ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এখনও ফেরেনি তারা, থামেনি পরিবারের কান্না

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস; গুমের শিকার চৌধুরী আলম, এম ইলিয়াস আলী, পারভেজ হোসেন, মো. কুদ্দুসুর রহমান চৌধুরী, সাজেদুল ইসলাম সুমন। ছবি: সংগৃহীত

আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে দিনটি আবারও বয়ে এনেছে অপেক্ষা, হতাশা ও বেদনার স্মৃতি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক স্বজন আশা করেছিলেন, নিখোঁজদের সন্ধান মিলবে কিংবা তাদের উদ্ধার করা হবে। কিন্তু এখনো ২৫১ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাউ’। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আজ রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে (আইবি) সমাবেশের আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। এতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিবৃতি দিয়েছেন।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানানো এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা। তাদের মতে, শুধু আইন করলেই গুমের প্রতিকার সম্ভব নয়; রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

আরও পড়ুন

১৬ বছরেও ফেরেননি চৌধুরী আলম

গুমের শিকার আলোচিত ব্যক্তিদের একজন বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্ত্রী হাসিনা চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যরা এখনো তার ফেরার অপেক্ষায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসিনা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি এখনো অপেক্ষায় আছি—আমার স্বামী ফিরে আসবেন। আল্লাহ একদিন আমার দিকে চোখ তুলে তাকাবেন। আমার সন্তানরাও বাবাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাসবে। আল্লাহ যেন এ দিনটি দেখার পর আমাকে মৃত্যু দেন।

২০১০ সালের ২৫ জুন গুমের শিকার হন তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর, বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম। পরিবারের অভিযোগ, ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় মামলা হলে থানা পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। তবে প্রতিবেদনে তার গুমের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

চৌধুরী আলমের গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা চলছে।

চৌধুরী আলমের ছেলে ও শাহবাগ থানা বিএনপির নেতা আবু সাদাত সাওয়ান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, সরকার এখনো ঘোষণা করেনি যে তার বাবা আর বেঁচে নেই। তাই তারা এখনো বাবার ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

দেড় দশকে ১ হাজার ৫৬৯ গুমের তথ্য

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের হিসাবে, আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনকালে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ। এছাড়া ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এসব ব্যক্তির অনেকেই কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ শিকার হয়েছেন অথবা নদীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছেন।

সূত্র অনুযায়ী, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগকে সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘নিখোঁজ ও মৃত’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুমের ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

এখনো নিখোঁজ ইলিয়াস আলী

আলোচিত গুমের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ তিনি নিখোঁজ হন।

এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে তার পরিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। আদালত রুল জারি করলেও তার কোনো হদিস মেলেনি।

eliyas_ali_family_and_sheikh_hasina
নিখোঁজের পর পরই দুই পুত্র ও শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন । ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘদিন তদন্তের কথা বললেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা বাংলাদেশে গুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অন্যতম বড় প্রতীক হিসেবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনেও স্থান পেয়েছে।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী গণমাধ্যমের কাছে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাবার আদর না পেয়েই বড় হচ্ছে আরাফ

১১ বছর বয়সি আরাফ হোসেন পৃথিবীর আলো দেখার কয়েক মাস আগে তার বাবা পারভেজ হোসেনকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে একদল লোক গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।

আরাফ এখন মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার আদর ও স্নেহ কেমন, তা জানে না সে।

পারভেজ হোসেন ছিলেন বংশাল থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে রাজধানীর ওয়ারী থানার যোগীনগর এলাকায় বোনের বাসায় থাকেন।

বংশাল_থানা_ছাত্রদলের_সাধারণ_সম্পাদক_পারভেজের_পরিবার
গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা পারভেজের পরিবার । ছবি: সংগৃহীত

ফারজানা গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর দুপুরে শাহবাগ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তিন সহযোগীসহ পারভেজকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে অভিযোগ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও মামলা করেন।

ফারজানা গণমাধ্যমকে বলেন, ৫ আগস্টের পর আশায় বুক বেঁধেছিলাম স্বামী ফিরে আসবে। কিন্তু এখনো এলো না। আমি আজও তার ফেরার অপেক্ষায় আছি। আমার বিশ্বাস সে ফিরে আসবে।

১২ বছরেও সন্ধান নেই ব্যবসায়ী কুদ্দুসুরের

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী মো. কুদ্দুসুর রহমান চৌধুরী। পরিবারের দাবি, সাদা পোশাকে একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা কুদ্দুসুরের পূর্বপরিচিত ছিলেন বলেও দাবি পরিবারের।

কুদ্দুসুরের সঙ্গে থাকা তার ভাতিজা মোহাম্মদ সাজাহান অপহরণকারীদের চিনতে পেরেছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি তাকে তুলে নেওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, সেটিও জানেন না স্বজনরা।

ঘটনার পর কুদ্দুসুরের স্ত্রী জোসনা বেগম পল্লবী থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে থানা পুলিশ ও পুলিশের দুটি বিশেষায়িত সংস্থা মামলাটি তদন্ত করে। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্তদেরও আইনের আওতায় আনা যায়নি।

জোসনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মন বলছে এখনো সে বেঁচে আছে। হয়তো একদিন ফিরে আসবে। আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই।

সুমনেরও খোঁজ মেলেনি

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ঢাকা মহানগর বিএনপির ৩৮ নম্বর, বর্তমানে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন।

সুমন
নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছবি হাতে বোন মারুফা ইসলাম । ছবি: সংগৃহীত

এরপর থেকে তারও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কারী এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির ভাই।

গুম প্রতিরোধ দিবসের আয়োজন

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উদযাপনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার কোনো ধরনের গুম, খুন বা নির্যাতনে বিশ্বাস করে না। অনুষ্ঠানে গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

‘শুধু আইন করলেই হবে না’

এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) আইন ও সালিশ কেন্দ্র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, গুমের অবসান ঘটাতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। প্রতিটি গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদ্ঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

গুমের অবসান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদ্ঘাটন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। কেউ স্বামীকে, কেউ বাবাকে, কেউ ভাইকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। তাদের কাছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস শুধু একটি দিবস নয়—প্রিয় মানুষটির সন্ধান পাওয়ার দাবিও।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, তারেক রহমান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ এ অধিবেশনে যোগ দেন।  সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় বি আদ্যাক্ষরের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন পায়। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থায় তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন। আরটিভি/এসআর
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ) ১১-১৩ শতাংশ হারে মুনাফা দেবে সরকার। তহবিলে জমা অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী তিন স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি বা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ। জিপিএফের আদলে পরিচালিত প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা দিতে পারেন।  জিপিএফ ও সিপিএফ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীর জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অংশ অর্থ দেয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ এ তহবিলে দেয়। জমা করা অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পান অংশগ্রহণকারীরা। আরটিভি/এসআর  
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
বাসের পর এবার লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব
জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা (১০০ কিলোমিটারের মধ্যে) বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর এ প্রস্তাব দেন।  আর ১০০ কিলোমিটারের বাইরে ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। এতে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হলে বর্তমান ভাড়ার তুলনায় ৫১ শতাংশ বাড়বে। একই হারে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ভাড়া বাড়ালে তা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে বলে দাবি করেছে তারা। চিঠিতে আরও বলা হয়, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্থিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা ও নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও দাবি করেছে লঞ্চমালিকদের সংগঠনটি। চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীর ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন অথবা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা। আরটিভি/এসআর  
বাসের পর এবার লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব