টুথপেস্ট ছাড়াও যেসব উপকরণে রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, শরীরের কী ক্ষতি করে

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪৫ এএম


টুথপেস্ট ছাড়াও যেসব উপকরণে রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, শরীরের কী ক্ষতি করে
ছবি: সংগৃহীত

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দৈনন্দিন ব্যবহারের আরও অনেক পণ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টুথপেস্ট নয়, প্রসাধনী, পোশাক, খাবারের প্যাকেজিং, প্লাস্টিকের বোতল, টি-ব্যাগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা উপকরণ থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা। এর অতি ক্ষুদ্র আকারের কারণে এটি সহজেই সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে। ফলে শরীরে প্রবেশের পর এসব বিষাক্ত উপাদানও বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

যেসব পণ্যে থাকতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক

গবেষণা অনুযায়ী, ফেসওয়াশ ও রেডিমেড স্ক্রাবের মাইক্রোবিডস, কিছু টুথপেস্ট, লিপস্টিক, আইলাইনার, নেইলপলিশ, ওয়েট ওয়াইপস, পলিয়েস্টার ও নাইলনের পোশাক, ডিটারজেন্ট, টি-ব্যাগ, নন-স্টিক প্যানের আবরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য কাপ, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষিত পানি, লবণ এবং প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শরীরে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার, পানি, বাতাস ও প্রসাধনীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্ত, ফুসফুস, অন্ত্র, মস্তিষ্ক এমনকি প্লাসেন্টাতেও জমা হতে পারে।

এর ফলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে-

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি: রক্তনালিতে প্লাস্টিক কণা জমে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি: অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে হজমে সমস্যা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।

ফুসফুসের সমস্যা: বাতাসের সঙ্গে প্রবেশ করা প্লাস্টিক কণা দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: প্লাস্টিকে ব্যবহৃত থ্যালেটস ও বিসফেনলের মতো রাসায়নিক হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি: অতি ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক মস্তিষ্কে পৌঁছে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে, যা আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডিএনএর ক্ষতি: দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কার কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

যেভাবে কমানো যেতে পারে ঝুঁকি

মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমানো যায়। যেমন: 

প্লাস্টিকের বদলে কাচ, স্টেইনলেস স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।

প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ডের পরিবর্তে কাঠের বোর্ড ব্যবহার করুন।

প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করা থেকে বিরত থাকুন।

টি-ব্যাগের বদলে খোলা চা-পাতা ব্যবহার করুন।

প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাচের বোতলে পানি সংরক্ষণ করুন।

মাইক্রোবিডসযুক্ত প্রসাধনীর বদলে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন।

ঘরের ধুলাবালি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন, কারণ ধুলায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিক ফাইবার থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট, স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন ও অন্যান্য

 আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission