ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে নয়, বাইরে নেওয়া হতো: এম সাখাওয়াত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বড় বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে না নিয়ে বাইরে নেওয়া হতো।

তিনি বলেন, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা যারা দ্বিমত করেছি, সেগুলো ছোটখাটো বিষয় ছিল। যেমন সূচি বাদ দেওয়া ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না। এগুলো কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো।

তিনি বলেন, সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে—এমন মন্তব্য শুনেছি। তবে সেখানে কারা ছিলেন, তা জানি না। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, আমি সেখানে ছিলাম না।
হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না। তারা ধরে নিয়েছে, আমি তাদের সঙ্গে একমত হতে পারব না। যারা এসব করেছে, তারা পরিচিত। আমি শুধু নাম শুনেছি। তারা আমার সহকর্মী ছিলেন।

পুলিশ পুনর্গঠন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশের পুনর্গঠনই ছিল আমার প্রধান লক্ষ্য। সে সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে, পুলিশ মাঠে নামতে চাইছিল না। অনেক থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক। পুলিশের কিছু দাবিদাওয়া ছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে অনেক বোঝাপড়ার মাধ্যমে পুলিশ মাঠে নামে। ট্রাফিক পুলিশও দাঁড়াতে চাইছিল না। তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সে সময় প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু উদ্ধার করা গেলেও প্রায় এক হাজারের বেশি রাইফেল ও পিস্তল তখনো নিখোঁজ ছিল। এসব অস্ত্র বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।

আরও পড়ুন

কেন তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো—এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সে সময় কিছু বক্তব্য দিয়েছিলাম, যা তখনকার প্রেক্ষাপটে সঠিক মনে হয়নি। আমি যে কথাটা বলেছিলাম, তা খণ্ডিতভাবে গণমাধ্যমে এসেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি খারাপ হয়েছে।

নিজে দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তখন তাকে অনুমতি দেননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ৭-৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে খারাপ বার্তা যাবে—এই কথা বলে আমাকে থাকতে বলা হয়েছিল।

৭.৬২ বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেল প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টির এখনো সমাধান হয়নি। আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু ব্যক্তি পুলিশের রাইফেল নিয়ে গুলি চালাচ্ছে। এগুলো খুব মারাত্মক অস্ত্র, যা সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুলিশের কাছে এসব থাকার কথা নয়। কবে ও কেন এসব অস্ত্র পুলিশের কাছে দেওয়া হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল। তবে দায়িত্বে না থাকায় তিনি সে উদ্যোগ নিতে পারেননি।

তিনি জানান, তার কাছে কিছু সন্দেহজনক ছবি রয়েছে, যেখানে দেখা যায় কয়েকজনের চেহারা ও গঠন স্থানীয়দের মতো নয়। কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে ওঠাতেও দেখা গেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না। পৃথিবীর কোথাও একশ ভাগ খাঁটি নির্বাচন হয় না। আমাদের দেশেও হয় না। আমাদের দেশে টানা তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসন পেয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ঘটনা।

বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো গোপন চুক্তি হয়নি। এসব চুক্তি সাধারণত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পিপিপি অথরিটি বাংলাদেশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এসব চুক্তিতে সাধারণত ‘নন-ডিসক্লোজার ক্লজ’ থাকে, যা প্রকাশ করা যায় না। আমেরিকান কম্পানির শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ৫ শতাংশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল।

বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সব ক্ষেত্রে নয়, তবে কিছু বিষয়ে চাপ ছিল। বিশেষ করে বাণিজ্য আলোচনায় বড় ধরনের চাপ ছিল। আগের সময়ে নীতিনির্ধারণ ছিল অনেকটাই দিল্লিকেন্দ্রিক। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পেছনেও এই প্রভাব স্পষ্ট।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রথম দিনেই তিনি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। আরটিভি/টিআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশ আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একইসঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিমান ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাওয়ায় তিনি উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিট। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয়পক্ষের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠেয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি অপেক্ষায় রয়েছেন। বিমান কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার অতিরিক্ত হিসেবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে। তবে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়নের শর্ত এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, বিমান আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পৃথক একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। আরটিভি/টিআর
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন  প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
আরও পড়ুন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
নিজের চিকিৎসায় ৮২ লাখ টাকা খরচের ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা
‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতি আছে, তদন্তের দরকার নেই’
বাণিজ্য চুক্তিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সম্পৃক্ততা ছিল না: তৌহিদ হোসন