ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

স্লিপার বাসে নতুন চেসিস ও এয়ার সাসপেনশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

স্লিপার বাসের বডি নির্মাণ ও সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালায় স্লিপার বাস তৈরিতে সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহার, পেছনে টেনডেম এক্সেল, সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন এবং এবিএস বা উন্নত প্রযুক্তির ব্রেকিং ব্যবস্থা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্প্রতি ‘স্লিপার বাস গাইডলাইন/নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে একটি খসড়া তৈরি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৮০০টির বেশি স্লিপার বাস চলাচল করছে। এসব বাসের কাঠামো নির্মাণ, বার্থের নকশা, স্থিতিশীলতা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, চালক ছাড়া কমপক্ষে ১৩ জন যাত্রী বহনের উপযোগী এবং যাত্রীরা শুয়ে বা আরাম করে ভ্রমণ করতে পারেন এমন বাসকে স্লিপার বাস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (কমপ্লিটলি বিল্ট-আপ) অবস্থায় কোনো স্লিপার বাস আমদানি করা হয়নি। এ ধরনের বাসের বডি তৈরির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও নেই। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অনলাইন গাইডলাইন পর্যালোচনা করে জরুরি প্রয়োজন ও বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বিআরটিএ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়াই স্লিপার বাস নির্মাণ করে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

খসড়ায় স্লিপার বাস নির্মাণে ব্যবহৃত চেসিস অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরোনো বা ব্যবহৃত চেসিস দিয়ে এ ধরনের বাস তৈরি করা যাবে না। বাসের পেছনে টেনডেম এক্সেল এবং সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন অথবা উন্নত প্রযুক্তির সাসপেনশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্রেকিং ব্যবস্থায় এবিএস (অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম) বা সমমানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বাসের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার সময় প্রতিটি বার্থে ৭৫ কেজি ওজন প্রয়োগ করতে হবে। যাত্রী ও মালামালসহ বাসের সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২১ টন। আর বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা হতে পারবে ৪ দশমিক ২৫ মিটার।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বার্থের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার হতে হবে। এক সারিতে তিনটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার এবং দুটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ ৬৫০ থেকে ৭৫০ মিলিমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।

প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপরের বার্থে ওঠানামার জন্য হাতলসহ সিঁড়ি রাখতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধায় কলিং লাইট ও কলবেল, রিডিং লাইট, হেডরেস্ট, আর্মরেস্ট এবং খাবারের ট্রে রাখার জন্য ভাঁজযোগ্য টেবিল রাখার শর্তও রয়েছে।

স্লিপার বাসে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং কমপক্ষে তিনটি স্মোক ডিটেক্টর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি নির্গমন দরজা, নিচের ও ওপরের ডেকে জরুরি জানালা এবং জরুরি প্রয়োজনে কাচ ভাঙার জন্য সেফটি হ্যামার রাখতে হবে।

এ ছাড়া সার্ভিস দরজার এয়ারলক খোলার জন্য ম্যানুয়াল ভালভ রাখার শর্ত রয়েছে। বার্থের প্যাডে অগ্নিপ্রতিরোধক ফোম ব্যবহার করতে হবে। আসনের কভার, পর্দা, প্লাইউড ও ফ্লোরিংসহ বাসের অভ্যন্তরীণ উপকরণেও নির্ধারিত দাহ্যতা মান বজায় রাখতে হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে স্লিপার বাস নির্মাণ ও চলাচলের ক্ষেত্রে এসব শর্ত কার্যকর করার কাঠামো তৈরি হবে। তবে খসড়ার বিধানগুলো চূড়ান্ত নীতিমালায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ত্রিশিতা মওলা
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ত্রিশিতা মওলা
দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ
বড় ধরনের ভূমিকম্পে কোনো ফায়ার স্টেশন কিংবা হেডকোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে উদ্ধার তৎপরতা থেমে না যায়, সে লক্ষ্যে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া, পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম মোতায়েন, বিভাগীয় শহরগুলোতে পৃথক রেসকিউ টিম গঠন এবং ঢাকার আশপাশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।  ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে একটি জায়গায় নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর পরপর একটি বড় ভূমিকম্প হয়, যাকে মেজর ভূমিকম্প বা মেগা ডিজাস্টার বলা হয়। দেশে বড় স্কেলের একটি ভূমিকম্প হওয়ার শতবছর পার হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে এমন একটি ভীতি রয়েছে। তবে ঝড়ের ক্ষেত্রে যেমন দুই-তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এখনো সেভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি।  ফলে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ভূমিকম্প হলে কী করণীয়, তা আগে থেকেই শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিকেন্দ্রীকরণে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধার ও অন্যান্য কার্যক্রম কমান্ডের ওপর নির্ভর করে।  ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার পুরোনো সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সে লক্ষ্যে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে। মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর ভবন পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন নিয়ে ঝুঁকি থাকায় ঢাকার মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল বিশিষ্ট সদর দপ্তর ভবন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি-জাইকার সহযোগিতায় মিরপুর ১০-এ নির্মাণাধীন এই ভবনে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে।  এতে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়বে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৮ সালে এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা। তখন ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তর করা হবে। ৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম বিকেন্দ্রীকরণ ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য স্টেশনে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও সরঞ্জাম থাকলেও হেডকোয়ার্টারে বেশির ভাগ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা হতো। ভূমিকম্পে হেডকোয়ার্টার ভবন ধসে এসব সরঞ্জাম আটকে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে এসব সরঞ্জাম বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো ফায়ার স্টেশন ভূমিকম্পে আটকে গেলে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিশেষ রেসকিউ টিম গঠন ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ফায়ার স্টেশনের জনবল পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। এ কারণে এসআরটি বা স্পেশাল রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম রাখা হয়েছে, যা দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল এনে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ২০ সদস্যের একটি করে এসআরটি টিম রাখা হয়েছে। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ধরনের দুর্যোগে কলাপসড স্ট্রাকচার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে। ঢাকার সহায়তায় ১০০ ফায়ার স্টেশন প্রস্তুত ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে, যাতে মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা করা যায়। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ চেষ্টা চলছে।  ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প-সম্পর্কিত দুর্যোগ ও মেগা ডিজাস্টারে কাজ করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার কথা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ বড় অগ্নিকাণ্ড বা মেগা ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস কভারেজ ও মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করা হয়েছে। এতে বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ড টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছোট-বড় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সেগুলোর মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।  তিনি বলেন, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলা উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন। বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্যোগে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বাসস’কে বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলা করা। বিশেষ করে ভবনধস, মানুষের আটকে পড়া, গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।  তিনি বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকাজে প্রবেশ করাও উদ্ধারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হবে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়া মানুষকে শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/এসকে
দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ
সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ‘বড় সুখবর’ দিলো সরকার
বরাদ্দের তালিকায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশের ইলিশ আহরণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার জেলে পরিবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ‘বড় সুখবর’ দিলো সরকার
আগের বিয়ে গোপন করে আবারও বিয়ের রাস্তা বন্ধ হতে যাচ্ছে
দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে করা এবং বাল্যবিবাহ দেওয়া রোধে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।  শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানান, বিবাহ নিবন্ধনের অনলাইন তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব কাজীকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে। কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্য জায়গায় আবার বিয়ে করতে গেলে অনলাইনে তার আগের বিবাহের তথ্য দেখা যাবে। এর ফলে পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ওই ব্যক্তির আরেকটি বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে। বিবাহের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আইনমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত বিবাহের তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমবে এবং রাষ্ট্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে না। বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অনলাইনে বিবাহের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির প্রকৃত স্ত্রী কে, সে বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে। এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকার প্রভাব ভাঙতে শিগগিরই লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।  তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রাররা দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় তাদের বদলি করতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ঢাকা শহরের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারদের পোস্টিং লটারি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মনীতি মেনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সব কাজীকে অনলাইনে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। আরটিভি/এসকে
আগের বিয়ে গোপন করে আবারও বিয়ের রাস্তা বন্ধ হতে যাচ্ছে
সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনি দিগন্ত
নতুন এ আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে একটি নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর হলেও দাতা যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন ওই সম্পত্তি নিজের মতো ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারবেন।
সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনি দিগন্ত
আরও পড়ুন
স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ গেল ৯ জনের