
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করার আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এটি উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান বর্তমান ৩ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে পিপিপি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও লিজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়ে পর্যটনকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের সেবা দিতে পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হবে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভালের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, পর্যটনের সব উপাদান থাকা সত্ত্বেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস ভিডিওবার্তা দেন।
আরটিভি/টিআর




