
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে ৭০ অনুচ্ছেদ। বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এই অনুচ্ছেদ নিয়ে নানা ধরনের তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনা চলে আসছে। সবশেষে জুলাই সনদে এই অনুচ্ছেদর সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের প্রস্তাবিত যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত অকপটে মেনে নিতে বাধ্য করে এই ৭০ অনুচ্ছেদ। কেউ যদি এর ব্যত্যয় ঘটান বা না মানেন, তাহলে এর পরিণাম খুবই কঠোর। তাদের আসনই শূন্য হয়ে যায়।
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। ইতোমধ্যে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। জোটের নেতারা মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নির্বাচনে জামায়াত জোটের এই প্রার্থীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত।
তাহলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে আলোচনা আনতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে জামায়াত জোট। কেউবা একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
জামায়াতসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন শ্রদ্ধেয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন, তিনবার মন্ত্রীও ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও তাকে সম্মান করেন। যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পারতেন—তাহলে এই মুহূর্তেই তার পরাজয় নিশ্চিতভাবে বলা যেতো না।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর থাকবে।
নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।
আরটিভি/এসএস


