ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মেট্রোরেলের নতুন রুট তৈরিতে খরচ বেড়ে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
মেট্রোরেল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মেট্রোরেলের নতুন লাইন-১ ও ৫-এর নির্মাণ ব্যয় প্রাথমিক প্রাক্কলনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। সরকারের সাত সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। কারণ হিসেবে কমিটি ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, করের হার বৃদ্ধিসহ নকশায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছে। মেট্রোরেলের এই নতুন রুটটি বিমানবন্দর-নতুন বাজার ও হেমায়েতপুর হয়ে ভাটারায় শেষ হয়েছে। এদিকে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় আরও বেশি ধরা হয়েছে।

মে মাসে গঠিত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান শামীম জেড বসুনিয়া জানান, পাঁচ থেকে সাত বছর আগে প্রকল্পের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সময়ের তুলনায় বর্তমানে নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কমিটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় নিয়েছে। একই সঙ্গে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে এবং করের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক বসুনিয়া বলেন, বর্তমান ও প্রস্তাবিত নকশার ভিত্তিতে কমিটি অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। এটি কোনো প্রকৌশলগত সমীক্ষা ছিল না। সেই বিশ্লেষণে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্টেশনের নকশাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর নির্মাণ ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। আর এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ হাজার থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

বসুনিয়ার দাবি, তাদের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ যথাযথ। বাংলাদেশে মেট্রোরেল নির্মাণের ব্যয় ভারতসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভারতীয় প্রকল্পগুলোতে ডিজেল, লোহা, সিমেন্ট ও পাথরের মতো অনেক নির্মাণসামগ্রী দেশীয়ভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব পণ্যের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। ফলে ভারতের সঙ্গে সরাসরি ব্যয়ের তুলনা করা যৌক্তিক নয়।

চলতি মাসের শুরুতে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

ডিএমটিসিএলের সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় আরও বেশি

স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির হিসাবের চেয়েও বেশি ব্যয় ধরে মেট্রোরেল লাইন-১ ও ৫-এর জন্য সংশোধিত প্রস্তাব তৈরি করেছে ডিএমটিসিএল। প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানোর পর গত সপ্তাহে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে এমআরটি লাইন-১-এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের অর্থায়ন থাকবে ৮৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। মূল প্রস্তাবে এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নকাল ছিল সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানি অর্থায়নের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। মূল প্রস্তাবে প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণ ছিল ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা।

লাইন-৫ প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল জুলাই ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত। সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নকাল বাড়িয়ে ২০৩৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভায় ব্যয়ের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পর ডিএমটিসিএলের সংশোধিত প্রস্তাবের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন

ব্যয় নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা

দরপত্র জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন প্যাকেজের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মেট্রোরেল লাইন-১ ও ৫-এর বাস্তবায়ন কার্যত থমকে যায়। ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সে সময় অর্থ উপদেষ্টা, পরিকল্পনা উপদেষ্টাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাপান সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।

তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যয় কমানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য জাপান সফরও করেন। তবে জাপানের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় প্রকল্প দুটির কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রকল্প দুটির কাজ পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে যতটা সম্ভব ব্যয় কমিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেন তিনি।

স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে চাইলে সরকারকে দ্রুত প্রকল্প দুটির কাজ শুরু করা উচিত। কারণ বর্তমানে জাপান যে সুদের হার দিচ্ছে, ভবিষ্যতে তা নাও পাওয়া যেতে পারে।

জাপান এই প্রকল্পগুলোর জন্য শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সুদের হার প্রস্তাব করেছে। বসুনিয়া জানান, গত কয়েক বছরে জাপান বিশ্বজুড়ে সুদের হার বাড়ালেও মেট্রোরেল প্রকল্প দুটির জন্য এই হার অপরিবর্তিত রেখেছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাতিল করে নতুন কোনো উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে নতুন করে শুরু করা হলে এত কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে।

ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি

গত বছরের জুন পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে ৩ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পে ৫ হাজার ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ, দুই প্রকল্পে ইতিমধ্যে মোট ৮ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রাম্প-প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে অপপ্রচার চলছে : প্রেস উইং
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রকাশিত ছবিটিকে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে এবং ওই এআই-জেনারেটেড ছবিটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে
https://img.rtvonline.com/resize?w=auto&h=&q=100&cmp=RM&img=/media/images/2026/10/03/TAREQ-RAHMAN-VS-TRUMP-1791022979-407269_1791023035.jpg
ইউএনওদের সতর্ক করলেন মীর শাহে আলম
দুর্গাপূজা সামনে রেখে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার ঝুঁকির ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না।
ইউএনওদের সতর্ক করলেন মীর শাহে আলম
গাড়ি দেখলেই সালাম দেওয়া পথশিশুদের খাওয়ালেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার বিজয় সরণির ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন ফুল, পানি ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন বেশ কিছু পথশিশু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তারা নিয়মিত তাকে সালাম দেন। প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত তাদের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, নিয়মিত যাতায়াতের পথে প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখেন এবং তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি তার নজরে আসে। শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শুধু তাদের সালাম গ্রহণ করেই থেমে থাকেননি। তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিজয় সরণিতে থাকা এসব মানুষের জন্য দুপুরের একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুপুরে তাদের ডেকে নিয়ে বিজয় সরণির একটি রেস্টুরেন্টে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে পথশিশু, বয়স্ক নারীসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো একসঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন আয়োজন পেয়ে আনন্দিত ও অভিভূত হন তারা। তাদের কয়েকজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সালাম গ্রহণ করেন, এটিই জানতাম না। তিনি আমাদের কথা মনে রেখে খাবারের ব্যবস্থা করবেন, কখনো ভাবেননি। আরটিভি/টিআর
গাড়ি দেখলেই সালাম দেওয়া পথশিশুদের খাওয়ালেন প্রধানমন্ত্রী
জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: বিমানমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন,  বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান বর্তমান ৩ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: বিমানমন্ত্রী
বরেন্দ্রের রোদে সোনালী স্বপ্ন : সৌর সেচে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অনাবাদী জমি
খরার জন্য পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলে যখন তপ্ত রোদ নামছে, ঠিক তখনই এক নীরব কৃষি বিপ্লবের সাক্ষী হচ্ছে এলাকার ফসলি জমিগুলো- ডিজেল ইঞ্জিনের গর্জন কিংবা যন্ত্রপাতির কোলাহল ছাড়াই ঘটে চলেছে এই রূপান্তর।
বরেন্দ্রের রোদে সোনালী স্বপ্ন : সৌর সেচে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অনাবাদী জমি
আরও পড়ুন
অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণরা 
মেট্রোরেলে ইন্টার্নশিপের সুযোগ; মিলবে মাসিক ভাতা ও সনদ, যেভাবে আবেদন
‘হাফ প্যান্ট’ পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে ঢুকতে বাধা, অতঃপর...
মেট্রোরেলে নতুন ৩ রুট একনেকে অনুমোদন