ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

অর্থনীতি ঋণাত্মক অবস্থায়, ঘুরে দাঁড়াতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায় আছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত ২ বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জ্বালানি খাতে। তিনি জানান, শুধু জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের জাতীয় অর্থনীতি এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমীর খসরু বলেন, আগের সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা সেটিও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো রাষ্ট্রই ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এ সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করানো উচিত নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নষ্ট হয়।

মন্ত্রী বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঠিক অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব প্রস্তুতি ছাড়া আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

আরও পড়ুন

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সরকার কাজ করছে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চিকিৎসক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী হাসপাতালটির উন্নয়নকাজে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনারসহ আরও দুই ডিআইজিকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রজ্ঞাপনের অনুযায়ী, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) করা হয়েছে। আর পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. সাইয়েদুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিনকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদকে জিএমপির পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আরটিভি/এসআর  
পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দু’টির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের প্রতি সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের প্রতি সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।  সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির (পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল) মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে পিএসএ’র প্রস্তুত থাকার কথা ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, এটি চালু হলে বাংলাদেশের শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন। হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ পুলিশে ‘অতিরিক্ত আইজিপি’র নেতৃত্বে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্ত সহায়তার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (এসসিপি)-এর আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করলে মন্ত্রী এটিকে স্বাগত জানান। বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান। সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু, সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মৃথিনী ত্যাগরাজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের প্রতি সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি থাকবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী সব যানবাহনের টোল মওকুফ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ নভেম্বর-২০২৬ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’— উপলক্ষে জনসাধারণের সুবিধার্থে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টোল ফ্রি থাকবে। ফলে উল্লিখিত সময়ে এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী কোনো যানবাহনকে টোল প্রদান করতে হবে না। আরটিভি/এসআর  
বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি থাকবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল: ডা. জাহেদ
বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। সে কারণে পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ফলে সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তারপরও চলমান আন্দোলনে কয়েকজনের মধ্যে যে ধরনের সংহিস আচরণ দেখা গেছে, সেটা কোনোভাবেই পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারবে বলে মনে করি না। তবে যেহেতু তাদের কাছে লুটের অনেক টাকা আছে, কোথাও কোথাও নাশকতা করতে পারে। এর সঙ্গে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি হবে বলে মনে করি না। তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের পরও কোনো না কোনো সময় অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। ১৯৯১ সালে হেরে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। এখনও তিনি শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যত দিন উনি বেঁচে আছেন, তত দিন এ চেষ্টা করবেন বলে মনে করি এবং সেটাকে প্রতিহত করবো। স্বৈরাচারী সরকার ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য আছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো আন্দোলনে বিরোধীপক্ষকে দায়ী করার যে প্রবণতা, তা বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সরকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়েই বিরোধীপক্ষকে দায়ী করছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে আন্দোলন মোকাবেলা করতো তার চেয়ে অনেক ভালোভাবে মোকাবেলো করা হচ্ছে। তারপরও দু-একটি জায়গায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কোথায় গুলি করলে সবচেয়ে কম ক্যাজুয়ালটিতে নিবৃত্ত করা যাবে, সে চর্চাগুলো সরকারের অধীনে পুলিশ করবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইনে লেখা আছে, পুলিশ কোন পরিস্থিতিতে হত্যার জন্য গুলি করতে পারবে। পরিস্থিতি হলে পুলিশ লিথ্যাল উইপন ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু সেটা আইনি প্রক্রিয়ায়, আইনি নিয়মে অবধারিত ছিল কিনা, সে প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল: ডা. জাহেদ
আরও পড়ুন
কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক, চাঙা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ‘বড় উদ্যোগ’
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তির পথে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী