ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি একটি চক্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নাম, লোগো ও প্যাড ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নাম-পদবি ও পরিচয় ব্যবহার করে নানা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এই চক্রের ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চাকরির প্রলোভন এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার নামে প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একটি চক্রের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামে কথিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, জামানত কিংবা অন্যান্য নামে অর্থ দাবির অভিযোগ মিলেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একইভাবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা, সম্মানী, অনুদান কিংবা বিশেষ সুবিধা দেয়ার নাম করে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, ব্যাংক হিসাব, বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ নির্ধারিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কোনো ব্যক্তি বা চক্রের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, বিকাশ, নগদ কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি, সম্মানী, অনুদান বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশেষ করে, দেশের সাধারণ আলেম-ওলামা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভ্রান্ত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতারক চক্র অনেক সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, ছবি, স্বাক্ষর কিংবা প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুয়া চিঠি, নিয়োগপত্র, আবেদন ফরম ও অর্থ সহায়তার তালিকা তৈরি করে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ বেআইনি, প্রতারণামূলক ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে সতর্কতা

নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর, তারিখ, পদের নাম, আবেদন পদ্ধতি, আবেদনের শেষ তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সেই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি ফোন করে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করে কিংবা মেসেজ পাঠিয়ে চাকরি দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ দাবি করলে তাতে সাড়া না দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সতর্ক থাকার আহ্বান

ইফার নামে যদি কেউ ফোনে, মেসেজ বা সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারি সম্মানী, অনুদান, অর্থ সহায়তা, তালিকাভুক্তি কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দেয়ার কথা বলে তাহলে দেশের সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সেই সঙ্গে আগাম অর্থ, রেজিস্ট্রেশন ফি বা ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিলে সেটি প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি উভয় ক্ষেত্রে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত অনলাইন গ্রুপে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পিন, ওটিপি, পাসওয়ার্ড কিংবা অন্যান্য গোপনীয় তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছে।

প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

ইফার নাম, লোগো, কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বা এ ধরনের কোনো বিজ্ঞপ্তি, পোস্ট, ফোন নম্বর, চিঠি, নিয়োগপত্র কিংবা আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট তথ্য, স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর, লেনদেনের তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সেই সঙ্গে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেয়ার পাশাপাশি ইফা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, কোনো তথ্য যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত নিয়োগ, অর্থিক সহায়তা বা অনুদান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বাস করবেন না। সেই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ লেনদেন করবেন না। দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মসজিদ কমিটির সদস্য, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ জনগণকে এই আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নীতি থেকে বাস্তবায়নে নিরাপদ, সবুজ ও বিশ্বমানের সামুদ্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
“নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন” এ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব নৌ দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপিত হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। তারা বাংলাদেশের সমুদ্র, নদী ও নৌসম্পদের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক বন্দর, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নৌনিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিবিধানের বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের  মন্ত্রী  শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, নীতি, পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শুধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থন বা আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয় নিরাপদ জাহাজ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং টেকসই নৌবাণিজ্যের মাধ্যমে এর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, অটোমেশন, সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফ্ল্যাগ স্টেট ও পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ এবং নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানের কার্যকর প্রতিপালন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, দেশের নাবিকরা বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ এবং বহির্বিশ্বে দেশের শক্তিশালী প্রতিনিধি। তাঁদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান তার বক্তব্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সমৃদ্ধির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বন্দর, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ, অফশোর সম্পদ এবং ব্লু ইকোনমির বিকাশ একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, তথ্য বিনিময়, মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ নৌ-ঐতিহ্য, দেশীয় নৌযান নির্মাণের দক্ষতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি মেরিটাইম শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী মেরিটাইম পেশাজীবীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে সামুদ্রিক খাতের উৎকর্ষ অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ অতিরিক্ত সক্ষমতার চাহিদা মোকাবিলায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এ বন্দর প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং আট থেকে দশ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাদার ভেসেল সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে পরিবহন সময় ও লজিস্টিক ব্যয় কমবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়। জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, Hong Kong International Convention কার্যকর হওয়ার পর দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড ইতোমধ্যে কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে এবং আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে এ শিল্পকে আধুনিক, দায়িত্বশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, তেল ও বাংকার দূষণজনিত ক্ষতিপূরণ এবং জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণসংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদান আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনে দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। পাশাপাশি জাতীয় আইন, বিধিমালা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার GreenVoyage2050 কর্মসূচির সহায়তায় জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কম-কার্বন জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, বন্দর কার্যক্রমের বিদ্যুতায়ন এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবুজ নৌপরিবহনে উত্তরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে ১৫টি মেরিটাইম একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ নাবিক, মেরিন প্রকৌশলী ও বন্দর ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করছে। ২০১৪ সাল থেকে ১৩৮ জনের বেশি নারী ক্যাডেট দেশের মেরিটাইম একাডেমিগুলো থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৫০ জন নারী ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করছেন। সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া প্রদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, জাহাজ শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের Joint Rescue and Coordination Centre-JRCC-এর সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সরকার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, জাহাজমালিক, শিপিং কোম্পানি, জাহাজ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী, মেরিটাইম একাডেমি, নাবিক এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টাই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপান্তর করতে পারে। বিশ্ব নৌ দিবস ২০২৬-এর মূল আহ্বান হিসেবে বলা হয় নীতি হতে হবে কার্যক্রমে রূপান্তরিত, অঙ্গীকার হতে হবে পরিমাপযোগ্য অর্জন এবং সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পরিণত করতে হবে দৃশ্যমান জাতীয় সুফলে। নিরাপদ, সবুজ, স্মার্ট, সুরক্ষিত এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতাসক্ষম সামুদ্রিক বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, জাহাজমালিক, শিপিং কোম্পানি, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, নাবিক, সামুদ্রিক পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসকে
নীতি থেকে বাস্তবায়নে নিরাপদ, সবুজ ও বিশ্বমানের সামুদ্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
রাড্ডায় ভাঙচুরে শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় ‘রাড্ডা’ পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রাড্ডায় ভাঙচুরে শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর
সরকারের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়: মাহদী আমিন
সরকারি দল বা প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম কিংবা ভাঙচুর চালালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সরকারের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসা সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসা সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের
আরও পড়ুন
প্রাথমিকের নিয়োগ বঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি 
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন বার্তা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনলো রাবি