ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টয়োটার ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান তারা।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে।

প্রধানমন্ত্রী টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকে টয়োটা পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে টয়োটা বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে “বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য” উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে Hybrid Electric Vehicle (HEV) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।

টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটার সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন পে-স্কেলের মধ্যেই প্রাইমারির প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়াল সরকার
নতুন পে-স্কেল কার্যকরের মধ্যেই সুখবর পেলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি ইনটিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস++) পোর্টালে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এতে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা। আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++ সফটওয়্যারে যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ (জিও) জারির তারিখের পূর্বের কোনো আর্থিক বকেয়া তারা প্রাপ্য হবেন না। প্রসঙ্গত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। আদালতের রায়ের পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে ১১তম গ্রেডে থাকা প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি এখন আইবাস++-এ যুক্ত হবে। তবে জিও জারির আগের সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ফলে ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ায় প্রধান শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এর আগে ১১তম ও ১২তম গ্রেডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হতো। পুরোনো পে স্কেলে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হতো। নতুন পে স্কেলে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন এ বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল অনুমোদনের পর ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আরটিভি/এসআর
নতুন পে-স্কেলের মধ্যেই প্রাইমারির প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়াল সরকার
সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর
শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মা-বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তিন দিনের পারিবারিক সফরে সুন্দরবনে গিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পায়ের তাজা ছাপ দেখেছিলেন তিনি, যা এখনও তার মনে পড়ে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে শিশুদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এক শিশু প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের প্রিয় স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একবার তাকে, তার ছোট ভাই ও তাদের মা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনে আমরা হিরণ পয়েন্ট নামের একটি জায়গায় নেমেছিলাম, যেটি ছোট একটি দ্বীপের মতো। সেখানে একটি পুকুর ছিল। ওখানকার লোকজন আমাদের বলেছিলেন, আগের রাতে একটি বাঘ পানি খেতে পুকুরে এসেছিল। পুকুরের পাশের কাদায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একেবারে তাজা পায়ের ছাপ ছিল। সেই স্মৃতি এখনও মনে পড়ে।’ শৈশবে বড় হয়ে কী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ওই বয়সে তার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, তখন আমার আসলে কোনো স্বপ্ন ছিল না। তোমাদের মতো ছোট থাকাকালে শুধু ভাবতাম, বড় হয়ে সব খেলনা কিনে নেব।’ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের তাদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, কোরআন তিলাওয়াত, খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। তারেক রহমান বলেন, ‘তোমাদের শুধু লেখাপড়া করলেই হবে না। পাশাপাশি তোমাদের মধ্যে থাকা অন্যান্য গুণ ও প্রতিভা বিকাশের এবং সেগুলো চর্চা ও প্রকাশের সুযোগও থাকতে হবে।’ প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, শিশুরা শিক্ষা, বিজ্ঞান মেলা, খেলাধুলা ও অন্যান্য উপকারী কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো এড়িয়ে চলা উচিত। একপর্যায়ে শিশুদের করা প্রশ্নের ধরন দেখে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, কিছু প্রশ্ন হয়তো বড়রা তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি শিশুদের মনে আসা যেকোনো প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেন। কোন কোন স্কুলে পড়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তিনি দুটি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন—শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুল। খেলার মাঠ ও ইনডোর স্টেডিয়াম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন বা উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলার জন্য খোলা মাঠ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে সব জায়গায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খোলা জায়গা অভিভাবকরাও হাঁটাচলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। শিশুদের সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিময়ে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিল্প প্রতিযোগিতা, কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা এবং ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনে বাংলাদেশের শিশুরা ভালো করেছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে খেলাধুলা, বিজ্ঞান মেলা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুরা যাতে ভালো ফলাফল নিয়ে দেশে ফিরতে পারে, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চায়। শৈশবে সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখার স্মৃতিচারণ প্রধানমন্ত্রীর শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পথশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, লাখ লাখ শিশু এখনও মৌলিক শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকার ধীরে ধীরে এসব শিশুর কাছে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে সময় লাগবে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আমরা পারব।’ শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধিতা রয়েছে—এমন শিশুদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তাদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সীমিত এবং সরকার সেগুলো সম্প্রসারণ করতে চায়। তিনি জানান, সরকার আরও স্কুল ও সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও প্রশিক্ষক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত অবকাঠামো ও জনবল তৈরি করতে হবে। তাই এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের মতামত নেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি মাঝে মাঝে তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উপস্থিত শিশুদের চেয়ে বয়সে বড় হলেও প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় অনেক ছোট। তিনি বলেন, জাইমা কখনও কখনও তার বয়সী ও তার চেয়ে ছোটদের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে তাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারেন, যা শিশুদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। বিশেষ এই দিনে শিশুদের উদ্দেশে তার বার্তা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, শিশুরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা কখনও টেলিভিশনে বা কোনো ভিডিওতে কোনো সুন্দর দেশ দেখে নিশ্চয়ই চিন্তা করো, বাংলাদেশটা যদি এমন হতো। অবশ্যই বাংলাদেশকে এমন করা সম্ভব। তোমরা সবাই যদি একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নাও, তোমরা বাংলাদেশকে এমন একটি সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে, তাহলে এটা সম্ভব।’ প্রধানমন্ত্রী শিশুদের নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের শিশুরা নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানও এ প্রশ্নোত্তর পর্বে যোগ দেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও শিশুদের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করে এবং তিনি জবাব দেন। আরটিভি/এসআর
সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর
সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে বড় সুখবর
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে বড় আইনি জটিলতা কেটেছে। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ ১৩ হাজার ৫৫৯ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।  ফলে ওই শর্তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) শিক্ষা সচিবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।  তবে হাইকোর্টে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে এসব পদ বাদে বাকি পদগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, চলতি বছরের ২৫ মার্চ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ১৮ বছর করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের জনবল কাঠামোয় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান ছিল। পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থাও ছিল। নতুন এই শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান বাতিল করে রুল অ্যাবসোলিউট ঘোষণা করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পক্ষ থেকে আপিল করা হলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এদিকে ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়েই ভাইভায় অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া ফের গতি পাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ভাইভা শুরুর কথা রয়েছে। ফলে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য সংরক্ষিত পদ বাদে অন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের সামনে আপাতত কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। আরটিভি/এসআর
সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে বড় সুখবর
‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’
নীতিনির্ধারকরা হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া পৃথিবীর কোথাও দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। চিকিৎসক হিসেবে এ ধরনের কাজ মেনে নিতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। 
‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’
দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সব হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্ত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর জন্য বিশেষ বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে যাতে কোন ধরনের সমস্য না হয় সে জন্য ঢাকা মেডিকেল থেকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে কিছু রোগীকে স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভা শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।  এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম জানান, সভায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে বার্ন ইউনিটে কিছু রোগীকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।  এ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।  নুরুল ইসলাম আরও বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীর জন্য শয্যা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। আসলে রোগীতো ঢাকাতেই বেশি তাই আমরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের বেড বাড়াতে বলেছি। পরিচালক জানান, সংকটের সময়েও সরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তবে রোগীর সংখ্যা শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে রোগীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই ভোগান্তি কমাতেই ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন এবং মারা গেছেন ২৮১ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩২ জন এবং নারী ১৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ঢাকা বিভাগেই ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল বিভাগে ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।  আরটিভি/এসআর
দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা
আরও পড়ুন
সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী মনোনীত
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর জন্য মনোনীত রুয়েটের ৭ শিক্ষার্থী