ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ই-ফাইলিং ও স্মার্ট অফিস ব্যবস্থাপনায় বদলে যাচ্ছে সরকারি সেবা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি দপ্তরে কাগজনির্ভর কার্যক্রম কমিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে দেশে ই-ফাইলিং ও স্মার্ট অফিস ব্যবস্থাপনার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ফলে সরকারি সেবায় সময় ও ব্যয় কমছে।

পাশাপাশি নাগরিক সেবা আগের তুলনায় অনেক সহজ ও কার্যকর হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এটুআই কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ই-নথি বা ই-ফাইলিং চালু রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তারা অফিসে উপস্থিত না থাকলেও অনলাইনের মাধ্যমে নথি নিষ্পত্তি, অনুমোদন ও দাপ্তরিক যোগাযোগ সম্পন্ন করতে পারছেন।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, মন্ত্রণালয়ের ৮০ শতাংশ ফাইলের কাজ এখন ডিজিটালভাবে করা হচ্ছে। এতে সরকারি ফাইল নিষ্পত্তিতে সময় কমে আসছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও দ্রুত কার্যকর হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির জানান, একসময় সরকারি ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যেতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেত।

বর্তমানে ই-ফাইলিং চালুর ফলে অনেক নথি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে যেমন প্রশাসনিক গতি বেড়েছে; তেমনি দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় দেরিও কমেছে।

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, আগে ফাইলে নোটশিট পরিবর্তনের সুযোগ থাকত। আবার অনেকে নিজেদের হীন স্বার্থে অনেক সময় ফাইলের নোটশিট পরিবর্তন করে ফেলত। এখন ডিজিটাল নথি হওয়ার কারণে আগের মতো নোটশিট পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ফলে দুর্নীতিও অনেকাংশে কমে আসছে বলা যায়।

তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা ঢাকা বা দেশের বাইরে থাকলেও তিনি ফাইলে তার সম্মতি দিয়ে সই করতে পারছেন। সময় অপচয়ের সুযোগ থাকছে না। এতে সরকারি কাজের গতি, ট্রান্সপারেন্সি ও স্বচ্ছতা বেড়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি অফিসগুলোকে ধাপে ধাপে ‘স্মার্ট অফিসে’ রূপান্তর করা হচ্ছে। এর আওতায় ই-ফাইলিং, ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ, অনলাইন মিটিং, ভার্চুয়াল দাপ্তরিক যোগাযোগ, অনলাইন ছুটি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল হাজিরা এবং সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মতো কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার ই-নথি বিভিন্ন দপ্তরে নিষ্পত্তি হচ্ছে।

এতে কাগজ, প্রিন্টিং ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ই-ফাইলিং চালুর ফলে বছরে বিপুল পরিমাণ কাগজের ব্যবহার কমেছে, যা পরিবেশবান্ধব প্রশাসন গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-ফাইলিং শুধু প্রশাসনিক আধুনিকায়ন নয়, এটি সরকারি সেবার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনছে।

ফাইল কোথায় আটকে আছে তা জানতে অতীতে নাগরিকদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হতো। এখন ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই নথির অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনগুলোতে ভূমি সেবা, নামজারি, বিভিন্ন সনদ প্রদান, লাইসেন্স নবায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রমেও স্মার্ট অফিস ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক সেবা বৃদ্ধির ফলে নাগরিকদের অফিসে উপস্থিতির প্রয়োজন কমছে এবং ভোগান্তিও হ্রাস পাচ্ছে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোমিন উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনার কারণে জরুরি সরকারি নির্দেশনা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের ই-নথি ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অফিস পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ই-ফাইলিং ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সব সরকারি দপ্তরে সমন্বিত ডেটা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব জানান, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করে সরকারি অফিস ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্তির সময় আরও কমবে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ই-ফাইলিং ও স্মার্ট অফিস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিক ও গতিশীল করে তুলছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তন নাগরিক সেবাকে সহজ করার পাশাপাশি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ই-ফাইলিং চালুর ফলে সেবাপ্রার্থীরা সরকারি সেবা গ্রহণে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। একসময় একটি আবেদন জমা দেওয়া, ফাইলের অগ্রগতি জানা কিংবা অনুমোদন পেতে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হত। এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে অনেক সেবা ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে।

সময় সাশ্রয়ের মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। অনলাইনে আবেদন জমা, নথি আপলোড এবং আবেদন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকায় বারবার সরকারি অফিসে যেতে হচ্ছে না। ফলে যাতায়াত খরচ ও কর্মঘণ্টার অপচয়ও কমেছে।

রাজশাহীর সেবাপ্রার্থী শারমিন আক্তার বলেন, ‘ই-ফাইলিংয়ের কারণে কাজের গতি বেড়েছে। আগে একটি ফাইল কোথায় আছে তা জানতে অনেক সময় লাগত, এখন কর্মকর্তারাও দ্রুত সাড়া দেন।’

দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর প্রতি নির্ভরতাও অনেকাংশে কমেছে। বিশেষ করে ভূমিসেবা, বিভিন্ন সনদ, লাইসেন্স নবায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের প্রবণতাও কমছে।

গ্রামীণ এলাকার সেবাপ্রার্থীরাও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজে গ্রহণ করতে পারছেন। এতে শহর-গ্রামের সেবাবৈষম্য কিছুটা হলেও কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন

নারী, প্রবীণ ব্যক্তি ও কর্মজীবীদের জন্যও ই-ফাইলিং বড় সুবিধা তৈরি করেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা দিনের পর দিন অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমে যাওয়ায় তারা সহজে ও দ্রুত সেবা নিতে পারছেন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-ফাইলিং শুধু প্রশাসনিক গতি বাড়াচ্ছে না, এটি নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাব্যবস্থা যুক্ত হলে সরকারি সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন লালন শাহ: দীনেশ ত্রিবেদী
ফকির লালন শাহকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন বলে অভিহিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বলেন, মানবসমাজের পথনির্দেশক লালন শাহের কালজয়ী দর্শন অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজিত ‘লালন সন্ধ্যা'য় এ কথা বলেন তিনি। লালনের দর্শন ও সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, লালন সাঁইকে নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। তাকে নিয়ে সামান্য পড়াশোনা করে আমার মনে হয়েছে, তিনি আমার মনের মানুষ। এ কথা দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি, তার বাণী, তার দর্শন সব মানুষের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, লালন সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন, এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও অনুপ্রাণিত করেছিলেন। লালন সাঁই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন। দুই দেশের মানুষের জন্য তিনি মানবতার এক চিরন্তন বাতিঘর। আলোচনা সভা শেষে মিলনায়তনে আগত লালন অনুরাগীদের বিমোহিত করেন শিল্পীরা। সুরের বৃষ্টিতে দর্শক শ্রোতাদের ভেজানোর পাশাপাশি সাঁইজির আদর্শে উদ্ধুদ্ধ হয়ে মানবপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার জন্যও দর্শক শ্রোতাদের আহ্বান জানান তারা। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন লালন শাহ: দীনেশ ত্রিবেদী
আরও সহজ হচ্ছে ভূমিসেবা, ঘরে বসেই মিলবে খতিয়ান
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে জমির রেকর্ড সংগ্রহ, খতিয়ান যাচাই এবং ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রেকর্ড রুমের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত আট কোটির বেশি খতিয়ান বা পর্চা ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আরও সহজ হচ্ছে ভূমিসেবা, ঘরে বসেই মিলবে খতিয়ান
নতুন কাঠামোয় আজ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, পাবেন না যারা
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী তিন মাসের বকেয়াসহ আজ রোববার থেকে বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের। এ লক্ষ্যে বেতন পরিশোধের প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার।  তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আপাতত পুরোনো কাঠামোতেই বেতন পাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে তাদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রের খবর, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেরই এখনো নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি।  বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেদন করেছেন। তবে এখনো এসব আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে। এদিকে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডভিত্তিক বেতনের অসংগতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিচের গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ওপরের গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে বেশি নির্ধারিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা। অথচ ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারী পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও দেখা দিয়েছে অসংগতি। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি পেলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমতে পারে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে পদোন্নতির পরও একজন কর্মচারীর মোট মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ এবং আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও সবার বেতন-ভাতা নির্ধারণের জটিলতা এখনো কাটেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন না পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া ও অতিরিক্ত অর্থ কবে নাগাদ সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আরটিভি/এসআর
নতুন কাঠামোয় আজ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, পাবেন না যারা
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
টাঙ্গাইলে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
সরকারের ‘বড় উদ্যোগ’, ছাই ফেলার জমিতে হবে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অব্যবহৃত জমিতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বিবেচনার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের ‘বড় উদ্যোগ’, ছাই ফেলার জমিতে হবে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলেন নবাব হোসেন
‘বৃক্ষ হত্যাকারীদের’ ধরতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিলেন ডেপুটি স্পিকার
বিপিসির শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল
ঈদের ছুটিতে মাঠ প্রশাসনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম চালু