ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ড: তথ্য সংগ্রাহক তালিকা বাতিলে ইউএনওর কার্যালয় ভাঙচুর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ফলে ছড়িয়ে চিটিয়ে আছে চেয়ার : ছবি আরটিভি

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রাহক তালিকা বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয় ভাঙচুর ও সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করে ইউএনও অফিসে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। দুই জায়গায় একই ধরনের ঘটনায় অন্যান্য উপজেলাতেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিএনপি, যুবদল-ছাত্রদলের নেতা-কর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিতরা এ বিক্ষোভ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ দিন সকালে উপজেলা প্রশাসন ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা প্রকাশের বিষয়টি জানাজানি হলে বেলা একটার দিকে বিএনপির যুবদল-ছাত্রদলের নেতা-কর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিতরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামও আছে। তারা এই তালিকা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন

এ সময় ইউএনও কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় একটি অফিসকক্ষের জানালা ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অবিলম্বে এ তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় তাদের নামও আছে। এ কারণে দলীয় নেতা-কর্মী ও নিয়োগবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে ফুলছড়ির ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল ধরেননি।


সুন্দরগঞ্জে ইউএনওর কার্যালয়ে তালা
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুন্দরগঞ্জেও বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ দিন দুপুরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন।

বিক্ষোভের সময় ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের দাবি, প্রকাশিত নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে।

আরও পড়ুন

মঙ্গলবার সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। তালিকা দেখে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের বাহিরগোলা মসজিদ মোড় থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। পরে ইউএনও’র কার্যালয়ের মূল ফটকেও তালা দেয়।

এ সময় ‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানব না’, ‘লীগের দোসর ইউএনওকে অপসারণ করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিউজ্জামান মণ্ডলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

বক্তারা অভিযোগ করেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী ও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকায় পুরো কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নিয়োগ বাতিল করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ঈফফাত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাজীব কুমার বাগচী বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় চার হাজার আবেদনের মধ্যে সুপারভাইজার পদে ১৯ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ২০৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডগুলোই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এতে যোগ্যরাই নিয়োগ পেয়েছেন।

আরটিভি নিউজ/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
‘দাদি, হেঁটে যাচ্ছেন কেন? ট্রেনে উঠে আসেন।’ ট্রেনের যাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধার উত্তর, ‘না, আজ ট্রেনে যাব না। আমার একটু তাড়া আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
সাতক্ষীরা সদরে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
ভবন নির্মাণের সময় আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ মন্ত্রী
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
ভবন নির্মাণের সময় আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ মন্ত্রী
বারবার বারণেও তালাক দেওয়া স্ত্রীর কাছে যাওয়া থামাননি দুলু মিয়া! পরে মিলল মরদেহ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চটানপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কাঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি বড়চওনা রফিকরাজু স্কুলের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুলু মিয়ার প্রথম স্ত্রী আসমা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার তালাক হলেও ওই বাড়িতে দুলু মিয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমরা বারবার বলেও তাকে ফেরাতে পারিনি। ওরাই আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। অন্যদিকে দুলু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, তালাকের পর দুলু মিয়ার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। নিহতের ছেলে আজহার মিয়া বলেন, তার বাবা গত রাতে দোকানে চা পান করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আবার বাইরে বের হন। এরপর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার বাবার মরদেহ রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এমএইচজে
বারবার বারণেও তালাক দেওয়া স্ত্রীর কাছে যাওয়া থামাননি দুলু মিয়া! পরে মিলল মরদেহ
আরও পড়ুন
শাহজালালে সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রী
৭০% কাজ শেষ, এর মাঝেই বাতিল হলো নবগঙ্গা সেতুর চুক্তি
চলতি মাসে একদিনের ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
১৭ অক্টোবর ছুটি বাতিল