ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কারা হেফাজতে ‘রাজনৈতিক মৃত্যুর’ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে মানবিক প্রশ্ন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত

কারা হেফাজতে মারা যাওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিগত এক বছরে কারাবন্দী অবস্থায় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার মারা যাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের পরিবার ও সহকর্মীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা প্রদানে দেরি বা অবহেলার অভিযোগও উঠেছে। তবে এই মৃত্যুগুলোর পেছনে অসুস্থতা, বার্ধক্যসহ জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকার দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। তবুও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি মানবিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এভাবে হেফাজতে মৃত্যুকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১৫ মাসে ১১২ জন কারা হেফাজতে মারা গেছেন। সংস্থাটির হিসেবে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে মারা গেছেন ৯৫ জন। আর ২০২৪ সালে ১২ মাসে মারা গেছেন ৬৫ জন। মৃতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১২ মাসে কারাগারে ১৮ জন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুধু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৮ দিনে কারা হেফাজতে মোট ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ রমেশ চন্দ্র এবং আরও পাঁচটি মৃত্যু

সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) রমেশ চন্দ্র সেন শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারা হেফাজতে মারা যান। রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে বাথরুমে মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নওগাঁ জেলা কারাগারে মৃত্যু হয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদের। রশিদ রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

জানুয়ারির ১১ তারিখ মারা যান পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রলয় চাকী। ঠিক দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মৃত্যু হয় আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবিরের। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন।

অন্যদিকে ২৫ জানুয়ারি মেহেরপুর জেলা কারাগারে বন্দী গোলাম মোস্তফা (৫৫) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়। গোলাম মোস্তফা মহাজনপুর ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

এছাড়া ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে মারা যান আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান মিয়া। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের বাসিন্দা এই আওয়ামী লীগ নেতা দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন।

‘সবাই অসুস্থ ছিলেন’

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে মারা যাওয়া এসব আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। এরা প্রত্যেকেই কারাগারে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

আবার ২০২৪ সালের শুধু নভেম্বর মাসেই বগুড়া জেলা কারাগারে চারজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তখন জানায়, এসব নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে ‘হার্ট অ্যাটাক’ কিংবা অন্যান‍্য ‘অসুস্থতায়’ এদের মৃত্যু হয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষের এমন দাবি তাদের পরিবারগুলো গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। এক মাসে চারজন মারা যাওয়ার ঘটনায় একজনের সন্তান গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার বাবা ‘কখনোই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন না’ এবং কারাগারে যখন তারা সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন তখনও কোনো অসুস্থতার কথা তার বাবা তাদের জানাননি।

এভাবে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের মৃত্যু হয়। কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তিনি। কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে থেকেই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায়, মেলেনি জামিন

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কারাবন্দি এসব আওয়ামী লীগ নেতাদের আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিনের জন্য বহুবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারা জামিন পাননি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর সহকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করে রিমান্ড দাবি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেননি এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কিন্তু তারপর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার আগপর্যন্ত নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের আইনজীবীরা আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবুও জামিন পাননি গুরুতর অসুস্থ সাবেক এই মন্ত্রী।

একইভাবে ভীষণ অমানবিক ঘটনা চট্টগ্রামের আবদুর রহমান মিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। ৭০ বছর বয়সী এই আওয়ামী লীগ নেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসা আর শেষ সময়ে তিনি যেন একটু ভালো থাকতে পারেন সেই চেষ্টায় আব্দুর রহমান মিয়ার পরিবার বহুবার ছুটে গেছেন আদালতে। কিন্তু বাংলাদেশের আদালতে জামিন হয়নি তার, কারাগার থেকে জামিন পেয়েছেন সৃষ্টিকর্তার আদালতের মাধ্যমে!

মানবাধিকার নিয়েই প্রশ্ন

কারা অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, দেশের ৭২টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৮৭ হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে বেশ বড় অংশই রাজনৈতিক বন্দি। শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১৩১ জন ভিআইপিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপি, সচিব, বিচারপতি ইত্যাদি রয়েছেন।

আরও পড়ুন

কারাবন্দি এসব ব্যক্তিদের অনেকেই বয়স্ক এবং গুরুতর অসুস্থ। বন্দি ব্যক্তিদের অনেকের পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, এসব রাজনৈতিক বন্দিদের সঠিক চিকিৎসাও জুটছে না। অসুস্থ অবস্থায়ও রাজনৈতিক বিবেচনায় আটকে রাখা হচ্ছে কারাগারে। তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নানারকম নির্যাতন। এমনকি খাবার এবং ওষুধ পর্যন্ত ঠিকমতো জুটছে না। পাশাপাশি আদালতে বার বার আবেদন করা হলেও জামিন মিলছে না কারও।

মানবাধিকার সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ বলছে, ‘২৪ সালের অভ্যুত্থানের আগেও কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক ছিল এবং অভ্যুত্থানের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি।’ সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট পুরোপুরি ভায়োলেট করা হচ্ছে। গত সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম, কিন্তু নতুন সরকার আসার পরও পরিবর্তনের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।’

এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রচলিত গুম, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি অনেকাংশে কমেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিবেচনায় হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে আটক করেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী হত্যা মামলায় কারাবন্দি। বিচারহীন অবস্থায় আটকে থাকা এসব ব্যক্তির জামিন নিয়মিত নাকচ করা হচ্ছে। এ তালিকায় অভিনেতা, আইনজীবী, গায়ক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও রয়েছেন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ ও ব্যাগ নিয়ে যাত্রীদের আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সম্প্রতি দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল। তবে জাপান থেকে ফেরার পথে উড়োজাহাজের ডানার পেছনের অংশে থাকা ফ্ল্যাপে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি উড়োজাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক নয়। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে জাপানের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বর্তমান টার্মিনাল ১ ও ২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করা হবে। তবে টার্মিনাল দুটি পরিত্যক্ত রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পুরোনো দুটি টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া সরকার নতুন একটি বাজেট এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে। এর কার্যক্রমও টার্মিনাল ১ ও ২-কে কেন্দ্র করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় প্রয়োজন। আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। তাই আপাতত বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার উন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। আরটিভি/এসকে
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তারা যেন সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। শ্রমিক নেতাদেরও নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে না। হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস দেন। তি‌নি ব‌লেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে এই সংকটকালীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ, আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ সময় ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তি‌নি ব‌লেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের ম‌নোভাব বা সমর্থ‌নে আমরা খু‌শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে জালিল রাহিমি ব‌লেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স‌ঙ্গে সমঝোতার মা‌নে আত্মসমর্পণ। এটা কখ‌নো মে‌নে নে‌বে না ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পূর্ণ শক্তিতে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান কখনোই কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি এ অঞ্চলে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তি‌নি বলেন, এই দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে।  ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। পরে তাকে পরিবর্তন করে সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এ দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলন কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক শ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কথা তুলে ধরে আসছে। আরটিভি/টিআর
মালিক-শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে
তার সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ রাজিব ঘোষকেও। বর্তমানে তারা ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে, যা জানা যাচ্ছে