
বহু বছর পর নানা বাড়িতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনব্যাপী সফরে ফেনীতে গিয়ে নানা বাড়ির স্মৃতি তুলে ধরার সময় নেতাকর্মীদের স্লোগান থামিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজকে বহু বছর পরে নানা বাড়িতে আসলাম। সবচেয়ে প্রথম আমি এখানে ১৯৯১ সালে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এসেছিলাম। এখন শুধু নানা বাড়ি বেড়াতে আসলে হবে না, কাজও করতে হবে।
এ সময় তিনি বলেন, এই ভাই দাঁড়াও না, স্লোগানটা দিও না। একটু কথা বলি। বহু বছর পর নানা বাড়ি এসেছি- একটু কথা বলতে দাও।
তিনি বলেন, গুপ্ত দল সবসময় জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে, বিএনপি সর্বশক্তি নিয়োগ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে এবং আইন সবার জন্য সমান থাকবে।
তিনি বলেন, গুপ্ত দলটি সবসময় জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই রাজনৈতিক দলের ১৯৭১ সালে কী ভূমিকা ছিল, সেটিও দেশের মানুষকে ভাবতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে, এমনকি স্বাধীনতার সময়ও কীভাবে তারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। ’৮৬ সালে আমরা দেখেছি, কীভাবে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। প্রত্যেকটি সময় আমরা দেখেছি, প্রতিবারই এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন, এই গুপ্ত দলটি সবসময় দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। দেশের কল্যাণের জন্য। বিএনপির খাল খনন, নদী ড্রেজিং ও কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড সবকিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য।
তিনি বলেন, বিএনপির খাল, নদী খনন সফল হলে পরশুরামের সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। ফলে, ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হবে। এতে ১ লাখ মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
কৃষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা দিতে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা থাকবে না।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের মা ও বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবারের পাশাপাশি পুরুষরাও উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। স্বৈরাচারী সময়ে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেগুলো আবার চালু হচ্ছে। এর ফলে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, পরশুরাম উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
এ সফরে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
আরটিভি/এমএম

