চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি দেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা গড়ে উঠছে আরেকটি দেশের জনমনে তীব্র ঘৃণা, বিদ্বেষের জন্ম হচ্ছে, এই ঘৃণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছড়ে পড়ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব নন্দী মনে করেন, দায় আছে বাংলাদেশেরও। রিউমর স্ক্যানারের সঙ্গে আলাপকালে রাজীব বলেছেন, বাংলাদেশে মব ভায়োলেন্সের লাগামহীন বৃদ্ধি, ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক হামলা এবং এসব ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিক্রিয়ার অভাব ভারতীয় মিডিয়ার এই অতিরঞ্জনের জন্য কার্যত বাস্তব কাঁচামাল সরবরাহ করছে। বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা, এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান না থাকা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অধ্যাপক রাজীবের আশঙ্কা, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা যদি সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট, দৃঢ় ও নৈতিক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যমে এই অতিরঞ্জিত ও বিকৃত বয়ান ভবিষ্যতেও পুনরুৎপাদিত হতে থাকবে।

এই মিডিয়া গবেষক বলছেন, এই অপতথ্যগুলো এখন আর কেবল সাংবাদিকতার ত্রুটি নয়; এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র সম্পর্কে জনমত নির্মাণ ও রাজনৈতিক বয়ান তৈরির কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ইস্যু ছাড়াও নানান সময়েই ভারতীয় উৎস থেকে অপতথ্যের প্রবাহ দেখা যায়। এটি মোকাবিলায় দুই দেশের সরকার বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াকে দায়ী করেন কিনা এমন প্রশ্নে দ্বিমত রয়েছে অর্কর।

ভারতীয় সাংবাদিকঅর্ক মনে করেন, ফ্যাক্টচেকিংসহ দুদেশের জনতার মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমেই এই পরিস্থিতির কিছুটা নিরাময় সম্ভব।

ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব বাংলাদেশবিরোধী বয়ানকে ত্বরান্বিত করছে কি না রাজীব নন্দীর কাছে এমন প্রশ্ন ছিল। তার মতে, ভারতীয় রাজনীতিতে সংখ্যালঘু অধিকার প্রশ্নে যে রাজনৈতিক অবস্থান তা একরৈখিকভাবে বাংলাদেশবিরোধী বলা যায় না।

তবে রাজীব এটাও মনে করেন যে ভিজ্যুয়াল অতিরঞ্জন, নাটকীয় ভাষা ও যাচাইহীন তথ্য মিলিয়ে একটি আবেগনির্ভর ও সংঘাতমুখী আখ্যানের জায়গায় ভারতীয় গণমাধ্যম নৈতিক সীমা লঙ্ঘন করছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে না। হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস দেন। তি‌নি ব‌লেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে এই সংকটকালীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ সময় ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তি‌নি ব‌লেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের ম‌নোভাব বা সমর্থ‌নে আমরা খু‌শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে জালিল রাহিমি ব‌লেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার মা‌নে আত্মসমর্পণ। এটা কখ‌নো মে‌নে নে‌বে না ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পূর্ণ শক্তিতে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান কখনোই কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি এ অঞ্চলে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তি‌নি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে।  ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। পরে তাকে পরিবর্তন করে সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এ দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলন কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক শ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কথা তুলে ধরে আসছে। আরটিভি/টিআর
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
তার সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ রাজিব ঘোষকেও। বর্তমানে তারা ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
ফ্যাসিস্টরা গার্মেন্টসে অসন্তোষ ছড়িয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ফ্যাসিস্টরা গার্মেন্টসে অসন্তোষ ছড়িয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ফ্যাসিস্টরা গার্মেন্টসে অসন্তোষ ছড়িয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
রাগ-ক্ষোভ নয়, রাষ্ট্র চলে যৌক্তিকতার ভিত্তিতে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
রাষ্ট্র কখনো রাগ বা ক্ষোভের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না, রাষ্ট্র চলে যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনো রাগ বা ক্ষোভের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না, রাষ্ট্র চলে যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই সংবিধানে পরিবর্তন আসে, তবে তা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তিগুলোকে বিনষ্ট করে নয়। তিনি আরও বলেন, এ দেশের জনগণ কখনোই বাড়াবাড়িকে পছন্দ করে না, যারাই বাড়াবাড়ি করেছে, জনগণ তাদেরকেই প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এদেশের মানুষ কখনোই ভুল করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ছিল, জনগণ তাদেরকেই সমর্থন দিয়েছে এবং নির্বাচিত করেছে। ​মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তারপরেও  শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা যে সম্প্রীতি নিয়ে মিলেমিশে বসবাস করছি, তা গোটা বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। আরটিভি/টিআর
রাগ-ক্ষোভ নয়, রাষ্ট্র চলে যৌক্তিকতার ভিত্তিতে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
আরও পড়ুন
থানার ভেতরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানার সব পুলিশ বরখাস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী
স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে প্রার্থনা
জানুয়ারিতে কোহলি-বুমরাহদের বাংলাদেশে পাঠাতে রাজি ভারত!