ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের

বাসস

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

অব্যবস্থাপনা, দখল এবং ভরাটের কারণে দেশের অসংখ্য খাল নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং পানি নিষ্কাশন সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় সরকারি খাল পুনঃখননে ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, খেয়াঘাট বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের মাধ্যমে খননকৃত মাটি ও বালি অপসারণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে একদিকে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় উন্নয়ন কাজেও মাটি ও বালির চাহিদা পূরণ হবে।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের খাল খনন সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ।

আরও পড়ুন

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু এখনও অনেক ছোট ও মাঝারি খাল পুনঃখননের বাইরে রয়ে গেছে।

পরিপত্রে জানানো হয়, সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ স্থাপন, মাঠ ভরাট, বসতভিটা উন্নয়ন ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে বিপুল পরিমাণ মাটি ও বালির প্রয়োজন হয়। এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি খাল খননে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে পুরো কার্যক্রম কঠোর প্রশাসনিক তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যয়ে খাল খনন ও খননকৃত মাটি-বালি অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে পারবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাল সরেজমিনে পরিদর্শন করে কতটুকু খনন প্রয়োজন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হবে।

প্রাক্কলনে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা এবং কত পরিমাণ মাটি বা বালি উত্তোলন করা যাবে তা উল্লেখ থাকবে। একই খালের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে আলোচনা বা লটারির মাধ্যমে খননকারী নির্বাচন করা হবে। বড় খালের ক্ষেত্রে খণ্ডে ভাগ করে একাধিক আবেদনকারীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং খননকৃত মাটি, বালি, আগাছা ও অন্যান্য বর্জ্য খালের অন্তত ১০ মিটার দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে।

কাজ শেষে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।

আরও পড়ুন

এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত নকশা বা প্রাক্কলনের বাইরে অতিরিক্ত খনন করা যাবে না। যদি অতিরিক্ত খননের কারণে পার্শ্ববর্তী জমি, স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ধরনের বিরোধ দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খননকৃত মাটি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য সরকার, উপজেলা পরিষদ বা অন্য কোনো সংস্থাকে কোনো প্রকার ফি বা মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। তবে পুরো কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে থাকবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কানুনগো, সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন অনুযায়ী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না তারা সেটি নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা খালে ব্যক্তি উদ্যোগে খননের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা ছোট ছোট খাল পুনরুদ্ধারে গতি আসবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও পরিকল্পনাহীন দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বহু খাল হারিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে। তাই খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে টেকসই করতে স্থানীয় জনগণ ও বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে খাল খননের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত মাটি উত্তোলন, অবৈধ বালু বাণিজ্য বা পরিবেশের ক্ষতি না ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক
দেশে সবজিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ ও ফলে ৪ শতাংশ বেশি কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। খেজুরে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ ও শুঁটকি মাছে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক অ্যাগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পরিচালক ড. নির্মল কুমার দত্ত। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)। ড. নির্মল কুমার দত্ত বলেন, বর্তমানে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। ফলে পোকামাকড় রাসায়নিক কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য রাসায়নিক কীটনাশক বেশি লাগছে। আবার অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উপকারী পোকামাকড় মারা যাওয়ায় ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। কীটতত্ত্ববিদ নির্মল কুমার দত্ত জানান, দেশে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নতুন করে ২৫টির বেশি ক্ষতিকর পোকার আগমন ঘটেছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ড. নির্মল কুমার দত্ত আরও জানান, দেশে প্রায় আট হাজার কীটনাশক অনুমোদিত। যাচাই করে এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ কীটনাশক শতভাগ বিশুদ্ধ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, পোকামাকড় মারতে বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নকল বালাইনাশকের কারণে পোকামাকড় না মরে উল্টো তাদের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা জাহান বলেন, জৈব বালাইনাশক মূলত প্রকৃতিতেই রয়েছে। এ জন্য উপকারী পোকামাকড়কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম ও প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আল মোবাচ্ছের হোসেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. নিজামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাইফুল মাসুমসহ কৃষি বিটের সাংবাদিকেরা। আরটিভি/এসআর  
সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
পাসপোর্ট হারালে কড়াকড়ি, জেনে নিন নতুন নিয়ম
সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  
পাসপোর্ট হারালে কড়াকড়ি, জেনে নিন নতুন নিয়ম
ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে যা বললেন রেলমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসভাড়ার পর এবার বাড়ানো হয়েছে লঞ্চের ভাড়া। তবে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 
ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে যা বললেন রেলমন্ত্রী
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ-আজারবাইজান নতুন চুক্তি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ-আজারবাইজান নতুন চুক্তি
আরও পড়ুন
সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ
অষ্টম শ্রেণি পাসেই ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ
দেশের সব জেলা প্রশাসকের জন্য ১৪ নির্দেশনা
নওগাঁয় খাল খননে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত