ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বার্ধক্যের আর্থিক সুরক্ষায় নতুন মাইলফলক ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
বার্ধক্যের প্রতীকী ছবি

সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সম্প্রতি রাজধানীতে তার কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়, অবদানভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পেনশন সংস্কৃতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে দেশের কর্মক্ষম নাগরিক, বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সামাজিক সুরক্ষাকে প্রচলিত কল্যাণভিত্তিক ধারণা থেকে অবদানভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থায় রূপান্তরের পথ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সরকারি কর্মচারীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের পার্থক্য তুলে ধরে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, সরকারি পেনশন অ-অবদানভিত্তিক এবং কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে সর্বজনীন পেনশন স্কিম অবদানভিত্তিক। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত চাঁদা জমা দিয়ে আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা পান।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে ৪ কোটি মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, নিবন্ধন ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতোমধ্যে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা জমা দেওয়ার সুবিধা চালু করা হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, এনজিও এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় চারটি পৃথক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো- প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাস’ স্কিম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য ‘প্রগতি’ স্কিম, স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের (কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার ও তাঁতি) জন্য ‘সুরক্ষা’ স্কিম এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘সমতা’ স্কিম।

এর মধ্যে সমতা স্কিমে একজন গ্রাহক মাসে ৫০০ টাকা জমা দিলে সরকার সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে মোট ১ হাজার টাকার চাঁদা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া প্রগতি স্কিমে কর্মী ও নিয়োগকর্তা যৌথভাবে চাঁদা প্রদান করেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশন তহবিল পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় সরকার বহন করে। ফলে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা সরাসরি গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়। মাসিক চাঁদার বিপরীতে কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশনের ওপর আয়করমুক্ত সুবিধাও রয়েছে। এ ছাড়া ৬০ বছর পূর্তির পর পেনশন তহবিলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

তহবিল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ এবং সরকার অনুমোদিত বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী বর্তমানে তহবিলের অর্থ নিরাপদ ও স্বল্প-ঝুঁকিপূর্ণ খাতে, বিশেষ করে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তহবিলের আকার বাড়লে ঝুঁকি ও মুনাফার ভারসাম্য বিবেচনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও বহুমুখী করা হবে।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ পদ্ধতির আওতায় ইসলামিক পেনশন স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় একজন আন্তর্জাতিক পরামর্শক শরিয়াহসম্মত কাঠামো ও বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়নের কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বাড়ানো। যেহেতু এটি একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি, তাই অনেকেই এর সুফল সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি অবগত নন। আমরা বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে সফল বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, ডিজিটাল সেবা এবং নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’

দেশের কর্মক্ষম নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়া উচিত। অল্প অল্প করে নিয়মিত সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রথম দিনেই তিনি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। আরটিভি/টিআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশ আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একইসঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিমান ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাওয়ায় তিনি উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিট। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয়পক্ষের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠেয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি অপেক্ষায় রয়েছেন। বিমান কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার অতিরিক্ত হিসেবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে। তবে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়নের শর্ত এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, বিমান আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পৃথক একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। আরটিভি/টিআর
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন  প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
আরও পড়ুন
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তায় ঝুঁকি, ৩১ অ্যাপ নিয়ে সতর্ক করল গোয়েন্দারা
ম্যাকাই টেস্টে দুর্দান্ত মাইলফলকের সামনে মুশফিক
বিশ্বে প্রথম ‘সুইফট স্কিম’ লেনদেনে সিটি ব্যাংকের মাইলফলক
আরেকটি মাইলফলক স্পর্শের অপেক্ষায় মেসি