ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের

বাসস

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

অব্যবস্থাপনা, দখল এবং ভরাটের কারণে দেশের অসংখ্য খাল নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং পানি নিষ্কাশন সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় সরকারি খাল পুনঃখননে ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, খেয়াঘাট বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের মাধ্যমে খননকৃত মাটি ও বালি অপসারণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে একদিকে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় উন্নয়ন কাজেও মাটি ও বালির চাহিদা পূরণ হবে।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের খাল খনন সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ।

আরও পড়ুন

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু এখনও অনেক ছোট ও মাঝারি খাল পুনঃখননের বাইরে রয়ে গেছে।

পরিপত্রে জানানো হয়, সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ স্থাপন, মাঠ ভরাট, বসতভিটা উন্নয়ন ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে বিপুল পরিমাণ মাটি ও বালির প্রয়োজন হয়। এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি খাল খননে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে পুরো কার্যক্রম কঠোর প্রশাসনিক তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যয়ে খাল খনন ও খননকৃত মাটি-বালি অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে পারবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাল সরেজমিনে পরিদর্শন করে কতটুকু খনন প্রয়োজন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হবে।

প্রাক্কলনে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা এবং কত পরিমাণ মাটি বা বালি উত্তোলন করা যাবে তা উল্লেখ থাকবে। একই খালের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে আলোচনা বা লটারির মাধ্যমে খননকারী নির্বাচন করা হবে। বড় খালের ক্ষেত্রে খণ্ডে ভাগ করে একাধিক আবেদনকারীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং খননকৃত মাটি, বালি, আগাছা ও অন্যান্য বর্জ্য খালের অন্তত ১০ মিটার দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে।

কাজ শেষে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।

আরও পড়ুন

এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত নকশা বা প্রাক্কলনের বাইরে অতিরিক্ত খনন করা যাবে না। যদি অতিরিক্ত খননের কারণে পার্শ্ববর্তী জমি, স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ধরনের বিরোধ দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খননকৃত মাটি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য সরকার, উপজেলা পরিষদ বা অন্য কোনো সংস্থাকে কোনো প্রকার ফি বা মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। তবে পুরো কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে থাকবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কানুনগো, সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন অনুযায়ী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না তারা সেটি নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা খালে ব্যক্তি উদ্যোগে খননের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা ছোট ছোট খাল পুনরুদ্ধারে গতি আসবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও পরিকল্পনাহীন দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বহু খাল হারিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে। তাই খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে টেকসই করতে স্থানীয় জনগণ ও বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে খাল খননের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত মাটি উত্তোলন, অবৈধ বালু বাণিজ্য বা পরিবেশের ক্ষতি না ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ
শ্রমিক অসন্তোষ, মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘটনায় চাপে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। দীর্ঘদিনের মজুরি নিয়ে অসন্তোষ নিরসনে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আজ গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) শুধু সভা আয়োজন নয়, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিজিএমইএ, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম সভার মধ্য দিয়ে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি, মালিকপক্ষের সক্ষমতা এবং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। গত রোববার (১ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছয় সদস্যের এ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। একই দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।বাংলা সংবাদ বোর্ড গঠনের পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি। বর্তমানে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, শ্রমিকদের দাবি, এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।  দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও শ্রমিকদের আন্দোলন থেমে থাকেনি। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  ১ নভেম্বর বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। ওই দিন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মালিকপক্ষের মধ্যে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব মজুরি বোর্ডের সভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা কারখানাগুলো চালু রাখার চেষ্টা করছি। শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে শ্রমিকদের ভাঙচুর ও বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানোর দাবি রয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও মালিকপক্ষের সামর্থ্যের মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হবে না। একদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা-দুই দিক সামলাতে হবে বোর্ডকে।  তাই আজকের সভায় শুধু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু নয়, নতুন মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কী দিকনির্দেশনা আসে, সেদিকেই নজর থাকবে শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার। আরটিভি/এসআর
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
গাজীপুরে আন্দোলনের সময় আহত সেই পোশাক শ্রমিক মারা গেছেন
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের সময় গাজীপুরে আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক শেখ (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির ছেলে তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহফুজ। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তৌফিকের মরদেহ গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছেছে। আগামীকাল বুধবার তার দাফন হবে। কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিক মারা যান। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছয়ঘরিয়ে গ্রামে তার জানাজা হবে। এরপর গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। স্বজনরা জানান, তৌফিক ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। বাবার মৃত্যুর পর জীবন-জীবিকার তাগিদে তৌফিক এক বন্ধুর মাধ্যমে গাজীপুরের পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তিনি বাংলাবাজার এলাকায় বাসা ভাড়ায় বসবাস করতেন। তৌফিক শেখের বড় ভাই হারুন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে। সোমবার আন্দোলন চলাকালে তৌফিক হামলার ঘটনার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা গেছে আমার ভাই। আরটিভি/এসআর
গাজীপুরে আন্দোলনের সময় আহত সেই পোশাক শ্রমিক মারা গেছেন
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দখল করার আগেই পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিনের মতো আজও উত্তপ্ত রয়েছে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা। পদ্মার মোড়ে জড়ো হয়ে একসঙ্গে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দুই দফায় কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে এই ঘটনা ঘটে। তবে ছত্রভঙ্গ হওয়ার পরও শ্রমিকরা বিচ্ছিন্নভাবে আশপাশের বিভিন্ন গলি ও সড়কে অবস্থান নেন। এতে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনার পর সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে পদ্মার মোড় ও হেমায়েতপুর এলাকার আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।  কারখানাগুলো হলো— দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ওভেন লিমিটেড, দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়াশ লিমিটেড, সামশ স্টাইলিং ওয়্যার লিমিটেড, রূপকথা অ্যাপারেলস লিমিটেড, পদ্মা ক্যান্স লিমিটেড, ব্যাবিলন ক্যাজুয়াল ওয়্যার লিমিটেড, অবনী নিট ওয়্যার লিমিটেড এবং জিন্স ম্যানুফ্যাকচার লিমিটেড। এ ছাড়া ম্যাক্সকম ইন্টারন্যাশনাল বিডি লিমিটেড ও পাইওনিয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা দুটিতে কর্মবিরতি চলছে। আরটিভি/এসআর
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দখল করার আগেই পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ
তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিং
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি রাজনৈতিক সংলাপ, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কিত অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিং
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর এবার ১২ ঘণ্টা বন্ধ ডিজিটাল ভূমিসেবার সার্ভার
সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ
অষ্টম শ্রেণি পাসেই ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ
দেশের সব জেলা প্রশাসকের জন্য ১৪ নির্দেশনা