ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা

উপকূলের ৪০ পেরোনো প্রতি পাঁচজনের একজন হৃদ্‌রোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকিতে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের উপকূলে খাবার পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। সেই পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে সেখানকার মানুষের বাড়ছে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। এমনকি কিডনি রোগ ও গর্ভাবস্থায় নানা জটিলতার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। খুলনার কয়রা ও আশাশুনি উপজেলায় পরিচালিত একটি গবেষণার প্রাথমিক ফলে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুই উপজেলার খাবার পানির উৎসগুলোর একটি বড় অংশেই লবণাক্ততা রয়েছে। কয়রায় খাবার পানির ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। আশাশুনিতে এ হার ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সঙ্গে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের আগামী ১০ বছরে হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার মাঝারি থেকে উচ্চঝুঁকি রয়েছে।

গতকাল মহাখালীর আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সহযোগিতায় আইসিডিডিআর,বি আয়োজিত ‘পানীয় জলের লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশের প্রমাণ ও নীতিগত সুপারিশ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের নীতি ও গবেষণার ফল প্রকাশ সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. আলিয়া নাহিদ ‘এনআইএইচআর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’-এর বাংলাদেশ কর্মসূচির প্রাথমিক ফল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, গবেষণার আওতায় খুলনার কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাধীন ১৭২টি গ্রামে খাবার পানির উৎসগুলোর লবণাক্ততা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকরা মোট ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস জরিপ করেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ উৎস মানুষ খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করছিল। এ খাবার পানির উৎসগুলোর মধ্যে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, উপকূলীয় লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য যে পানির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেই পানিই ক্রমে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। খাবার পানির লবণাক্ততা এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চরক্তচাপের পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরাও বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

গবেষণার আরেকটি অংশে কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ প্রাপ্তবয়স্কের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন বা ২১ দশমিক ৬ শতাংশ আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ শতাংশ বা তার বেশি ঝুঁকিকে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কয়রায় এ হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ফলের ভিত্তিতে গবেষকদল পানি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একটি সমন্বিত ইন্টারভেনশন প্যাকেজ তৈরি করেছে। এর লক্ষ্য হলো কম লবণাক্ত খাবার পানির প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও চিকিৎসাসেবা জোরদার করা। এতে কমিউনিটি রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ও টিউবওয়েল স্থাপনের পাশাপাশি খাবার পানির উৎসগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল রেজিস্ট্রি ও মনিটরিং ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে কমিউনিটি মোবিলাইজেশন ও স্বাস্থ্যশিক্ষার পাশাপাশি উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ডিজিটাল সেবা যুক্ত করা হবে। অ্যালগরিদমভিত্তিক ‘ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে রোগীদের স্ক্রিনিং, রেফারেল, চিকিৎসা ও ফলোআপে সহায়তা করা হবে।

উপকূলীয় বাংলাদেশে গত প্রায় দুই দশকে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় খাবার পানির লবণাক্ততা, বিশেষ করে পানিতে অতিরিক্ত সোডিয়ামের উপস্থিতির সঙ্গে রক্তচাপ বৃদ্ধির যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে খাবার পানিতে লবণাক্ততার সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যভিত্তিক নিরাপদ মাত্রা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পাওলো ভিইনিস। তিনি বলেন, খাবার পানির লবণাক্ততার জন্য এখনো সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যভিত্তিক মাত্রা নির্ধারিত হয়নি। সোডিয়ামসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খাবার পানির স্বাস্থ্যভিত্তিক মানদণ্ড নির্ধারণে উপযুক্ত নির্দেশিকা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বাটলার দেখান, কীভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাস খাবার পানির পুকুর ও অগভীর ভূগর্ভস্থ পানিতে দীর্ঘমেয়াদি লবণাক্ততা তৈরি করতে পারে।

তিনি জলোচ্ছ্বাসের পর পানির উৎসগুলো দ্রুত পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি উপকূলীয় পোল্ডার ও বাঁধ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উঁচু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ এখনো সীমিত। বাস্তবসম্মত অভিযোজন কৌশল ও উদ্ভাবনের ওপর গবেষণার পরিমাণ আরও কম। নিরাপদ খাবার পানি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করে তথ্য-প্রমাণ তৈরি এবং বিভিন্ন সমাধান পরীক্ষা করার মাধ্যমে আইসিডিডিআর,বি এ গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতিগুলো পূরণে কাজ করছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিসেস ফাহমিদা খানম বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য লবণাক্ততা এরই মধ্যে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ আরও বাড়তে পারে। এ ধরনের গবেষণালব্ধ প্রমাণ দেশের অভ্যন্তরে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য অভিযোজন এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় প্রশমন কৌশল গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, এ ধরনের গবেষণা পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দেয়। লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়মিত পরিবীক্ষণ জোরদার করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার বা প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবাধ-সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোট করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করতে চায় সরকার। আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। প্রসঙ্গত, আগামী বছরে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি। রোজার আগে প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি এবং রোজার পরে তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে হবে ভোট।  আরটিভি/এসআর
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম
আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরুর ত্রিশ বছর উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ করেছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। অনুষ্ঠানে নুরুল হক বলেন, প্রবাসীরা আমাদের সোনার মানুষ। তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি যখন ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি গুগল মিট ও জুমের মাধ্যমে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, প্রবাসীদের প্রধানত তিনটি সাধারণ সমস্যা রয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, দেশে পাসপোর্ট তৈরি করতেও অনেক সময় দালালের সহায়তা নিতে হয়। পাসপোর্ট সেবায় দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, অনেক প্রবাসী বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পান না। ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার পর প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে তাদের অনেক কষ্টে টিকে থাকতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে সেবা পেতে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন সমস্যার কথাও তারা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।  ‘জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। প্রবাসী কার্ডটি আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে তাদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার বিষয়টি সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’ অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সাত দিনের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে তিন শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গে এই ব্যাংকের সংযোগ থাকবে বলেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঋণসুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরে ব্যবসা করতে চাইলে, কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুনদের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা বলেছেন। অভিবাসন খাতেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। আমি আশা করি, গত তিন দশকে এই খাতে তাদের অভিজ্ঞতা ও অর্জন আগামী দিনেও বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, গত তিন দশকে আরএমএমআরইউ ১০০টির বেশি গবেষণা পরিচালনা, ১৩টি জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান এবং বাংলাদেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদান করেছে। এসব কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, অভিবাসনসংক্রান্ত নতুন জ্ঞান বিনিময় এবং আগামী দিনের নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।  সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান সঞ্চালক রামরুর উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ এবং পরিচালক (প্রোগ্রাম) মারিনা সুলতানা। এরপর রামরুর অভিবাসন শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি, গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক
রূপপুরে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে রোসাটমের ওআইএসএস প্রযুক্তি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রূপপুরে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে রোসাটমের ওআইএসএস প্রযুক্তি
ইলিশের উৎপাদন বাড়তে সরকারের বড় উদ্যোগ  
জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ নিয়ে কাজের অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন...
ইলিশের উৎপাদন বাড়তে সরকারের বড় উদ্যোগ  
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সম্ভাবনা তার অন্যতম উদাহরণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ৭ বছর আগে গড়ে ওঠা এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
আরও পড়ুন
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত