ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কোন দল কত আসন পেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ এএম
ফাইল ছবি

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোট গণনা পর্ব। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শেষে আসতে শুরু করেছে ফল।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ২০১টি আসনের বেসরকারি ফল এসেছে আরটিভির হাতে।

এর মধ্যে ১৪১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি ও তাদের জোট প্রার্থীরা। অন্যদিকে ৫৭টি আসনে জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। আর ৩টি আসনে জিতেছেন স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা।

সবশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আসনটিতে ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট।

ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আসনটিতে ৫৭ হাজার ৯২ ভোট ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হককে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। আসনটিতে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি জোট থেকে ট্রাক প্রতীকে দাঁড়ানো গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৫০ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আসনটির ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।

আরও পড়ুন

এর আগে, রাত ১১ টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, আসনটির ৪১টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন মোট ৫৬ হাজার ৩৮১ ভোট। এছাড়া, বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত বগুড়া-৬ আসনেও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন তিনি।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় এসেছে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের হাত ধরে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেছেন তিনি। এই আসনের মোট ৬২টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ধানের শীষের প্রার্থী শুরু থেকেই ভোটের দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪০২ ভোট। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল প্রায় ২৮ হাজার ১৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জমান কামরুল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭২ হাজার ৫২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে কামরুজ্জমান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০৫ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১৭৬ ভোট।

এছাড়া, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। চিরচেনা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকা জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট।

অর্থাৎ, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপিকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২ ভোটের বিশাল ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

কিশোরগঞ্জ ৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির আরেক আলোচিত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট। অর্থাৎ, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুর রহমান।

জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির হয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন মো: আব্দুল বারী। আসনটির ১০৪ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী রাশেদুল আলম সবুজ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১২ ভোট।

এদিকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে হার মেনে নিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।

অন্যদিকে আলোচিত কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এই আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের সবকটিতেই আধিপত্য দেখা গেছে শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থীর।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মেহেরপুরের আসন দুইটি। সেখানে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত ও জোটপ্রার্থীরা। এর মধ্যে মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ১২৩টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে যে, জামায়াত সমর্থিত জোটপ্রার্থী তাজউদ্দীন খান তার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট।

আর মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হুদা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট। এই আসনে দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৭৯।

উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় আজ ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নভেম্বর ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার
বাংলাদেশে সফর আস‌ছেন জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ। তি‌নি আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন।
নভেম্বর ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার
বাংলাদেশ কারও স্বার্থে নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান কিনবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কোনো দেশ বা পক্ষকে খুশি করতে নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশ কারও স্বার্থে নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান কিনবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’— প্রচারাভিযান ১ ডিসেম্বর থেকে
পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন। দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও ম্যানপাওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। আরটিভি/টিআর
‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’— প্রচারাভিযান ১ ডিসেম্বর থেকে
ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকার ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যুক্ত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও ম্যানপাওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।   দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। আরটিভি/টিআর
ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন
এবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী
এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ আজ, জানবেন যেভাবে
এসএসসির ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু যেদিন 
এসএসসির ফল জানতে এসএমএসে যুক্ত হলো নতুন নম্বর