অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পেতে পারেন অর্থ, জেনে নিন কীভাবে

আরটিভি নিউজ  

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৩৬ পিএম


অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পেতে পারেন অর্থ, জেনে নিন কীভাবে
ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যে ভেজাল মেশানো, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ওজনে কারচুপি কিংবা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনি ভিত্তি প্রদান করে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’। কেবল অপরাধীদের শাস্তির বিধানেই সীমাবদ্ধ নয় এই আইন; অনিয়ম ধরে দেওয়া সচেতন ভোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে আর্থিক সহায়তার সুনির্দিষ্ট বিধান। আইন অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারী পাবেন।

আইনের ৭৬(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে প্রমান সাপেক্ষে অভিযুক্তের ওপর যে অর্থদণ্ড ধার্য ও আদায় করা হবে, তার চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ অর্থ অভিযোগকারী ব্যক্তি পাবেন। আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে জরিমানা আদায় হলেও সমান হারে এই অর্থ পাবেন অভিযোগকারী। 

২০০৯ সালের এই আইনে ভেজাল ও প্রবঞ্চনার বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ৪১ ও ৪২ ধারা অনুযায়ী, খাদ্যে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক মেশানো বা জ্ঞাতসারে ভেজাল পণ্য বিক্রি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

একইভাবে মোড়কজাত পণ্যে তথ্য গোপন বা তথ্য না রাখা (৩৭ ধারা), পণ্যের মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে না রাখা (৩৮ ধারা) এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার (৪০ ধারা) অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা পণ্য বিক্রির দায়ে ৫১ ধারায় এবং নকল পণ্য উৎপাদনের অপরাধে ৫০ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

আবার একই অপরাধ বারবার করলে ৫৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ দণ্ড দেওয়া যাবে। ওজনে কারচুপি ও বাটখারায় ফাঁকি দেওয়ার অপরাধেও এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, আইনটির অপব্যবহার রোধে ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল বা হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ বা মামলা করা হলে অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

পণ্য কিনে ঠকলে বা বাজারে যেকোনো অনিয়ম চোখে পড়লে আপনি সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন। যেভাবে পাবেন এই সুবিধা:

কারা অভিযোগ করতে পারবেন: যেকোনো সাধারণ ভোক্তা এই সুযোগ পাবেন। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা অভিযোগ করলে এই ২৫ শতাংশ অর্থ পাবেন না।

অভিযোগের সময়সীমা: পণ্য বা সেবা কেনার এবং কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে।

যা যা প্রয়োজন: কেনার আসল রসিদ (ক্যাশ মেমো), পণ্যের ছবি, মূল্যমানের প্রমাণ কিংবা ভিডিওর মতো তথ্যপ্রমাণ অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

অভিযোগ দেওয়ার উপায়: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে সরাসরি, ডাকযোগে কিংবা তাদের অফিসিয়াল ই-মেইল ও স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া যায়।

অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও শুনানির পর অপরাধ প্রমাণিত হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জরিমানা ধার্য করে। সেই অর্থ আদায় হওয়ার পরপরই ২৫ শতাংশ টাকা অভিযোগকারী ভোক্তার হাতে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission