
বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য চীনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
এ সময় উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। পরে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও আস্থাপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশাসন ও জ্ঞান-বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও গভীর করা সম্ভব।
সাক্ষাতে ইয়াও ওয়েন বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের চীন সফরের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও জোরদার করতে ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি’র উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল, সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় বলে মত দেন ইয়াও ওয়েন। এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে দুই দলের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাতে চীনের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএ


