বিরোধী দল যোগ না দেওয়ায় অবশেষে ১২ সদস্য নিয়েই সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে বলেন, প্রথম বৈঠকে পরিচিতিমূলক আলোচনা হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু প্রথম বৈঠকের পরই জানা যাবে।
সংসদ সচিবালয় জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বৈঠক শুরু হবে। বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দেয়নি। ফলে ১২ সদস্যের কমিটি নিয়ে প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, পরিচিতি এবং পরবর্তী বৈঠকের আলোচনার বিষয় নির্ধারণের মধ্যে হয়ত প্রথম দিনের বৈঠক সীমাবদ্ধ থাকবে। দ্বিতীয় বৈঠক থেকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে কার্যকর আলোচনা হবে।
গত ১৩ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটির নাম সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে তা কণ্ঠ ভোটে পাশ হয়। ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল নাম না দেয়ায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কমিটিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে কোনো নাম দেওয়া হয়নি।
কমিটি গঠনের দিন সংসদে দাঁড়িয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলে ছিলেন, বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং জোটের সদস্যদের সমন্বয়ে এমনকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি কমিটি গঠনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাছ থেকে এই অধিবেশনে নাম পাওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হয়। ইতোমধ্যেই কয়েক দফা এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু তারা এখনও কোনও নাম আমার কাছে দেননি। এমন অবস্থায় আমরা ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি জানান, বিএনপি থেকে সাত জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে একজন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে একজন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে একজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে একজন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে একজন, বিরোধী দল থেকে পাঁচ জন। এই নিয়ে ছিল মোট ১৭ জন।
পরে ১৭ জনের মধ্যে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রেখে গত ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ। বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের পাঁচ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
কমিটির সদস্যরা হলেন- চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, বিএনপির সংসদ-সদস্য জয়নুল আবেদীন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ।
আরটিভি/টিআর




