
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ দিনটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে দেশজুড়ে ভোটের প্রচার-প্রচারণায় নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনি পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে ভোটের দিন নারী ভোটারদের জন্য কিছু বিষয় জানা ও মানা জরুরি।
কেন্দ্রে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি
ভোটের দিন যেন হুড়োহুড়ি বা ভোগান্তিতে না পড়তে হয়, সে জন্য আগেই পরিকল্পনা করে বের হওয়া ভালো। নিজের ভোটকেন্দ্র কোথায়, কোন বুথে ভোট দেবেন এ তথ্য আগেই জেনে নিন। জাতীয় পরিচয়পত্র বা বৈধ ভোটার আইডি অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। স্মার্ট কার্ড থাকলে সেটি নিয়ে যাওয়া ভালো। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য নারী সদস্যদের সঙ্গী করে একসঙ্গে কেন্দ্রে গেলে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য দুটোই বাড়ে।
পোশাক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
ভোটের দিন আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরা ভালো, যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কষ্ট না হয়। গহনা বা অতিরিক্ত মূল্যবান জিনিস না নেওয়াই নিরাপদ। ব্যাগ বা মোবাইল ফোন নিজের কাছে নিরাপদে রাখুন। ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করাই ভালো।
কেন্দ্রে আচরণ ও সহায়তা
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও ভোটদানের সময় শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখুন। কোনো প্রকার উত্তেজনা বা তর্কে জড়ানো থেকে বিরত থাকুন। প্রবীণ নারী, প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অসুস্থ ভোটারদের জন্য কেন্দ্রে সহায়তার ব্যবস্থা থাকে, প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ধৈর্য ধরুন, অন্য ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখান।
ভোটের গোপনীয়তা ও অধিকার
প্রত্যেক নারী ভোটার নিজের পছন্দ অনুযায়ী গোপনে ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। কারও চাপে বা প্ররোচনায় পড়ে ভোট দেবেন না। ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে। প্রয়োজনে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহিত করুন।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা
ভোটের দিন কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে নিজে ঝুঁকিতে না গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানানোই নিরাপদ পথ। গুজব বা ভুয়া তথ্যের ফাঁদে পড়বেন না, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কোনো খবর যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করবেন না।
আরটিভি/এমএইচজে




