ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রশাসনিক কাঠামোতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী পদটি হলো রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় তার মূল নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। ক্ষমতার দিক থেকে সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশের প্রথম নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বেশ বিস্তৃত।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা মূলত দুটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রথমটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং দ্বিতীয়টি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের নিয়োগ ব্যতীত অন্য যেকোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে কাজ করতে হয়।

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আরেকটি বিশেষ অধিকার হলো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা। তবে সংসদীয় কাঠামোর কারণে এই ক্ষমার ক্ষেত্রেও সরকারের সুপারিশের প্রয়োজন হয়। পদমর্যাদার কারণে রাষ্ট্রপতি পান পূর্ণ সাংবিধানিক দায়মুক্তি। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা সমন জারির বিধান নেই।

আরও পড়ুন

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নির্ধারিত হয় বিশেষ আইনের মাধ্যমে। দ্য প্রেসিডেন্টস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ সংশোধন অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। এর আগে ২০১৬ সালের সংশোধনীতে বেতন বাড়িয়ে এই টাকা নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক ও আবাসিক ঠিকানা হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে ঐতিহাসিক বঙ্গভবন। এই বাসভবনের সাজসজ্জা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করা হয় সরকারি কোষাগার থেকে।

যাতায়াত ও সফরের জন্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় খরচে সর্বোচ্চ মানের পরিবহন সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের সময় সরকার নির্ধারিত হারে পান বিশেষ দৈনিক ভাতা। রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা বিনোদনের জন্য পৃথক বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ থাকে, যার ব্যয় হিসাবের ক্ষেত্রে সাধারণ নিরীক্ষা প্রযোজ্য হয় না। এমনকি মেয়াদ শেষে পদ ত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আইন অনুযায়ী পেনশন, বিশেষ নিরাপত্তা ও আজীবন নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা ভোগ করেন।

সার্বিকভাবে দেশের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা অবস্থান করলেও সংবিধানের সুরক্ষক ও রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি, পাবেন না যারা
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় এক দিনের ছুটি থাকবে। তবে এ ছুটি সরকারি ছুটি নয়। ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ অন্যান্য কর্মস্থলে ওই দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।
২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি, পাবেন না যারা
সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন
সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া একই বা সমতুল্য পদে নির্দিষ্ট সময় চাকরি পূর্ণ করলে বর্তমানের তুলনায় কম সময়েই প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই সরকারের বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।  সাক্ষাৎকালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।  সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকরা যাতে এসব মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আরটিভি/এসএস
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী
একনেকে অনুমোদন পেল ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প 
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একনেকের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
একনেকে অনুমোদন পেল ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প 
‘এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী’
উত্তরের পাঁচ জেলায় আগ্রাসী হয়ে উঠেছে তিস্তার ভাঙন, জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না ভাঙন। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব। 
‘এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী’
আরও পড়ুন
সিলেটের পর্যটন ও চা শিল্পে অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির 
গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি
সিলেট পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি