ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
সিজিএসের সংলাপে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।’ বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় এবং এ জন্য সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের তোপের মুখে না রাখেন, তাহলে আমরা পথ হারাতে পারি। তবে সেই চাপের ভাষা ও পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।’ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কারও সভা-সমাবেশে বাধা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল, তাতে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’-এর মতো হয়ে উঠতে পারত। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারা সংসদে ফিরবেন। তবে তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে সফল না হলে সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত। আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি পরিবর্তনযোগ্য। এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদেও সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরতে চাই না। আমরা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’

একটি গুমের অভিযোগ এসেছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তা অস্বীকার করছি না। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ। বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায়। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চাই।’

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখানে গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে সংস্কারের জন্য, কোনো বিপ্লব হয়নি। সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে পারলে এ কঠিন যাত্রা সুস্থ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি না হওয়ায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফার চেতনাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তবে তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সংস্কারের কাজে সবাইকে গঠনমূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। দূরত্ব কমাতে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঐকমত্য ছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই সব সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় ঐক্য ও পরিচয় শক্তিশালী না হলে সংস্কার কার্যকর হবে না। বিচারক নিয়োগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক বলেন, র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে শুধু প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছে, তার বিপরীত পথে হাঁটতে না পারলে সেই সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া যাবে না।

একই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছিল। সেই আস্থা নষ্ট করা উচিত নয়। গণভোটের রায় জনগণ দিয়েছে এবং এই রায় বিএনপিকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ জাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শুধু চিকিৎসকদের দোষারোপ করে মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমিশন নিয়েও তেমন আলোচনা হচ্ছে না।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, শুধু পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান থেকে দেশকে রক্ষা করতে গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া এবং তা মেনে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। সরকারের ঘাটতি থাকলে জনগণ তা সহজেই বুঝতে পারবে। সামগ্রিকভাবে কাজ করতে হবে এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেও মব ভায়োলেন্স (উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক সহিংসতা) অব্যাহত রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে বিনিয়োগ আসবে না। ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও চর্চা সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো এখনো নিশ্চিত হয়নি। গণমাধ্যমের ওপর থাকা অদৃশ্য বাধা দূর করে সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন করতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আইনবিষয়ক সম্পাদক এম ইকবাল হাসান বলেন, মাজারে ভাঙচুর ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হামলার ঘটনায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারগুলো বরাবরই অনীহা দেখায়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। ভবিষ্যতের কমিশনগুলো দেশে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া দরকার। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জায়গা সরকারকে তৈরি করতে হবে। নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে তা দেখাতে হবে।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণ স্পষ্ট ও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যমান কাঠামোতে ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আসে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা জানান গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া সমাবেশে অনুমতি না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রত্যাশা থাকলেও বিএনপি হয়তো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। শুরুতে তিনি বলেন, জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বিবেচনা করেই ভোট দিয়েছে। সরকারের সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে। তাই ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জনগণকে হতাশ না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জবাবদিহিতা নিশ্চিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
জবাবদিহিতা নিশ্চিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার: জাহেদ উর রহমান
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল অবস্থায় এলে দেশে তেলের দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।  তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বর্তমানে কিছুটা কমলেও এই পতন কতটা টেকসই, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। তবে তেলের দাম কমমূল্যে স্থিতিশীল হলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবে।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে এক সাংবাদিক জানতে চান, তেলের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের কাছাকাছি ছিল, তখন দেশে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে তা কমে এসেছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে তেলের দাম কত দ্রুত সমন্বয় করা হবে? জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সরকার যে দরে সমন্বয় করেছিল, তার তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে দাম কমার পেছনের কারণটিও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, যেদিন আমরা তেলের মূল্য বাড়ালাম, তখন নিউজ কি হয়েছিল? তেলের মূল্য কমছে। ওইদিনই তেলের মূল্য একটু কমেছিল। মজার ব্যাপার, তার তিন-চার দিন পর আবার তেলের মূল্য বেড়েছে। আবার ১০৬-১০৭ এ চলে গিয়েছে।  তেলের বর্তমান দর কমার কারণ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোর কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বড় পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটা ডেটা পেলাম, কিন্তু ডেটার কারণটা যদি খুঁজি আপনারা খুঁজলেই দেখবেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে একটা বড় রিজার্ভ বাজারে ছেড়েছেন। তেলের দাম বর্তমান পর্যায়ে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সেখানে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল দাম হিসেবে ধরে নেওয়া কঠিন। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমমূল্যে স্থিতিশীল হলে সরকার দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবে। জাহেদ উর রহমান বলেন, তেলের মূল্য মোটামুটি একটা স্টেবল অবস্থায় এবং যদি কমমূল্যে স্টেবল হয়, তখন অবশ্যই, অবশ্যই সরকার বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই যে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, এই যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইনভেস্টমেন্ট কম হচ্ছে, এর প্রধান সাফারার তো জনগণ এবং জনগণ মানে সরকার। তিনি বলেন, একটি দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কমে যায়। এতে মানুষ চাকরি হারাতে পারে, নতুন চাকরির সুযোগ কমে এবং বিদ্যমান কর্মীদের বেতনও বাড়ে না। ফলে বিষয়টি সরকারের জন্যও ইতিবাচক নয়। তিনি আরও বলেন, সরকার সেনসিটিভ আছে, মূল্যটা যদি পরিস্থিতি হয় আমরা তো উল্টোটাও বিবেচনা করব। সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা, সেন্টমার্টিনের পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা এবং পরিবেশ নিয়ে বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহী এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে প্রকল্পের অর্থায়ন চীন করবে, বাংলাদেশ করবে নাকি অন্য কোনো দেশ করবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক ধারণায় নদীশাসন, ভাঙন রোধ ও ভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি ছিল। নতুন পরিকল্পনায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। চীনের সহযোগিতা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলোতে চীনের সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতার মতো একটি অবস্থান হয়েছে। তবে প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কাকে দিয়ে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেন্টমার্টিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বীপটির পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। দ্বীপটির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং এর ইকোসিস্টেম ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা জরুরি। এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিক পেটানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসকে
জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার: জাহেদ উর রহমান
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘কমনওয়েলথ বিজনেসউইমেনস নেটওয়ার্ক’-এর নির্বাহী পরিচালক আরিফ জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান। আগামী নভেম্বরে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন (সিএইচওজিএম)। সম্মেলনে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের স্থান হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী ও কমনওয়েলথ প্রতিনিধির মধ্যকার এ আলোচনায় বাংলাদেশকে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার দেশ হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী ‘উৎপাদন হাব’ হিসেবে দেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। বৈঠকে কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোগ জোরদার করা, ব্লু-ইকোনমিতে টেকসই সম্ভাবনার বিকাশ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ‘সার্কুলার ইকোনমি’ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও তারা মতবিনিময় করেন। এছাড়া মূল সম্মেলনের পাশাপাশি ‘কমনওয়েলথ উইমেনস ফোরাম’ নিয়েও কথা হয়। এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে কমনওয়েলথের এই ফোরামগুলোকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলে ধরা ও যোগাযোগ আরো জোরালো করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী
মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে (২২ দিন) জেলেদের জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। 
মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
আরও পড়ুন
আগের বিয়ে গোপন করে আবারও বিয়ের রাস্তা বন্ধ হতে যাচ্ছে
আন্তদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর
একজন ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী
গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী