ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

খুব শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ছবি: আরটিভি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম খুব শিগগিরই আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালয়েশিয়া সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সয়ম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের জন্য মালয়েশিয়া সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কম খরচে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যেন না থাকে, সে জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, বিষয়টিতে দুই দেশের সরকারই ইতিবাচক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আগ্রহী, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন।

গত বুধবার মালয়েশিয়ায় সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি ছিল প্রথম সফর।
এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি ।

এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমন রামকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সফরের সময় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন।

মালয়েশিয়া সফর শেষে শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশে ফেরেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। শ্রমিক পাঠানো কবে শুরু হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন যে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মালয়েশিয়ার সব সেন্ডিং কান্ট্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাদের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা এজেন্সি নির্বাচন করে।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই। মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ জানিয়েছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন বিশেষভাবে ওনারা বিবেচনা করেন। এবং সেই প্রতিশ্রুতি ওনারা দিয়েছেন যে সামগ্রিকভাবে আলাপ -আলোচনার মাধ্যমে আমাদেরকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে আলাদা নিয়মে কোনো কিছু করার সুযোগ থাকবে কি না।

‘আমরা মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষায় কীভাবে ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে, বিশেষভাবে টিচার এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন দ্বার উন্মুক্ত করা যায় কি না -তা নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেই বার্তা আমরা পৌঁছে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনায় যেটি উঠে এসেছে দুটো দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সহযোগিতা এবং গবেষণার জন্য কীভাবে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা যায় এবং দুই দেশের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের একসাথে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা আরও বেশি কোলাবোরেশন তৈরি করতে পারি।

‘আমরা আমাদের তিনদিনের এই স্বল্প সফরে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছি। একটি বার্তা খুব সুষ্পষ্ট। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নের দল হিসেবে একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে প্রধান লক্ষ্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কত দ্রুত কত বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে কাজ করতে পারবেন, জনশক্তি রপ্তানি করতে পারব সেটিই ছিল আমাদের মূল প্রাধান্য। এবং মালয়েশিয়া সরকারও বলেছেন আমরা যেভাবে ওনাদের সাথে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি এবং যেভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছি ব্যয় কমানোর জন্য এর আগে তেমন কোনো সরকার এতটা চাপ প্রদান করেনি।’

মাহদী আমিন বলেন, জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়। এবং আজকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম বড় ভিত্তি আমাদের বিদেশে থাকা কষ্ট করা লাখো লাখো কোটি মানুষের যে শ্রম ঘাম সেটি। সুতরাং বিএনপি সবসময় জনশক্তি রপ্তানিকে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি প্রধান বাহন মনে করে। এটি আমাদের জন্য গৌরবের একটা বিষয়। প্রবাসী কল্যাণে যে মন্ত্রণালয় সেটিও শুরু হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়। যার কারণে প্রবাসীদের কল্যাণ আমাদের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, এই বছর প্রথমবারের মতন আমাদের প্রবাসী ভাই -বোনেরা ভোট দিয়েছেন, যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এবং তার আলোকে আমরা সামনে ইনশাআল্লাহ প্রবাসী কার্ড শুরু করব। আমাদের প্রবাসী প্রতিটি ভাই এবং বোনদের পাশে আমরা থাকব। আমাদের নেতা গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার আলোকে আমাদের সর্বাঙ্গীন প্রচেষ্টা থাকবে যত দ্রুত সম্ভব বহির্বিশ্বের আমাদের জনশক্তি রপ্তানি আরও কীভাবে আমরা বৃদ্ধি করতে পারি আনস্কিল্ড, স্কিল্ড, সেমি স্কিল্ড প্রত্যেকটা ক্যাটাগরিতে। এবং পৃথিবীর যেই দেশে আমাদের প্রবাসী ভাই এবং বোনেরা রয়েছেন কীভাবে তাদের জীবনমান আরও উন্নত করতে পারি, কীভাবে ওনারা আরও একটু স্বাচ্ছন্দ্যে আরও নিরাপদে থাকতে পারেন সেটির জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গিয়েছিলাম। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বরণ করে নিয়েছেন, তিনি যেভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শুভকামনা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং আমাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে বলেছেন, সব সমস্যা ইনশাআল্লাহ আমরা একসাথে কাজ করে সামনে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করব, সেটি একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
একদিনে দেশের তিনটি বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি। এ সফর ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন ৫০ সেনা
হাইতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (জিএসএফ) যোগ দিতে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের ৫০ সদস্য।
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন ৫০ সেনা
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সহকারী প্রেস সচিব জানান, জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগান পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দেন। এছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব স্থানে সংস্কার দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক আরও জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি। আরটিভি/টিআর
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন
পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সেতুটির সর্বশেষ কংক্রিট ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ডেক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পথ আরও সুগম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা সেতুটি চালু হলে রাবনাবাদ নদীর তীরবর্তী চরিপাড়ায় অবস্থিত পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে খালাস করা পণ্য সরাসরি সড়কপথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরাও সরাসরি সড়কপথে বন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায় যে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরের আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শিল্পকারখানায় বন্দরের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে  বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত করা হবে।এর ফলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পাশাপাশি বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে টার্মিনাল এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের মাত্র কয়েক দিন আগেই পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিগত ৭ অক্টোবর সকালে চীনের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ফান ঝৌ-৬ (Fan Zhou-6) সরাসরি প্রথম টার্মিনালে নোঙ্গর করেছে। জাহাজটিতে আধুনিক পণ্য ওঠানো-নামানোর পাঁচটি সরঞ্জাম আনা হয়েছে। দুই বছর পর এই প্রথম টার্মিনালে বড় ধরনের পরিচালন সরঞ্জাম পৌঁছাল।  নদীর উপযোগী বিশেষ নকশায় নির্মিত সেতু আন্ধারমানিক নদীর উপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৮০ মিটার। এক্সট্রাডোজড প্রযুক্তিতে নির্মিত সেতুটির টাওয়ারের উচ্চতা ৫৮ দশমিক ৫ মিটার। সেতুর মূল ডেকের প্রস্থ ২৩ দশমিক ২ মিটার এবং সংযোগ ডেকের প্রস্থ ২১ দশমিক ২ মিটার। সেতুতে প্রতিটি দিকে দুটি করে মোট চারটি লেন রয়েছে । আন্ধারমানিক নদীতে নৌযান চলাচল সব সময় সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি মাত্র দুটি প্রধান পিলারের ওপর নির্মাণের নকশা করা হয়েছে। ফলে জাহাজ ও লঞ্চের নির্বিঘ্ন চলাচলের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ঠিক থাকবে। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পাইল স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি) এবং চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করছে। নির্মাণকাজ তদারকি করছে একটি কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। নতুন সম্ভাবনার প্রতীক  নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছানোয় সেতুটি স্থানীয় মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা নির্মাণস্থলের পাশের ছয় লেনের সড়কে জড়ো হচ্ছে নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণ অগ্রগতি দেখতে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, রাতে সেতুটিতে এমনভাবে আলোকসজ্জা করা হবে, যাতে তা শাপলা ফুলের আকৃতি ফুটিয়ে তোলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি শুধু যান চলাচলের সুবিধা বাড়াবে না; পায়রা বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় পরিবহন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং বন্দরের কার্যক্রম ও সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সেতুটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।  আরটিভি/টিআর
পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘অধ্যক্ষ সম্মেলন-২০২৬’। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে যে প্রক্রিয়ায়, মিলবে যেসব সুযোগ
মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
সাড়ে ৬ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ার স্বপ্ন, বিমানবন্দরে গিয়ে ইকবাল জানলেন ভিসা-বিমানের টিকিট ভুয়া