ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া একই বা সমতুল্য পদে নির্দিষ্ট সময় চাকরি পূর্ণ করলে বর্তমানের তুলনায় কম সময়েই প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে ১১তম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পান। এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর আরও ছয় বছর পদোন্নতি না হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবনায় প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে আট বছর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, একই বা সমতুল্য পদে পদোন্নতি ছাড়া আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

এরপর আরও ছয় বছর একই বা সমতুল্য পদে থাকলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় একজন কর্মচারী একই পদে দুইবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত এই সুবিধা প্রযোজ্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কর্মচারীরা উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে তৃতীয় বা তার ওপরে গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না।

এ ছাড়া আগের বেতনস্কেলগুলোতে একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা স্কেল পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে একই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুযোগ থাকবে না এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে একই পদে কোনো কর্মচারী মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, সেই সুবিধা পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে আগের সময়ের কোনো বকেয়া পাওনা বা নতুন গ্রেড অনুযায়ী অতীত সময়ের বেতন পুনর্নির্ধারণের সুবিধা থাকবে না।

এদিকে, আগে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়েও আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে আপিল বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের রিভিউ আবেদন খারিজ করে উচ্চতর গ্রেড সুবিধা-সংক্রান্ত আগের রায় বহাল রাখেন।

তবে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে এসব পরিবর্তন এখনো প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের অংশ। চূড়ান্ত গেজেট ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নতুন নিয়মের চূড়ান্ত প্রয়োগ পদ্ধতি স্পষ্ট হবে।

নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর পদ, যোগদানের তারিখ, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে বড় সুখবর
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে বড় আইনি জটিলতা কেটেছে। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ ১৩ হাজার ৫৫৯ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।  ফলে ওই শর্তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) শিক্ষা সচিবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।  তবে হাইকোর্টে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে এসব পদ বাদে বাকি পদগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, চলতি বছরের ২৫ মার্চ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ১৮ বছর করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের জনবল কাঠামোয় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান ছিল। পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থাও ছিল। নতুন এই শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান বাতিল করে রুল অ্যাবসোলিউট ঘোষণা করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পক্ষ থেকে আপিল করা হলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এদিকে ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়েই ভাইভায় অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া ফের গতি পাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ভাইভা শুরুর কথা রয়েছে। ফলে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য সংরক্ষিত পদ বাদে অন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের সামনে আপাতত কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। আরটিভি/এসআর
সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে বড় সুখবর
‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’
নীতিনির্ধারকরা হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া পৃথিবীর কোথাও দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। চিকিৎসক হিসেবে এ ধরনের কাজ মেনে নিতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। 
‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’
দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সব হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্ত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর জন্য বিশেষ বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে যাতে কোন ধরনের সমস্য না হয় সে জন্য ঢাকা মেডিকেল থেকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে কিছু রোগীকে স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভা শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।  এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম জানান, সভায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে বার্ন ইউনিটে কিছু রোগীকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।  এ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।  নুরুল ইসলাম আরও বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীর জন্য শয্যা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। আসলে রোগীতো ঢাকাতেই বেশি তাই আমরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের বেড বাড়াতে বলেছি। পরিচালক জানান, সংকটের সময়েও সরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তবে রোগীর সংখ্যা শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে রোগীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই ভোগান্তি কমাতেই ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন এবং মারা গেছেন ২৮১ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩২ জন এবং নারী ১৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ঢাকা বিভাগেই ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল বিভাগে ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।  আরটিভি/এসআর
দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা
নোট অব ডিসেন্ট ও জুলাই সনদ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে। একথা বলেছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
নোট অব ডিসেন্ট ও জুলাই সনদ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নিয়ম
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)।
ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নিয়ম
আরও পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ কত 
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ ধরনের সুযোগ-সুবিধায় আসছে বড় পরিবর্তন