ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সাড়ে ৬ বছরে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫ হাজার ৭১২ প্রাণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
গত সাড়ে ৬ বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পেয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ফাইল ছবি

গত সাড়ে ৬ বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পেয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ২০২০ থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনায় সড়কে ঝরে গেছে ১৫ হাজার ৭১২ হাজার প্রাণ; আর আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের বড় একটি অংশই কিশোর ও তরুণ। আর আহতদের অর্ধেকের বেশির বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৩৯.৩০ শতাংশই ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। আর ৩৪.২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে পণ্যবাহী যানবাহনকে। আর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছর। সংস্থাটি বলছে, চার চাকার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু, দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনাও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, প্রধানত বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা ও আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণেই বাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এ কারণে মানসম্পন্ন হেলমেট, কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২২ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে। ৩৪ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। আর ৩৯ শতাংশের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেলের চালক এককভাবে দায়ী ৩৬ শতাংশের বেশি। পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাসের চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।

গত সাড়ে ৬ বছরে ঘটে যাওয়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ৪২, গ্রামীণ সড়কে ১২ শতাংশ এবং শহরের সাড়ে ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। যার একটি বড় অংশ কিশোর-যুবকেরা চালায়। কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গি কিশোর–যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেলের প্রতি আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি গতি তুলতে উৎসাহিত করছে।

সংস্থাটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার যেসব কারণ পেয়েছে এর মধ্যে রয়েছে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজট।

দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটির সুপারিশ হচ্ছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতকরতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালাতে হবে, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি পরিবর্তন আনতে হবে, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালু করতে হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌরবিদ্যুতে বড় সাফল্য: জাতীয় গ্রিডে কাপ্তাইয়ের ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ
নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সম্ভাবনা তার অন্যতম উদাহরণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ৭ বছর আগে গড়ে ওঠা এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
সৌরবিদ্যুতে বড় সাফল্য: জাতীয় গ্রিডে কাপ্তাইয়ের ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ডা. জাহেদ জানান, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী সন্ত্রাস। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রতিশোধ নয়, ন্যায় বিচার নিশ্চিতে হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা। তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশনের জন্য যারা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ করেছে তাদের বিচার হতে হবে। যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত অনুতাপের কোনও লক্ষণ নেই, উপরন্তু তারা নানা রকম সংকট করার চেষ্টা করছে। ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার চেষ্টা হয়েছে। তার অপরাধ হচ্ছে তিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন। শুধু এটি নয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে।  তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যে দল প্রকাশ্যে দেশের ভেতরে নানারকম সহিংসতা ও সন্ত্রাস উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে তাদের দলের প্রধান করে; সেখানে সরকারের দিক থেকে রিকনসিলিয়েশনের ইনিশিয়েটিভ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। রিকনসিলিয়েশনের নূন্যতম কোনো সম্ভাবনা যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটি আওয়ামী লীগকে তার জায়গা থেকে বলার কথা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দুই বছর পরে এবং তাদের আচরণ দেখে রিকনসিলিয়েশনের আদৌ কোনও সম্ভাবনা আমি দেখি না। ক্ষমা চাওয়া, অনুতাপ দূরে থাকুক; তারা হুমকি দিচ্ছে এবং নানা রকম সহিংসতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার চেষ্টা প্রেশার গ্রুপ ট্রুপ কিছু না, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। সেটা নিয়ে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পদক্ষেপ আনচ্যালেঞ্জড যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আরটিভি/ এমএ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না: ডেপুটি স্পিকার
আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না, সবখানেই সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 
আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না: ডেপুটি স্পিকার
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের আলোচনা সভায় এ তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যতম শক্তি জনগণের অংশগ্রহণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে উদীয়মান ঝুঁকির একটি ভূমিকম্প। নগরে ভবন নির্মানবিধির প্রয়োগের ঘাটতি ভূমিকম্পের এ ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এসময় দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় নারী, শিশু, প্রবীন ও প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। আরটিভি/এসআর
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘নতুন মাত্রা’
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা জোরদার করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রচলিত টহল ও জনবলনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, নাইট ভিশন ডিভাইস, ড্রোন, রাডার ও আধুনিক যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘নতুন মাত্রা’
আরও পড়ুন
সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর
কাজ শেষে বাসায় ফেরা হলো না ফালু মিয়ার
স্বামীর মোটরসাইকেলে স্কুলে যাচ্ছিলেন শিক্ষিকা, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক
শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরা হলো না ছাত্রদল নেতার, পথেই নিভল প্রাণ