ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, বিশেষ দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ দরবারে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে প্রতিটি সদস্যকে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতে সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বিশেষভাবে বিডিআর বিদ্রোহ বা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডির মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এই বাহিনীকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনসহ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীকে আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার সময় থেকেই সেনাবাহিনীর মধ্যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা মনোভাবের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। সেই অনুপ্রেরণা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ঐক্যবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বিশ্বের কোনো শক্তি বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের জন্য এক বিশাল আন্তর্জাতিক সম্মান। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকারের আমলেই এই অর্জন বৈশ্বিক অঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং এই ধারা ভবিষ্যতে আরও বেগবান করা হবে।

শুধু সশস্ত্র বাহিনী নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে আমূল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষের উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির জন্য তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে একটি সুদূরপ্রসারী রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 
জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
শিক্ষায় প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিকতা নিশ্চিতের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বকে এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যেন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি সততা, নৈতিকতা এবং মানবিক মর্যাদার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিকতা নিশ্চিতের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ‘একটি শিশুও বিদ্যালয়ের বাহিরে থাকবে না।’
বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার কথাও বলেন তিনি।  সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’  ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।’ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছিল, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল, তখনো কিন্তু আন্দোলনকারী একজন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেনি, ভাই আপনি কি মুসলমান, নাকি আপনি হিন্দু, নাকি আপনি বৌদ্ধ, নাকি আপনি খ্রিস্টান? কেউ তো জিজ্ঞেস করেনি। সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো মাত্র আড়াই বছরও হয়নি বোধ হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে। সেই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ?’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। এই যে যারা শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিস্টানও আছে। সকলেই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশটির যদি পরিবর্তন ঘটে, এ দেশের মানুষের যদি পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব।’ তিনি বলেন, ‘যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।’ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।’ আরটিভি/ এসকেডি  
সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
পতিত সরকারের আমলে আলেমদের অকথ্য নির্যাতন করা হতো: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও কারাগারে দুঃসহ বন্দিজীবনে রাখা হতো।
পতিত সরকারের আমলে আলেমদের অকথ্য নির্যাতন করা হতো: রাষ্ট্রপতি
আরও পড়ুন
নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের জন্য সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর