কবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাহাবুদ্দিন?

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩০ পিএম


কবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাহাবুদ্দিন?
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

এক-দুদিনের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর তিনি রাজধানীর গুলশান-১ এর নিজ বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’য় উঠবেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবারের মধ্যে তিনি বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। তবে রোববারও চলে যেতে পারেন। গুলশানের বাসায় ওঠার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তার ব্যক্তিগত উইং দেখভাল করছে।’

এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতাসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ ধরা পড়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনা চলাকালেই শুক্রবার বিকেলে গুলশান-১ এর ১২৩ নম্বর রোডে অবস্থিত তার বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’য় নতুন টেলিফোন সংযোগ স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদকাল ছিল দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল রাজনৈতিক সময়ের সাক্ষী। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ অধ্যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার; এই তিন ভিন্ন রাজনৈতিক পর্বেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। দায়িত্ব নেয়ার প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেলে রাষ্ট্রপতির পদটি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল থাকেন মো. সাহাবুদ্দিন। ৮ আগস্ট তার কাছেই শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এর দেড় বছর পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথবাক্য পাঠ করান তিনি। এর মধ্য দিয়ে একই মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার; এই তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার বিরল নজির গড়েন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এ সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission