
‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সামনে রেখে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচার কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে সাত ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।
সরকারের নির্দেশনাগুলো হলো:
১. লোগো, মাসকট ও ব্যানার প্রদর্শন: মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে ব্যানার: প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বা গেটে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিযোগিতার ব্যানার টানাতে হবে।
৩. প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রচার: প্রতিষ্ঠানের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ড্রপডাউন ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।
৪. শ্রেণিকক্ষে প্রচার: ক্লাস চলাকালে প্রতিটি শ্রেণিতে নোটিশ পাঠ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানাতে হবে।
৫. নোটিশ বোর্ডে তথ্য: প্রতিষ্ঠানের মূল নোটিশ বোর্ডে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার: প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, গ্রুপসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিযোগিতার প্রচার চালাতে হবে।
৭. ওয়েবসাইটে প্রচার: প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যানার প্রকাশ করতে হবে।
প্রচার উপকরণ হিসেবে লোগো, মাসকট, ব্যানার ও ফেস্টুনের নমুনা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে প্রচার ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
যেভাবে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এবারের ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ফুটবল দল গঠনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। জেলা পর্যায়ের খেলা ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর, শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের খেলা ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা পর্যায়ের খেলা ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর, শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগ থাকবে মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)। উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় এই চার ধাপে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ করতে উপজেলা পর্যায়ের খেলা চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা জেলা এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে।
ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এই সাত শিক্ষা অঞ্চলের বিজয়ী দলের সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে।
জাতীয় পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক দুই স্তরে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ৩২টি দল খেলবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৬টি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১৬টি দল থাকবে।
খেলোয়াড়দের বয়স ও যোগ্যতা
নীতিমালা অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। খেলোয়াড়কে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে অংশ নিতে পারবেন।
প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কর্মকর্তা বা শিক্ষক,ম্যানেজার ও কোচ থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।
অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তি
প্রতিযোগিতায় অবৈধ, ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো দল পাতানো ম্যাচে জড়িত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলা ছেড়ে মাঠ থেকে উঠে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
এ ছাড়া রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করলে দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে।
আরটিভি/এসকে


