ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভোটারের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর নিতে পারবেন না প্রার্থীরা: ইসি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
প্রতীকী ছবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসে লেনদেনের জন্য ভোটার কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এর নির্বাচনী আচরণ বিধির গেজেটে এই বিধান জারি করে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই বিধান জারি করা হয়েছে।

এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনী আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না।

একইসঙ্গে ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। এমএফএসে লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটার কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ফলে ভোটারকে প্রভাবিত করার জন্য অর্থের ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকছে না। বিধানটিতে ভোটারের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা নয়
আচরণবিধিতে মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং, প্যাগোডা, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে কোনো সরকারি অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

তবে শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা যাবে।

নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না
নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা যাবে না। অনভিপ্রেত গোলযোগ বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে কারও শান্তি বিনষ্ট করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ভোটারকে প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয় নিষিদ্ধ
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ কিংবা অর্থ ব্যয় করা যাবে না। অর্থাৎ ভোট আদায়ের জন্য সরাসরি অর্থের ব্যবহার যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি ভয়ভীতি বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও ভোটারকে প্রভাবিত করা যাবে না।

ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিষিদ্ধ
কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বিস্ফোরক, বিস্ফোরক দ্রব্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বিস্ফোরক ও অস্ত্রসংক্রান্ত আইনে সংজ্ঞায়িত সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

মাইক ব্যবহারে সময় ও শব্দসীমা
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি। আর উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলার অধীন একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় একই সময়ে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। প্রচারে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মাত্রাও ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।

সরকারি কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনপূর্ব সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। আচরণবিধিতে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বরেরই ইউপি নির্বাচনের তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ভোট করা লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ইসি। এক্ষেত্রে অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে ভোট করা হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে ইমামদের প্রতি ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান
সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে ইমামদের প্রতি ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান
অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের এ সময়ে বহুপাক্ষিকতা শুধু একটি বিকল্প নয় বরং অপরিহার্য।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে বিরোধীদলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান‌ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে বিরোধীদলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান‌ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অনেকে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় সরকারের ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে চেয়েছিল‌। তার সাথে গণতান্ত্রিক সরকারের কমিটিকে এক করা উচিত হবে না। বিরোধী দল যদি চায় বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্ট শিথিল করুক, তাহলে তাদের সেই কথা বৈঠকে এসে বলতে হবে। অমরা চাই বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুক। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই। গণভোটকে আমরা স্বীকার করি। তবে তাতে রাখা প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক আছে। গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে আমরা সম্মান করি। যদি আবার গণভোট হয় তবে এটা হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত। সংবিধান সংশোধনে বিশিষ্ট নাগরিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করছে সংবিধান সংশোধন কমিটি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে তারা তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।  আলোচনা হয় ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে। আরটিভি/এসআর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বিরোধীদলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান বিশেষজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হবে। আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করেছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাটবে না। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-আর্টিকেল ৭০-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  এছাড়াও, আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। আরটিভি/এসআর
নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও পড়ুন
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার
ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ ঘোষণা, তবু ভোট দিচ্ছেন প্রতিবছর
কানাডা ছাড়তে নারাজ আলবার্টার ৭৭ শতাংশ ভোটার
আলীকদমে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ