ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০৮:২২ এএম
বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।

তিনি বলেন, সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে ধীরে ধীরে বিশ্বাস গড়ে উঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

বুধবার (৬ মে) রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের যেকোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সরকার সহায়তা দেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি- আমাদের সমস্যা অসংখ্য, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। আমাদের দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড যেটি আছে, এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে। বিশ্বাস রাখুন, এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে।

tarique

জনপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাই। রাষ্ট্র ও সমাজের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদেরকে সম্ভাব্য সব উপায় বের করা প্রয়োজন। আমাদেরকে পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি সবাই একটা ছোট্ট বিষয় মনে রাখি, সেটি হলো- একটি রাষ্ট্রের খুবই ক্ষুদ্র ইউনিট একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো, লক্ষ-কোটি পরিবারের সম্মেলনই হলো আমাদের এই রাষ্ট্র। সুতরাং পরিবারগুলো ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ সুসংহত হয়।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনে কেন্দ্রে ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এই বার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের পরিবারও অংশ নেয়।

গত ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জেলা প্রশাসকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এ ছাড়া ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সমাপনীতে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পুনর্মিলনীর এই অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য ও তিন বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। বক্তব্যের পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চার দিনের সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই আগামীকাল যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাবেন এবং যথারীতি কাজ শুরু করবেন। এই চার দিনের সম্মেলনে আপনারা একদিকে প্রশাসনিক বিষয়গুলো সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পেয়েছেন। অপরদিকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে অবগত হয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসব ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়, বরং এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার।

tarique2

ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা। জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সব যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমত পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ যদি সত্যিই রাষ্ট্রের মালিক হয়, তাহলে এই মালিকরা যখন অফিস আদালতে তাদের সমস্যা নিয়ে যান, তারা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন। সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।

তারেক রহমান বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করলে তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হন না, বরং একইসঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জনপ্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতেই হবে আমাদের। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে বলা যায়। আমাদের সরকার এমন একটি জনমুখী সরকার, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সম্মানের সঙ্গে দ্রুত সেবা পাবেন। এ বিষয়টি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন।

তিনি বলেন, আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতাও আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসের সামনে কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করাও খুব জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা তাদের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারের ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো আমাদের অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু জনমনের প্রভাব অনেক বেশি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরো মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে সচিবালয়ের অফিস থেকে আগারগাঁও শেরে বাংলা নগরে ‘বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানে গিয়ে যোগ দেন। এ সময় গাড়িতে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।  এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আরটিভি/এসআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের বৈঠক
নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে ন্যায্য স্থান দেওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের 
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল কোনো শর্তাধীন বিষয় নয়, বরং এটি সরাসরি ন্যায়বিচার এবং খোদ জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে ন্যায্য স্থান দেওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের 
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।’ এ সময় স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার আহ্বান জানান। দেশের প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না, দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর কখনও রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’ অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে চার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
আরও পড়ুন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়ন চান ড. সাইমুম পারভেজ
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
জাতিসংঘে ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান