ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ফ্যামিলি কার্ডে’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা, অগ্রাধিকার পাবেন যারা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
প্রতীকী ছবি

দেশে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর এ তথ্য জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।

সভায় কৃষিমিন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হবে। এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। হতদরিদ্র পরিবার সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এরপর দরিদ্র পরিবার পাবে।

তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কিভাবে করবে, সেটা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেও প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। সবচেয়ে আগে এতে হতদরিদ্ররা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে।

আরও পড়ুন

এ কমিটির কাজের মধ্যে আরও আছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার আন্ত যোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে মঙ্গলবারের (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না। এই কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে যাবে। এটি দেওয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে।

‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা’ কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। এর অন্য সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দেন। সেখানে অন্যতম ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। সে সময় বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্য-সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়।

আরটিভি/ এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চিনি, ইউরিয়া ও এমওপি, ডিএপি সার এবং এলএনজিসহ মোট ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। 
ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
খাদ্যে অনিয়ম ঠেকাতে ৮ মাসে ৭৪৪ অভিযান, জরিমানা ৩ কোটি টাকা
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
খাদ্যে অনিয়ম ঠেকাতে ৮ মাসে ৭৪৪ অভিযান, জরিমানা ৩ কোটি টাকা
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে যা জানালেন ইসি
নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ইসি সানাউল্লাহ। তার আশা, সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়েই আগামী ২৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে যা জানালেন ইসি
৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ ডব্লিউএইচওর
টিকার আওতা বাড়াতে সহায়ক হলে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত মানবদেহে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশগুলোকে সুপারিশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা। জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (সেজ) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট মঙ্গলবার এ সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১৬৫টি দেশ ইতোমধ্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইচপিভি) টিকা চালু করেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তবে বিশ্বব্যাপী এইচপিভি টিকাদানের হার ৩৩ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।’ ডব্লিউএইচওর মতে, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী সব মেয়ের জন্য এইচপিভি টিকাদান অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একই বয়সভিত্তিক সূচি ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। আর ২১ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। হালনাগাদ গবেষণালব্ধ প্রমাণ পর্যালোচনার পর সেজ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। স্কট বলেন, ‘টিকা গ্রহণের হার ও আওতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে জরায়ুমুখ ক্যানসার হয়। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল এটি। ওই বছর এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান। ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন বলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে। সেজ সুপারিশ করেছে, এক ডোজের এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের এ সুযোগ সম্প্রসারণ, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সবশেষে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত। আরটিভি/এসকে
৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ ডব্লিউএইচওর
আরও পড়ুন
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড অনিয়ম: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইউএনওকে স্মারক প্রদান
ছাত্রলীগ অভিযোগে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে ৪ জনকে বাদ
ফ্যামিলি কার্ড: তথ্য সংগ্রাহক তালিকা বাতিলে ইউএনওর কার্যালয় ভাঙচুর