ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে এক পোস্টে এ অভিনন্দন বার্তা দেন তিনি।

অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন । আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পরিশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক—এই কামনা করি। মহান আল্লাহ্ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এই আন্দোলন শ্রমিকদের আন্দোলন নয়, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশেকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ অভিযোগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নয়, এমন কিছু ব্যক্তি আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিকও রয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারা এর সঙ্গে জড়িত। অশান্তি সৃষ্টি করতে তাদের একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তারা দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন, হয়তো কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করছে। আর সেটা এখানে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা কঠোর হাতে সেটা দমনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পক্ষে আমরা সবসময় কথা শুনতে রাজি। এজন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে, তারা সেখানে যাবে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সবাই স্বীকার করেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়। বিভিন্নভাবে একটা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে, শ্রমিকদের ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করা। সেটা যথেষ্ট সময়ের আগে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির নাম দিতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তা না হলে আরও দু’সপ্তাহ আগেই বোর্ড গঠন করতে পারতাম। মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং অন্যান্য যারা রয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন। অতীতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর যে মজুরি নির্ধারণ হতো, তার মধ্যে কী হারে বৃদ্ধি হয়েছিল, সেটাকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করবেন, তারপরে তিন দিয়ে গুণ করবেন। ইকোনমিক ভ্যালু কীভাবে হয়েছে, কীভাবে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেবেন। তিনি আরও বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি, মালিকপক্ষের যুক্তি, শ্রমিকপক্ষের যুক্তি মিলে একটা যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে। মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটা মজুরি বোর্ড দেখবে। তবে আমরা বলেছি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যেন সেটা ঘোষণা হয়। যাতে শ্রমিকদের জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকর হয়। আরটিভি/টিআর
এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গণমাধ্যমেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার গণমাধ্যমেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে বার্তা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। 
গণমাধ্যমেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
২০২৭ সালে ঈদ ও পূজায় ছুটি থাকবে কতদিন
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, পবিত্র ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটি থাকবে।
২০২৭ সালে ঈদ ও পূজায় ছুটি থাকবে কতদিন
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খানের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার রুনা খানকে তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এ ধরনের অর্জন সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। মানবকল্যাণ, সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে নিবেদিত ব্যক্তিদের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে। এ সময় তারা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।  ডেপুটি স্পিকার রুনা খানকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ। মতবিনিময়কালে ডেপুটি স্পিকার তার নিজ জেলা নেত্রকোণার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহন, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, জীবিকার তাগিদে হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ নানা পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ একসময় এ হাওরাঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে এ অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। হাওরের জলমহাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। অথচ প্রকৃত জেলেদের জীবিকা ও অধিকার সুরক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সাধারণ জেলে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডেপুটি স্পিকার, হাওরাঞ্চলের রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, হাওরকে শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা না করে জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে দেখতে হবে। ডেপুটি স্পিকার নেত্রকোণার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রুনা খান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রুনা খান নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফ্রেন্ডশিপ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খানের সাক্ষাৎ
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
বড়দিন উপলক্ষে চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি