
বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় পরিবারটিকে আবরার ফাহাদ হত্যার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম, সেটি পেয়েছি। ৭ বছর হয়ে গেছে, এখনও আপিল বিভাগে মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আইনের মধ্যে থেকে যত দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করা যায় সে কথা বলেছি প্রধানমন্ত্রীকে। এ বিষয়ে চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, আমাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৭ বছরে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছে, তাদের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা ও তালিকা করার আহ্বান জানিয়েছি প্রধানমন্ত্রীকে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে এরকম তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে অবহিত করেছেন তিনি। আবরার ফাহাদের মতো মৃত্যু যেন আর না ঘটে, সে আহ্বান জানিয়েছি তাকে।
বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে হল করা যায় কি না, প্রধানমন্ত্রীকে সেটি বিবেচনারও অনুরোধ জানিয়েছেন তার ভাই আবরার ফাইয়াজ। এসময় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা সচিবকে কল দিয়েছেন। এ বিষয়ে কিছু করা যায় কি না, সেটি দ্রুততম সময়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বুয়েটে যাওয়ার আমন্ত্রণও বিবেচনার কথা জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেয়ে গড়াই নদীর ওপর ব্রিজের দাবি জানিয়েছে আবরার ফাহাদের পরিবার। দ্রুততম সময়ে এটি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন এটি অবশ্যই আবরার ফাহাদের নামে হবে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে মারা যান বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত হয়ে যায় সারাদেশ। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। পরে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ নিম্ন আদালতের পুরো রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান সাজাপ্রাপ্তদের পরিবার। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত শুনানির।
আরটিভি/এসএইচএম



