
একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র বদলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। ধারাবাহিকভাবে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিকীকরণ নিয়ে।
ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সময়ের অস্থিরতা বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে স্নাতক পর্যায়ে তিনজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন একজন। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। তবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে আটজন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু পরের শিক্ষাবর্ষেই আবার কমে আসে এ সংখ্যা। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রাবিতে ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাদের মধ্যে জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে দুজন, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে তিনজন এবং কেমিস্ট্রি বিভাগে একজন রয়েছেন।
এছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন। তাদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগে এমফিল পর্যায়ে সোমালিয়ার একজন, ফোকলোর বিভাগে ভারতের দুজন, ইতিহাস বিভাগে ভারতের একজন এবং আরবি বিভাগে ভারতের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি ফোকলোর বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ে ভারতের আরও একজন শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন।
বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে ভর্তি প্রক্রিয়া ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন নেপালের শিক্ষার্থী সুমিত। তিনি আরটিভিকে বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ভর্তি হওয়ার পরও অনেকে চলে যান।
ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, এম্বাসির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া ও ভর্তির সুযোগ থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভিসা জটিলতার কারণেও অনেকে রাবিতে আসতে আগ্রহী হন না।
বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশিদ আলম আরটিভিকে বলেন, আগে রাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু মাঝের সময়ের বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তাদের সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে আন্দোলনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী হয়তো এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়নি কিংবা ভর্তিপ্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবারও রাবির প্রতি আকৃষ্ট করতে একাডেমিক প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ আরটিভিকে বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে তাদের সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাগজপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে যথাযথভাবে আনা হলে বিষয়টি যাচাই করা সহজ হয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক আলাদা ক্রাইটেরিয়া ও গাইডলাইন রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী সেই শর্ত পূরণ করলে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাকে গ্রহণ করলে ভর্তি করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
আরটিভি/জেএমএ



