ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কমছে নদ-নদীর পানি, শুরু হয়েছে ভাঙন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

উজানের ঢল কমার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পেলেও জেলাজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক মাসে পানি ওঠানামার ফলে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক বসতভিটা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ঢল ও বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। আর ভাঙন প্রতিরোধে লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া-কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।

জানা যায়, পানি কমায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত এক মাস ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠানামার সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন।

এতে করে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফলসি ও বসতবাড়ি ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্য রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভাঙন কবলিত এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের গাফিলতি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, প্রতিবছর তাদের নদী ভাঙনের শিকার হতে হয়। কোনো সাহায্য নয়, নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি তাদের।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিগারি ইউনিয়নের রহমান নগরের বাসিন্দা হাকিম বলেন, ‘বন্যার পানি বাড়ার সময় একবার ভাঙনে ফসলি জমিসহ বসত বাড়ি ভিটা নদীতে গেছে। আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। চরের মানুষ সারা বছরই নদী ভাঙনে শিকার হই।’

সুন্দরগঞ্জের কাশিম বাজারের বাসিন্দা রুমিনা বেগম বলেন, ‘গত এক মাসে তিস্তার পানি কমা- বাড়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিগুলো নদীতে পড়ে গেছে। বান আসলেই দুইবার বাড়ি- ঘর সরানো লাগে। কই কেউ তো খবর নেয় না।’

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার আশরাফ মিয়া বলেন, ‘নদীতে পানি কমা শুরু হয়েছে। নদীর পাড় গুলো ধপাস ধপাস করে ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। হামারে কষ্ট কি কেউ বুঁচবে? নদী ভাঙন কেনা বন্ধ হলো, হামরা অনেক মুক্তি পামো। প্রত্যক বছর নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পানু হয়।‘

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব কয়টি নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করছে। কয়েকদিনের মধ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি হ্রাস- বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।’

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৯ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৯ দিনের লম্বা ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকায় দুর্গাপূজার নির্ধারিত তারিখে কোনো রদবদল করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশোধিত ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর (রোববার) থেকে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। তবে এর আগে ১৬ ও ১৭ (শুক্র-শনিবার) অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি। এর ফলে ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ক্লাস শেষেই ছুটি শুরু হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এদিকে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র-শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ছুটি হলেও সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটি যোগ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত খুলবে ২৫ অক্টোবর (রোববার)। এর ফলে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ দিনের ছুটি পাবে। আরটিভি/এসআর
দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৯ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
১৮ বছর ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে ভয় করিনি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বিগত ১৮ বছর আমরা ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে ভয় করিনি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছি, মিছিল-মিটিং করেছি।
১৮ বছর ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে ভয় করিনি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস আজ
আজ ২ অক্টোবর জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস আজ
পাসপোর্টে বাবা পাল্টে দেশত্যাগের চেষ্টা, অতঃপর... 
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে এ ঘটনা। 
পাসপোর্টে বাবা পাল্টে দেশত্যাগের চেষ্টা, অতঃপর... 
রাশিয়া থেকে আজ দেশে আসছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশে আসছে। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে এই জ্বালানি দুপুরের মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর শনিবার (৩ অক্টোবর) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় এই জ্বালানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারই জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার নতুন করে জ্বালানি পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে, সেসব দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতিও নিতে হয়। বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও বাংলাদেশ এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে মোট ৯টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে।  আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রোসাটম)। আরটিভি নিউজ/এসআর
রাশিয়া থেকে আজ দেশে আসছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি
আরও পড়ুন
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
নড়াইলে ৩ নদীর ভাঙনে বিলীন জনপদ, পরিদর্শনে এমপির আশ্বাস
গাইবান্ধায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের
যেখানে সেবা দেওয়ার কথা, সেখানেই শিক্ষিকার ‘সর্বনাশ’ করেন চেয়ারম্যান