দেশের এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশি-বিদেশি ১৬০০ মুসল্লি

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৭:১৭ পিএম


দেশের এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশি-বিদেশি ১৬০০ মুসল্লি
ইতিকাফে বসা দেড় সহস্রাধিক মুসল্লির মধ্যে বিদেশি নাগরিক আছেন ৭৫ জন। ছবি: সংগৃহীত

সারাবিশ্বে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। মহিমান্বিত রমজান মাসের গুরুত্ব সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে অপরিসীম। আর এই রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। 

বিজ্ঞাপন

এখন চলছে নাজাতের শেষ দশ দিন। পবিত্র রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা একটি জরুরি আমল। এ সময় সারা দেশে সুন্নত ইতিকাফে বসেন মুসল্লিরা। সাধারণত রমজান মাসের শেষ দশকে মুসল্লিরা ইতিকাফে বসেন। এটিকে সুন্নত ইতিকাফ (সুন্নতে মুয়াক্কাদা) বলে। নফল ইতিকাফে (বছরের যেকোনো সময় এই ইবাদত করা যায়) বসার চলন খুব একটা নেই। 

কিন্তু যশোরের একটি মসজিদে এবার ইতিকাফে বসেছেন দেড় সহস্রাধিক মুসল্লি; যাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক আছেন ৭৫ জন। তারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আটটি দেশ থেকে এসেছেন। রয়েছেন বাংলাদেশি মুসল্লিরাও। 

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

এবার যশোরের আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডে অবস্থিত মসজিদে পয়লা রমজান থেকেই নফল ইতিকাফে বসার জন্য হাজির হতে থাকেন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা এলাকার এই মসজিদটিতে দিন যাওয়ার সাথে সাথে ইতিকাফে বসা মুমিনের সংখ্যা বাড়ে। 

২২ রমজানে পাওয়া হিসেব অনুযায়ী এখানে সুন্নত ইতিকাফে রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি। এদের মধ্যে বিদেশির সংখ্যা ৭৫। তারা এসেছেন প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার ছাড়াও এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর, এমনকি ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও সুদূর পানামা থেকে।

বিজ্ঞাপন

মসজিদটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ আশরাফুল মাদারিসের মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ জানান, এমন বড় পরিসরে ইতিকাফ হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে। ২০২৩ সালে প্রথম তাদের মসজিদে বড় পরিসরে ইতিকাফ হয়। এর আগে-পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড, চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, যশোরের মাছনা মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদ প্রভৃতি স্থানে এমন বড় পরিসরে ইতিকাফে বসেছেন মুসল্লিরা।

আশরাফুল মাদারিস ঘুরে দেখা যায়, বিশাল কম্পাউন্ডের পশ্চিম-উত্তর অংশে রয়েছে চার তলাবিশিষ্ট একটি সুপরিসর মসজিদ। এই মসজিদটিতে একযোগে সহস্রাধিক মুসল্লি ইতিকাফ করতে পারেন অনায়াসে।

আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষা সচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহির (র.) সিলসিলার অনুসারীরাই মূলত এখানকার ইতিকাফে শামিল হন। দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়খ ইবরাহিম আফ্রিকি এখন এই সিলসিলার প্রধান ব্যক্তিত্ব। 

এই বুজুর্গ যেখানে যান, দেশ-বিদেশের উলামা ও অনুসারীরা সেখানে ছুটে যান তার সান্নিধ্য পেতে। এবার যশোরের আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণের মসজিদে এসেছেন শেখ ইবরাহিম আফ্রিকি। ফলে দেশের ৬৪ জেলার সবক’টি তো বটেই, বিদেশ থেকেও তার অনুসারীরা এসে হাজির হয়েছেন। 

ইতিকাফ চলাকালে নামাজের আগে শেখ ইব্রাহিম আফ্রিকিসহ দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমরা নসিহত পেশ করছেন। অন্য ভাষায় দেওয়া নসিহত অথবা জুমার খুতবা বাংলায় তর্জমা করে দেওয়া হয় মুসল্লিদের হৃদয়ঙ্গম করার সুবিধার্থে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই বিপুলসংখ্যক মুসল্লির ইতিকাফ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই বন্দোবস্ত করতে মাদরাসা ও মসজিদটিতে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। ইফতারি, রাতের খাবার ও সেহরির আয়োজন করা হয় নিজস্ব কম্পাউন্ডে। মাদরাসার শিক্ষক ও স্টাফ এবং ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ এই কাজে স্বেচ্ছাসেবা দিচ্ছেন। কম্পাউন্ডের নির্দিষ্ট স্থানে খাদ্য প্রস্তুতের সুবিশাল আয়োজন।

আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণে কথা হয় যশোর শহরের নলডাঙ্গা জামে মসজিদের খতিব মুফতি আরিফুল ইসলাম ফয়সালের সঙ্গে। তিনি জানান, বাংলাদেশি মুসল্লিদের জন্য যে খাবারের আয়োজন করা হয়, বিদেশিরা তা খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট দেশের মানুষের খাদ্যাভাস অনুযায়ী খাদ্য প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়।

যশোর শহরের দড়াটানা মসজিদের খতিব এবং দড়াটানা মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী এবার সুন্নত ইতিকাফে বসেছেন আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণের মসজিদে। ১৮ রমজানে তিনি বলেন, ইতিকাফে থাকা মুসল্লিদের খেদমতে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এখানকার খানকায়ে মাহমুদিয়ার ব্যবস্থাপনায়। 

মুসল্লিরা মূলত আল্লাহমুখী হওয়ার জন্য ইতিকাফে বসেন। ইতিকাফের উপযোগী পরিবেশ এখানে রয়েছে। ফলে ২০২৩ সালের চেয়ে এবার বেশিসংখ্যক মুসল্লি এখানে ইতিকাফে বসেছেন।

আরটিভি/এমআই 

 

 

 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission