সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ ইলেকশন: হোয়াট নেক্সট?’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় হাইকমিশনার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) আয়োজিত আলোচনা সভাটি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কমিটি রুমে অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ এমপি আপসানা বেগম।
আলোচনায় বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন, চ্যাথাম হাউজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সিতেজ বাজপেয়ী এবং ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (আইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সোহেলা নাজনীন।
অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, এমপি রূপা হক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আবিদা ইসলাম বলেন, সরকার সব বাংলাদেশির জীবনমান উন্নয়নে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদে’-এর সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।
নতুন সরকারের অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হল বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।
তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন প্রকল্পকে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আবিদা ইসলাম বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির মূল দর্শন হল সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ব্যারোনেস উইন্টারটন। একইসঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাজ্যের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিজের বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক এই বাণিজ্য দূত বলেন, স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া সম্পদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উইন্টারটন জানান, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বা আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার সহযোগিতা করছে।
আলোচনা শেষে সিতেজ বাজপেয়ী তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় প্রত্যাশিতই ছিল।
আরটিভি/আইএম





